‘দ্য পাওয়ার অব নাউ’ বইয়ের সাত শিক্ষা

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০৭ এএম

জার্মানিতে জন্ম নেওয়া আধ্যাত্মিক শিক্ষক একহার্ট টোলের লেখা ‘দ্য পাওয়ার অব নাউ’ বইটি ১৯৯৭ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। বইটি বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ পাঠকের কাছে পৌঁছেছে। অতীতের আক্ষেপ আর ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তার ভিড়ে মানুষ কীভাবে বর্তমানে ফিরতে পারে, বইটির মূল প্রশ্ন সেটাই। বই থেকে পাওয়া সাতটি উপলব্ধি নিয়ে লিখেছেন আলমাস তাহমিদ

বর্তমানই একমাত্র বাস্তবতা

সবার জীবনের সবকিছু ঘটে বর্তমানে, অতীত শুধু স্মৃতি আর ভবিষ্যৎ শুধু কল্পনা। অথচ সবাই বেশিরভাগ সময় কাটায় এই দুইয়ের মধ্যে। পরীক্ষার ফল নিয়ে দুশ্চিন্তা কিংবা পুরনো ভুল নিয়ে আফসোস করতে করতে আজকের দিনটাই হাত থেকে ফসকে যায়। সামনের পরীক্ষায় কেমন করব, সেই ভাবনায় ছাত্ররা বর্তমানকে বলিদান দিয়ে বসে। বইটি মনে করিয়ে দেয়, জীবন কেবল ‘এখন’-এ বেঁচে থাকা যায়, আর ‘এখন’ এই বেঁচে থাকা উচিত।

চিন্তা ও সত্ত্বা এক নয়

মাথার ভেতরে অবিরাম যে কথোপকথন চলে, অনেকেই সেটাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখে, আপন করে নেয় এবং সেই চিন্তা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু লেখকের মতে, চিন্তা মানুষের মনের ভেতরের একটি যন্ত্রের মতো, এটি একটি মানুষের সম্পূর্ণ সত্তা নয়। ‘আমি যথেষ্ট ভালো নই’ বা ‘ও হয়তো আমার ভালো চায় না’, এমন ভাবনা এলেই সেটা সত্যি হয়ে যায় না। একহার্ট টোলের মতে চিন্তা আর নিজেকে আলাদা করে দেখতে পারলে মন অনেক হালকা হয়, আবার নিজেকেও চেনা যায়।

অতীত ও ভবিষ্যতের বোঝা নামানো

বইয়ে অতীতের অনুশোচনা ও ভবিষ্যতের উদ্বেগকে মানসিক কষ্টের বড় উৎস বলা হয়েছে। চাকরি পাব কি না, বন্ধুরা এগিয়ে গেল কি না, এসব ভাবনায় অনেকেই বর্তমানের শক্তিটাকে নষ্ট করি। কিন্তু সামনের পদক্ষেপটা কী, সেটুকু ভাবাই সাধারণত যথেষ্ট। বাকিটা আসবে নিজের সময়মতো, যার ওপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

যা ঘটছে, তাকে মেনে নেওয়া

মেনে নেওয়া মানে হাল ছেড়ে দেওয়া নয়। এর অর্থ হলো, পরিস্থিতির সঙ্গে অকারণে লড়াই না করে বাস্তবতাকে চিনে নেওয়া এবং পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত হওয়া। ফল খারাপ হলে বা পরিকল্পনা ভেস্তে গেলে প্রথমেই বলা উচিত, ‘এটাই এখন সত্যি, যা হয়েছে আমি মেনে নিলাম।’ তারপর ভেবে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য। লেখকের মতে, এই আত্মস্বীকৃতি থেকেই সঠিক পদক্ষেপ আসে।

নীরবতা ও নিঃশ্বাসকে অনুভব করা

বইটি বারবার ‘নিঃশ্বাস’ ও ‘নীরবতা’র কথা বলে। কয়েক মিনিট চোখ বন্ধ করে নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসে মনোযোগ দিলে মন শান্ত হয়। ফোন আর নোটিফিকেশনের এই যুগে প্রতিদিন কিছুটা

সময় পুরোপুরি চুপ থাকা তরুণদের জন্য বিশেষভাবে জরুরি।

নিজের আবেগকে দূর থেকে দেখা

কোনো কারণে রেগে গেলে বা মন খারাপ হলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে নিজেকে লক্ষ করার অভ্যাস করা উচিত। ‘আমি এখন রেগে আছি’ কথাটা খেয়াল করতে পারাই আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনার প্রথম ধাপ।

দিনের কয়েক মিনিট নীরবে বসে নিজের ভাবনাচিন্তাগুলোকে আলাদা করে দেখলে ভাবনার পার্থক্য বোঝা যায়।

ছোট ছোট মুহূর্তে মনোযোগ দেওয়া

চা খাওয়া, হাঁটা, বন্ধুর সঙ্গে কথা বলা, যেকোনো কাজে সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া উচিত। যেমন খাওয়ার সময় ফোন স্ক্রল না করে খাবারের স্বাদটাকে বোঝার চেষ্টা করা, কথা বলার সময় মন দিয়ে শোনা। এই ছোট অভ্যাসগুলোই ধীরে ধীরে বর্তমানে থাকার ক্ষমতা তৈরি করে।

শিক্ষার্থী, চতুর্থ বর্ষ, ইংরেজি বিভাগ, ইউল্যাব

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত