টিউমার হলো শরীরের কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফল। ক্যানসারও হতে পারে তাতে! তাই বলে সব টিউমারই ক্যানসার নয়, সব টিউমার ক্ষতিকরও নয়। টিউমার সাধারণত দুধরনের হয়Ñ বিনাইন ও ম্যালিগন্যান্ট। বিনাইন টিউমার সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তবে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার ক্যানসারে রূপ নিতে পারে। ক্যানসার এবং টিউমারের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হলে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার দিকে নজর দিতে হবে।
ক্যানসারে রূপ ও লক্ষণ
টিউমারের দ্রুত বৃদ্ধি : যদি টিউমার দ্রুত বাড়তে থাকে এবং আকারে অস্বাভাবিক হয়, তবে এটা ক্যানসারের পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
আকৃতির পরিবর্তন : টিউমারের আকৃতি বা রঙ যদি বদলাতে শুরু করে, তবে ধরে নেবেন এটা ক্যানসারে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। টিউমারে গায়ে অস্বাভাবিক পি- তৈরি হওয়া ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
ব্যথা ও অস্বস্তি : যদি টিউমার অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হয়, তবে তা পরীক্ষা করা উচিত।
সহনীয় প্রদাহ বা রক্তপাত : টিউমারের জায়গায় লালচে ভাব, ফোলাভাব বা রক্তপাত হলে এটি বিপজ্জনক হতে পারে।
যেভাবে নিশ্চিত হবেন : টিউমার ক্যানসারে রূপ নিয়েছে কিনা জানার জন্য বেশ কিছু পরীক্ষা রয়েছে। যেমন- বায়োপসি, ইমেজিং টেস্ট, রক্ত পরীক্ষা, জেনেটিক টেস্ট ইত্যাদি।
বায়োপসি : টিউমারের একটি নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে কোষগুলো ম্যালিগন্যান্ট কিনা তা নির্ণয় করা যায়। এটি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।
ইমেজিং টেস্ট : এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই বা আলট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে টিউমারের অবস্থান ও
প্রকৃতি বিশ্লেষণ করা যায়।
কিছু পরীক্ষা
রক্ত পরীক্ষা : নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসার মার্কার (যেমন চঝঅ, ঈঅ-১২৫) রক্তে উপস্থিত থাকলে তা ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
জেনেটিক টেস্ট : কিছু টিউমার জেনেটিক মিউটেশন বা বংশগত কারণে ক্যানসারে রূপ নেয়। এই টেস্টের মাধ্যমে ঝুঁকি নির্ধারণ করা সম্ভব।
প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা : নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন। টিউমারে যেকোনো অস্বাভাবিকতায় দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বিনাইন টিউমার
থাকলে তা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করে ফেলা ভালো। ম্যালিগন্যান্ট টিউমার হলে চিকিৎসক রেডিও ও কেমোথেরাপি প্রয়োগ করতে চিকিৎসা করেন। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান-মদ্যপান থেকে বিরত থাকা এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করে ক্যানসার থেকে দূরে থাকা সম্ভব। টিউমার দেখা দিলেই ভয় পাবেন না। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা করালে অনেক ক্ষেত্রেই এটি সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কোনো লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।