ঢাকার বিষণ্ন বিকেল। আশপাশে ধুলা, নির্মাণসামগ্রীর স্তূপ। রাস্তার এক পাশে কালো আর ভীষণ ময়লা পানি। সেই পানি পার হওয়ার জন্য দুটোমাত্র ইট পাতা। কেউ একটু অসাবধান হলেই ময়লা পানিতে পড়ে আহত বা অসুস্থ হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা। অথচ সেই পানি এক হাতে কোলের বাচ্চা, অন্য হাতে আরেক শিশুকে নিয়ে পার হচ্ছেন এক মা।
সেই মা হয়ে উঠলেন রাজধানীর অব্যবস্থাপনার, অনিরাপত্তার, একজন মায়ের একাকী তার সন্তানকে বয়ে নিয়ে যাওয়ার, কষ্টকর অথচ মধুর এক প্রতিচ্ছবি।
ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া সেই ছবিটি তুলেছেন সাইফুল ইসলাম। ছবি তোলা তার নেশা। সেদিনও কোনো এক কাজে গিয়েছিলেন মিরপুরের কাজীপাড়ায়। সেখানে কিছুক্ষণ তাকে অপেক্ষা করতে হচ্ছিল। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তিনি দেখছিলেন নোংরা সেই পানি পার হয়ে মানুষের আসা-যাওয়া।
মনে মনে ভাবছিলেন কত কষ্টই না করতে হয় এখানকার নাগরিকদের। নিজের ক্যামেরার এক্সপোজার ঠিক করে অপেক্ষা করছিলেন একটি ছবি তুলে রাখার।
তখনই তার সামনে আবির্ভূত হন সেই মহিমাময়ী মা। জীবনের প্রতি মুহূর্তে সন্তানকে আগলে রেখে যিনি লালন-পালন করেন।
রাজধানীর অব্যবস্থাপনা তার সেই সংগ্রাম আরো কঠিন করে তুলেছে। এই অনিশ্চয়তার পারাপার কবে শেষ হবে তা জানা নেই কারও। তারপরও একজন মায়ের কোমল ও কঠোর অবয়ব ভালো লেগেছে সবার।
ছবিটি নিয়ে দেশ রূপান্তরকে নিজের ভাবনাগুলো এভাবে প্রকাশ করেন সাইফুল ইসলাম।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তিনি চাকরি করছেন। জানালেন, ছবি তোলাটা তার নেশা।
২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের দিনে ছবিটি তিনি ফেসবুকে আপ করেন। তারপর থেকে এ পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজার শেয়ার হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের দিনে আরেক সংগ্রামী বাংলাদেশ হয়ে উঠল তার ছবিটি।
সাইফুল ইসলাম বলেন, মূলত রাস্তার ছবি তুলতে আমার আগ্রহ বেশি। ঘুরে ঘুরে ছবি তুলে থাকি।
'সেদিন দেখলাম ওই পানিটা অনেক নোংরা। এ এলাকার মানুষ বহুদিন যাবৎ এই কষ্ট মেনে নিচ্ছে মুখ বুজে। মানুষের কষ্টটা তুলে ধরা একটা লক্ষ্য ছিল। পাশাপাশি একজন মা তার সন্তান লালন-পালনে কত ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন তা দেখানো।'
'আমি আসলে দেখাতে পেরেছি উপযুক্ত সাবজেক্টগুলো সেখানে উপস্থিত ছিল বলে'।
