হোয়াইট হাউজে কলহ কাদা ছোড়াছুড়ি

মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয় রিপাবলিকানদের

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৬ এএম

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি তোপ দাগলেন তারই ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স। নাম না নিয়েই তিনি বললেন পরাজয়ের জন্য দায়ী ইরান যুুদ্ধ ও নিত্যপণ্যের মূল্য। এই বক্তব্যের পর হোয়াইট হাউজের অন্দরে ‘কলহ’ শুরু হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করে ভান্স জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে আমেরিকানদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণেই রিপাবলিকানদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন ভোটাররা। পরাজয়ের জন্য ইরান যুদ্ধ যে দায়ী, তা পরোক্ষভাবে ট্রাম্প মেনে নিলেও তিনি যখন যুদ্ধনীতির যৌক্তিকতা বোঝাতে ব্যস্ত; ঠিক তখনই এই নীতি নিয়েই প্রশ্ন তুলে তুললেন ভান্স। সরাসরি না বললেও ট্রাম্পের ডেপুটি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত রিপাবলিকান পার্টির কাছে ব্যুমেরাং হয়েছে।

পক্ষান্তরে ট্রাম্প পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে ইরান যুদ্ধকে স্বীকৃতি দিয়েও বলেছেন যে, এই সিদ্ধান্তের জন্য তার কোনো অনুশোচনা নেই। প্রয়োজনে আবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। ভান্সের পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বুধবার ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি বিষয়টি (ইরান যুদ্ধ) নিয়ে উনি (ভান্স) কী ভাবছেন। আমার ধারণা ওটা (সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত) ভালোই ছিল। আমরা সেটা জানতাম। ওদের (ইরান) পরমাণু অস্ত্র তৈরি করা বন্ধ করে দিয়েছি। ওরা আর এই অস্ত্র   তৈরি করতে পারবে না।

গত বুধবার ৬০০ শব্দের  পোস্টে ভান্স লিখেন  ‘আমাদের পরাজয়ের কারণ যুদ্ধ। প্রেসিডেন্ট গত রাতে নিজেই সেটা বলেছেন।’ বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে, প্রকাশ্যে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধনীতিকে সমর্থন করলেও ঘরোয়া আলোচনায় একাধিক বার এর বিরোধিতাই করেছেন ভান্স। কিন্তু  প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্টের মতপার্থক্যের বিষয়টি এত দিন আড়ালে ছিল। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল সেই মতানৈক্য প্রকাশ্যে এনে দিল বলেই মনে করছেন অনেকে।

রিপাবলিকানদের শোচনীয় পরাজয়ের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্ব নিয়ে শুধু ভান্স নয় অনেকেই প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সিনেটর টেড ক্রজের মতো প্রভাবশালী নেতাও। পাশাপাশি দলটির একাধিক নেতা ও উপদল ট্রাম্প-পরবর্তী যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের জন্য নিজ নিজ অবস্থান শক্ত করতে শুরু করেছেন। অবস্থাদৃষ্টে তাই বলা যায়, ট্রাম্প-পরবর্তী নেতৃত্বের সেই লড়াই কার্যত শুরু হয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ এক দলের হাত থেকে অন্য দলের হাতে চলে যাওয়ার ঘটনা বিরল; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি মাত্র চতুর্থ ঘটনা। এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে রিপাবলিকান পার্টি এখন দ্বিমুখী সংকটের মুখোমুখি। একদিকে কংগ্রেসে সংখ্যালঘু দলে পরিণত হওয়া, অন্যদিকে নিজেদের দলীয় সারিতেই ক্ষমতার বিকল্প কেন্দ্র গড়ে ওঠা।  ভোটারদের এই রায়  ট্রাম্পের নেতৃত্বের পাশাপাশি অর্থনীতি, ইরান যুদ্ধ এবং সরকার পরিচালনার ওপর অসন্তোষেরই বহিঃপ্রকাশ।

তবে ট্রাম্প যেন তাতে থোরাই কেয়ার করেন। এই শোচনীয় রাজনৈতিক পরাজয়ের পরও ট্রাম্পের আত্মবিশ্বাসে কোনো ভাটা পড়েনি। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর গত বুধবার বিকালে প্রথমবারের মতো সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। সেখানে তার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিশংসনের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বিন্দুমাত্র চিন্তিত নই; বরং আমার মনে হয় তারা যদি এমনটা করে, তবে তা ডেমোক্রেটিক পার্টিকেই ধ্বংস করে দেবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত