দেশপ্রেম ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা জাগাতে ‘ও আমার দেশের মাটি’

কালজয়ী বাংলা গানের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম ও অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা তুলে ধরলেন ছয় শিল্পী।

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম

দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং মাটি ও মানুষের কথা নিয়ে রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘ও আমার দেশের মাটি’। কালজয়ী বাংলা গানের মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম, সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা জাগিয়ে তোলার আহ্বান জানানো হয় এ আয়োজনে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ‘২৭ ধানমন্ডি-গাই বাংলার গান পরিষদ’-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছয় শিল্পীর কণ্ঠে পরিবেশিত হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, প্রকৃতি, মাটি, মানুষ ও দেশপ্রেম নিয়ে রচিত বিভিন্ন কালজয়ী গান।

অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন মৌমিতা বড়ুয়া, মৌসুমি সরকার, খগেন্দ্রনাথ সরকার, বিজন মিস্ত্রি, মাহমুদুল হাসান ও তানজিনা তমা। তাঁদের পরিবেশিত গানের তালিকায় ছিল ‘ও আমার বাংলা মা তোর’, ‘একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়’, ‘চাষাদের মুটেদের মজুরের’, ‘একতারা তুই দেশের কথা’, ‘যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে’, ‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে’ ও ‘ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়েও খাঁটি’সহ আরও বেশ কিছু গান।

অনুষ্ঠানে আয়োজকদের বক্তব্যে বলা হয়, দেশের গান শুধু বিনোদন কিংবা সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যম নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জাতির ইতিহাস, আত্মপরিচয়, সংগ্রাম ও দেশপ্রেমের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন এবং মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে দেশাত্মবোধক গান বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। এসব গান মানুষকে সাহস জুগিয়েছে, ঐক্যবদ্ধ করেছে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ‘২৭ ধানমন্ডি-গাই বাংলার গান পরিষদ’-এর আহ্বায়ক ফজলুল কবীর তুহিন। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের গান করছি কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য নয়; করছি আমাদের দেশপ্রেম, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়কে নতুন করে জাগিয়ে তোলার দায়বদ্ধতা থেকে।’

তিনি আরও বলেন, দেশের গান একটি জাতির জন্মকথা, সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, স্বপ্ন ও ভালোবাসার ইতিহাস ধারণ করে। বর্তমান সময়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও দেশের গান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ফজলুল কবীর বলেন, ‘আমরা গান গাইতে চাই মানুষের জন্য, দেশের জন্য, স্বাধীনতা ও সর্বজনীনতার জন্য। আমাদের এই আয়োজন কোনো বিভাজনের নয়, সম্প্রীতির; কোনো সংকীর্ণতার নয়, মুক্তচিন্তার।’

আয়োজকদের প্রত্যাশা, দেশের গানকে ঘিরে এ ধরনের সাংস্কৃতিক উদ্যোগ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ঐক্য ও দেশপ্রেমের চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত