ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে গতকাল মঙ্গলবারও রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন করেছেন পোশাকশ্রমিকরা। সকালে মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনের নিচে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। বিক্ষোভকারীরা এক পুলিশ কনস্টেবলকে মারধর করে তার অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান। আন্দোলন দমনে স্ট্যাম্প হাতে শোডাউন করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। পুলিশ বলেছে, পোশাকশ্রমিকের ছদ্মবেশে থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গাজীপুরে শ্রমিকরা থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেন। বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধের চেষ্টা ও শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কায় ৬০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। হেমায়েতপুর ও কালিয়াকৈরে আতঙ্ক নিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল করে। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জে পুলিশের সংঘর্ষ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। এসব এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি, পুলিশ ও এসআরবির অতিরিক্ত সদস্য।
মিরপুর : টানা চতুর্থ দিনের মতো গতকাল সকালেও মিরপুরের পল্লবী শিল্পাঞ্চলে বিভিন্ন পোশাক কারখানার সামনে জড়ো হন শ্রমিকরা। ১০টার দিকে তারা মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনের নিচে সড়কে নামলে পুলিশ বাধা দেয়। শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল ও মেট্রো স্টেশনের কার্যক্রম। প্রায় এক ঘণ্টা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর শ্রমিকরা আশপাশের গলিতে সরে যান। এরই মধ্যে কালশী রোডে এক পুলিশ সদস্যকে একা পেয়ে তার ওপর হামলা চালায় আন্দোলনকারীদের একটি অংশ।
পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দীন বলেন, ‘থানা থেকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য মিরপুর ১১-এর দিকে যাচ্ছিলেন। দলছুট অবস্থায় পেয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে আমরা পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তারা পুলিশের ওপর হামলারত অবস্থায় ছিলেন। গ্রেপ্তাররা কোনো পোশাকশ্রমিক না। তারা আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের সদস্য বলে আমরা প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করেছি।’
সংঘর্ষের জেরে মিরপুর-১১ থেকে মিরপুর-১০ ও পল্লবীগামী সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। আটকা পড়ে স্কুল ইউনিফর্ম পরা অসংখ্য শিশু। গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকা শিশুদের চোখে-মুখে ছিল আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা। কিছুক্ষণ পরপর সাউন্ড গ্রেনেডের বিকট শব্দ, মানুষের ছোটাছুটি, চিৎকার ও ধোঁয়ায় ভীত হয়ে পড়ে তারা। কেউ কান্না করছিল, কেউ আবার অভিভাবকদের জড়িয়ে ধরেছিল। সন্তানদের নিরাপদে আগলে রাখেন অভিভাবকরা। কিন্তু সংঘর্ষ ও যান চলাচল বন্ধ থাকায় বাড়ি ফেরার পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না তারা। দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন কর্মজীবী মানুষ ও রোগীসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে বের হওয়া সাধারণ যাত্রীরাও। বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকে এবং ধীরে ধীরে সড়কে যানবাহন চলাচল বাড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে আসে। সাময়িক বন্ধ রাখা মেট্রো স্টেশনটিও আবার চালু করা হয়।
ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (পিওএম-দক্ষিণ) মোহাম্মদ তৌহিদুল আরিফ বলেন, ‘পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে দুষ্কৃতকারীরা অনুপ্রবেশ করেছে। শ্রমিক নেতারা আগের দিন আমাদের জানিয়েছেন, শ্রমিকরা আন্দোলন থেকে সরে আসবেন। এরপরও যারা বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন, তারা মূলত শ্রমিক নন, বরং দুষ্কৃতকারী। যারা এখন আন্দোলনে নামবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সরেজমিন দেখা গেছে, মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ও আশপাশের সড়কে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ইট-পাটকেল, স্যান্ডেল, খাবারের বাটি ও শ্রমিকদের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র। টিয়ারশেলের ঝাঁজালো ধোঁয়ায় পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়েন। রাস্তায় না নামার আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করে পুলিশ। আন্দোলনকারীদের দমনে দুপুর প্রায় ১২টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় স্ট্যাম্প হাতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিল করতে দেখা গেছে। অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ ও এসআরবি সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি জলকামান ও সাঁজোয়া যান প্রস্তুত রাখা হয়।
একটি দল অরাজকতার চেষ্টা করছে : মিরপুর এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটি দল আন্দোলনের নামে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।’ তিনি প্রশ্ন করে বলেন, ‘আন্দোলনে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের সদস্যরা কেন? যারা এ কাজ করছে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের অনেকে রাজনৈতিক দলের পোস্টধারী নেতা। তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।’
নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩৩ জন গ্রেপ্তার : ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন বলেছেন, ‘শ্রমিকদের এই আন্দোলন থেকে ছদ্মবেশে নাশকতাকারী কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ তবে আটককৃতদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি।
গাজীপুর : সকালে গাজীপুর মহানগরের নাওজোড় এলাকার প্যানিসিয়া লিমিটেড, কোনাবাড়ীর বে ফুটওয়্যার, মৌচাকের পূর্বানী এবং তেলিচালার লগোস অ্যাপারেলস ও এটিএস অ্যাপারেলসের শ্রমিকরা কারখানা থেকে বেরিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উড়ালসড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, শিল্প পুলিশ ও থানা-পুলিশ শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা করে। তবে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এদিকে আন্দোলনকারীদের আরেকটি অংশ কাশিমপুর থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করলে সেখানে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, দুপুর পর্যন্ত ৬০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিক নন, এমন সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গাজীপুরে আটজন, অন্যান্য জেলায় ১৫ জন এবং নারায়ণগঞ্জে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কেউ শ্রমিক নন।
কালিয়াকৈর : কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দিনভর অবরোধের চেষ্টা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সকাল থেকে পল্লীবিদ্যুৎ, মৌচাক, সফিপুর ও চন্দ্রা এলাকায় দফায় দফায় মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। বিজিবি, শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার পর যান চলাচল সচল হলেও আতঙ্কে যানবাহনের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। বিভিন্ন কারখানায় ছুটিও ঘোষণা করা হয়। নাশকতায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিক ও আন্দোলনকারী মিলে শতাধিক আহত হয়েছেন। বহিরাগতদের তৎপরতা ঠেকাতে সোমবার রাতে বাড়ির মালিকদের সতর্ক করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি ও সন্দেহজনক ভাড়াটে বা বহিরাগতদের বিষয়ে প্রশাসনকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছে কালিয়াকৈর পৌরসভা।
কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, শ্রমিকদের নামে ছদ্মবেশে বহিরাগতরা দেশকে অস্থিতিশীল করার সৃষ্টি করছে। এমন অভিযোগে দুই দিন অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হেমায়েতপুর : বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাভারের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এর আগে দুপুরে হেমায়েতপুর-সিংগাইর সড়কের পদ্মার মোড়ে জড়ো হন কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা। পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা হেমায়েতপুরে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কের উভয় পাশে যানজট সৃষ্টি হয়, ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নারায়ণগঞ্জ : দুপুর আড়াইটা থেকে ফতুল্লার কাঠেরপুল ও শিবু মার্কেট শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানা থেকে শ্রমিকরা বেরিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধের চেষ্টা করেন। পরে বেলা ৩টার দিকে শিবু মার্কেট, ফতুল্লা স্টেডিয়াম ও জালকুড়ি এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন তারা। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে শ্রমিকরা পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়লে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী জলকামান, সাঁজোয়া যান ব্যবহার করে এবং শতাধিক রাউন্ড টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের ইটপাটকেলের আঘাতে অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। লাঠিপেটা ও ধাওয়ায় আহত হন বেশ কয়েকজন শ্রমিক। এ সময় ১০-১৫টি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শ্রমিকদের সরিয়ে দিলে লিংক রোডে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নারায়ণগঞ্জে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ছিল।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, সংঘর্ষ, ভাঙচুরের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে শিবু মার্কেট এলাকা থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
শিল্প পুলিশ নারায়ণগঞ্জ ৪-এর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, শ্রমিকদের হামলায় পুলিশের ১০ থেকে ১২ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও ছবি দেখে উসকানিদাতাদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন : গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুরের সফিপুর, কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ী এলাকায় ১০ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় ২ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি আশুলিয়া ও মিরপুরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গতকাল বিজিবি সদর দপ্তর থেকে আরও জানানো হয়, মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি নজরদারিতে ড্রোন ও বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। সদর দপ্তরের কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে সরাসরি এসব ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।