বিড়াল কীভাবে উঁচু থেকে লাফিয়ে সুস্থ থাকে

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২০ এএম

বিড়াল যখন ওপর থেকে পড়ে তখন ভারসাম্য রক্ষাকারী অঙ্গ দ্রুত বুঝতে পারে, সে কোন পজিশনে রয়েছে। এর ফলে পতন শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সে শূন্যে নিজের শরীর মোচড় দিয়ে ঘুরিয়ে নেয়, যাতে তার চার পা মাটির দিকে থাকে। এটি প্রাকৃতিক প্যারাসুটের মতো কাজ করে, যা বাতাসের বাধা বাড়িয়ে দেয় এবং বিড়ালের নিচে পড়ার গতি কমায়। মানুষের মতো বিড়ালের কলার বোন নেই। এ ছাড়া তাদের মেরুদণ্ড অত্যন্ত নমনীয় ও ফ্লেক্সিবল হওয়ায়, শূন্যে শরীরের সামনে এবং পেছনের অংশ আলাদাভাবে ঘোরাতে পারে। বিড়ালের পা লম্বা,  পেশিবহুল এবং কোনাকুনিভাবে শরীরের নিচে বিন্যস্ত। ফলে ল্যান্ড করার সময় তাদের পা স্প্রিং বা শক অ্যাবজরবারের মতো কাজ করে। এরপর শরীরের ওপর আসা আঘাতের তীব্রতা হাড় ও জয়েন্টের পেশিতে ছড়িয়ে মূল অঙ্গগুলো রক্ষা করে।  সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিড়ালের মেরুদণ্ডের বিশেষ নমনীয় অংশ তাদের এই কৃতিত্বের মূল চাবিকাঠি। এটি এতটা নমনীয় যে, মাঝ-আকাশে তারা নিজের শরীরকে দুভাগে ভাগ করে আলাদাভাবে ঘোরাতে পারে। পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বাইরের শক্তি ছাড়া ঘূর্ণন হওয়া কঠিন, তবুও বিড়াল তার শিরদাঁড়া ও শরীরের নমনীয়তা কৌশলের মাধ্যমে এই কাজটি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষমতা বিড়ালের বিবর্তনের ফল। শিকার ধরা, গাছে ওঠা বা বিপদ থেকে বাঁচতে গিয়ে তাদের এমন দক্ষতা তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত