ঢাকায় পোল্যান্ডের নোবেলজয়ীদের নিয়ে সাহিত্য আলোচনা

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম

বাংলাদেশ ও পোল্যান্ডের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা, পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্প্রসারণ এবং পোল্যান্ডের সমৃদ্ধ সাহিত্যিক ঐতিহ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের পাঠক ও সাহিত্যপ্রেমীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘পোল্যান্ডের নোবেলজয়ী সাহিত্যিকগণ’ শীর্ষক বিশেষ সাহিত্য আলোচনা অনুষ্ঠান।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১১টায় ‘পোলিশ কালচার ইন বাংলাদেশ’ আয়োজনের অংশ হিসেবে ‘পোল্যান্ডের নোবেলজয়ী সাহিত্যিকগণ’ শীর্ষক এ সাহিত্য আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে পোল্যান্ডের পাঁচজন নোবেলজয়ী সাহিত্যিকের জীবন, সাহিত্যকর্ম, সৃজনশীল দর্শন এবং বিশ্বসাহিত্যে তাদের অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতে নিযুক্ত পোল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ড. পিওত্র আন্তোনি শ্‌ভিতালস্কি। তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা জানানো হয়। বক্তব্যে তিনি সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পোলিশ ইনস্টিটিউট, নয়াদিল্লির পরিচালক মাউগোঝাতা ভেইসিস।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন কবি ও পোলিশ সাহিত্যের অনুবাদক অনন্ত উজ্জ্বল। তিনি কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরার পাশাপাশি পোল্যান্ডের সাহিত্যিক ঐতিহ্য, নোবেলজয়ী লেখকদের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব এবং বাংলা ভাষায় বিশ্বসাহিত্যের অনুবাদ ও পরিচিতি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেন।

আলোচনা মূল পর্বে পোল্যান্ডের পাঁচজন নোবেলজয়ী সাহিত্যিকের জীবন, সৃষ্টিকর্ম ও সাহিত্যিক অবদান নিয়ে পৃথক প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।

১৯০৫ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত পোলিশ কথাসাহিত্যিক হেনরিক সিয়েনকিয়েভিচের জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা করেন মো. মহিন উদ্দিন মিজান। ১৯২৪ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত ঔপন্যাসিক ভ্লাদিস্লাভ রেইমন্তের সাহিত্যিক অবদান তুলে ধরেন তানজিদা ইসরাত জাহান ঋতু।

১৯৮০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি ও প্রাবন্ধিক চেস্লাভ মিউশের সাহিত্যভাবনা ও সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আলোচনা করেন আসিফ রহমান সৈকত। ১৯৯৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি ভিস্লাভা শিম্বোরস্কার কবিতা ও সাহিত্যদর্শন তুলে ধরেন সৌমেন্দ্র গোস্বামী। এ ছাড়া ২০১৮ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত সমকালীন পোলিশ কথাসাহিত্যিক ওলগা তাকারচুকের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও সৃজনশীল বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করেন উম্মে রুম্মান ঊষা।

আলোচকেরা পোল্যান্ডের সাহিত্যিক ঐতিহ্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট লেখকদের রচনায় ইতিহাস, জাতীয় পরিচয়, মানবিক মূল্যবোধ, স্বাধীন চিন্তা, ব্যক্তিসত্তা, সমাজবাস্তবতা ও মানবজীবনের বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতার প্রতিফলন নিয়ে আলোচনা করেন। বিশ্বসাহিত্যে পোলিশ লেখকদের অবদান এবং বাংলা ভাষায় তাদের সাহিত্যকর্মের অনুবাদ ও পাঠচর্চার সম্ভাবনাও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

মূল আলোচনা শেষে সমাপনী মূল্যায়ন ও অভিমত ব্যক্ত করেন বিশিষ্ট অভিনেতা, নাট্যকার ও অনুবাদক খায়রুল আলম সবুজ।

এরপর পোলিশ ইনস্টিটিউট, নয়াদিল্লির পরিচালক মাউগোঝাতা ভেইসিসের অংশগ্রহণে মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে পোলিশ সাহিত্য, অনুবাদচর্চা, সাংস্কৃতিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ ও পোল্যান্ডের মধ্যে সাহিত্যিক বিনিময়ের বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে ঢাকায় পোল্যান্ডের অনারারি কনস্যুলেটের প্রতিনিধির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জানানো হয়।

আয়োজনে সাহিত্যকে দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি পোল্যান্ডের নোবেলজয়ী সাহিত্যিকদের সৃষ্টিকর্ম বাংলাদেশের পাঠকদের কাছে আরও ব্যাপকভাবে পরিচিত করা এবং দুই দেশের সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সাহিত্যভিত্তিক উদ্যোগ বাংলাদেশ ও পোল্যান্ডের বিদ্যমান সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করবে এবং সাহিত্য, অনুবাদ ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত