প্রকৃতি ও ক্যানভাসে রঙের মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন শিল্পী রেজাউল হক

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম

প্রকৃতির রূপ, রং ও সৌন্দর্য ক্যানভাসে তুলে ধরেছেন চিত্রশিল্পী মো. রেজাউল হক। রাজধানীর লালমাটিয়ায় গ্যালারি মাফায় শুরু হয়েছে তার তৃতীয় একক চিত্রপ্রদর্শনী ‘প্রকৃতি ও আমার ক্যানভাস’।

শনিবার (৭ নভেম্বর) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রদর্শনীটির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

প্রদর্শনীতে প্রকৃতির নানা রূপ, রং ও সৌন্দর্য শিল্পীর নিজস্ব চিত্রভাষায় ফুটে উঠেছে। প্রকৃতির বৈচিত্র্য ও নান্দনিকতা তুলে ধরার পাশাপাশি ক্যানভাসে প্রতিফলিত হয়েছে শিল্পীর ব্যক্তিগত অনুভূতি ও শিল্পভাবনা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুন নবী। বিশেষ অতিথি ছিলেন চিত্রশিল্পী অধ্যাপক আবুল বারক আলভী এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক প্রধান ডিজাইনার ও শিল্পী আবদুল মান্নান। 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ও চিত্রশিল্পী অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হক।

অধ্যাপক রফিকুন নবী বলেন, ‘রেজার (রেজাউল হক) প্রদর্শনীতে আমার অনেক পুরোনো ছাত্রছাত্রীকে একসঙ্গে দেখতে পেয়ে ভালো লাগছে। রেজা নওগাঁয় থেকেও নিয়মিত ছবি আঁকছে। মফস্বলে অবস্থান করেও তার চিত্রচর্চা অব্যাহত রাখা প্রশংসনীয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণত মফস্বলের শিল্পীদের মধ্যে ল্যান্ডস্কেপ ও বাস্তবধর্মী প্রতিকৃতি আঁকার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। তবে রেজার কাজে আধুনিক মনস্কতা ও নিজস্ব শৈলীর প্রকাশ রয়েছে। তার অসংখ্য কাজের মধ্যে শিল্পচর্চার প্রতি আন্তরিকতা ও নিমগ্নতা লক্ষ করা যায়। ছাত্রজীবনে তাকে দুই বছর পড়ানোর সুযোগ হয়েছিল। তখন থেকেই তার কথাবার্তায় বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তার পরিচয় পাওয়া যেত, যা এখনো রয়েছে। সে ভালো ছাত্রদের একজন ছিল।’

চিত্রশিল্পী রেজাউল হক বলেন, ‘আমার প্রদর্শনীর নাম “প্রকৃতি ও আমার ক্যানভাস”। প্রকৃতি থেকেই ছবি আঁকার অনুপ্রেরণা পাই। প্রকৃতিকে দেখি, উপলব্ধি করি এবং সেই অনুভূতি রং ও ফর্মের মাধ্যমে ক্যানভাসে তুলে ধরার চেষ্টা করি। আমার কাজের মধ্যে অ্যাবস্ট্রাক্ট ও সেমি-অ্যাবস্ট্রাক্ট ফর্মের ব্যবহার রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি ছবি কতটা সার্থক কিংবা দর্শকের কাছে কতটা ভালো লাগল, তা দর্শকরাই বিচার করেন। তবে নিজের কোনো কাজকেই আমি চূড়ান্তভাবে সফল মনে করি না। আমার মনে হয়, আরও কাজ করতে হবে, আরও এগিয়ে যেতে হবে। নতুন কিছু সৃষ্টির আনন্দই আমার শিল্পচর্চার মূল প্রেরণা।’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চিত্রশিল্পী অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হক বলেন, ‘রেজা (রেজাউল হক) আমার রুমমেট ছিল। সে খুব রোমান্টিক ও কল্পনাপ্রবণ মানুষ। একজন শিল্পীর সৃষ্টিশীলতার জন্য কল্পনাশক্তি জরুরি, যা রেজার মধ্যে সব সময়ই ছিল। নওগাঁর মতো মফস্বল শহরে থেকেও সে নিয়মিত শিল্পচর্চা চালিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রেজার ইচ্ছা, তার ছবি যেন সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছায়। এ কারণে ছবির দামও তুলনামূলক কম রাখতে চায়, যাতে আগ্রহীরা সহজেই ছবি সংগ্রহ করতে পারেন। আমরা চাই, এই গ্যালারি শিল্পচর্চা, আড্ডা ও নতুন শিল্পীদের প্রদর্শনীর জায়গা হয়ে উঠুক। পাশাপাশি শিশুরাও যেন ছোটবেলা থেকে শিল্পের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়।’

প্রদর্শনীটি চলবে আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত গ্যালারি মাফায় দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত