চীন-ভারত দ্বন্দ্বে উগ্র জাতীয়তাবাদ অভিলাষ

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৩, ১০:১৫ পিএম

উপনিবেশবাদ হোক, চাই কি সাম্রাজ্যবাদ, এটি একটি ভাইরাস। প্রকোপ কমে, বহু বছর পেরিয়ে পুনর্জাগরণ ঘটে তার। মাঝে শীতঘুম দেয় ঠিক সাপের মতো। প্রাণীদেহ তা গোপনে বহন করে। এভাবে জীবজন্তুর শরীর থেকে সংক্রমিত হয় মানবদেহে। পুনরায় মানবদেহ থেকে জন্তুর ভেতর। কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র উত্তরাধিকার সূত্রে কিংবা ঐতিহ্যগতভাবে পেয়ে থাকে পুরনো প্রভুর সাম্রাজ্যবাদ বা সম্প্রসারণবাদের বীজ। সেই বীজ পুষ্ট হতে থাকে নানা কেন্দ্রকে ভর করে। সবচেয়ে ভয়ংকর কেন্দ্রগুলো হচ্ছে উগ্র জাতীয়তাবাদ, ধর্ম, বর্ণবাদ আর সম্প্রসারণবাদের আকাক্সক্ষা। সেই আকাক্সক্ষার উচ্চমাত্রায় পা ফেলেছে আজকের চীন আর ভারত। এ ভারত মোহন চাঁদ করম চাঁদ গান্ধীর ভারত নয়। মাও সে তুংয়ের চীনও নয়। এ হচ্ছে নতুন ধরনের নতুন আকাক্সক্ষার দেশ। নতুন শাসকদের দেশ।

চীন-ভারত প্রসঙ্গ উঠলেই রাজনৈতিক ব্যাখ্যাকারদের সামনে এসে দাঁড়ায় ভয়ংকর একটি শব্দ ‘এথনিক ন্যাশনালিজম’ বা নৃ-রক্তধারা গোষ্ঠীভিত্তিক জাতীয়তাবাদ। মনে পড়ে, হিটলারের তথাকথিত আর্যরক্তবাহী নরকুল শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার জার্মান জাত্যভিমান বা কৌলীন্যবাদের কথা। এর পেছনের ইতিহাসটা হচ্ছে মধ্যযুগ। গোত্রে গোত্রে লড়াই। ধর্মে ধর্মে লড়াই। আধুনিক সভ্যতা এসব বিষবৃক্ষের বন ধ্বংস করলেও বীজের বিনাশ সাধন করতে পারেনি। তাই আজ কবরগুহা থেকে এর উত্থান। ইউরোপীয় রেনেসাঁ, আধুনিক গণতন্ত্রের উদ্ভব এবং সবশেষ বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের উদ্ভব ও মাত্র কয়েক শতকে এর পিছু হটার পরিণাম আজকের এই অবস্থা।

কেন এমনটা ঘটল? সমাজতন্ত্রের ভুল প্রয়োগ, সাম্রাজ্যবাদের চক্রান্ত এবং সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর পতনের ফলে পুঁজিবাদ দানুবে শক্তি সঞ্চয় করে পুনরুত্থিত হয়েছে। সমাজতান্ত্রিক পতাকা হাতে কমিউনিস্ট পার্টির নাম ধারণ করে আজ যে চীনের উত্থান, তা প্রকৃতপক্ষে সম্প্রসারণবাদী-পুঁজিবাদী একটি দেশ। তার ‘সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতি’ নামের যে প্রচার, তা আদতে একটি ভোগাস তত্ত্ব। মাও সে তুং এবং চৌ এন লাইয়ের মৃত্যুর (রহস্যজনক মৃত্যু) পার্টির ভেতর ঘাপটি মেরে পড়ে থাকারা যারা পুঁজিবাদের ছদ্মবেশী সেবক, তারা ক্ষমতা দখল করে। বর্তমান চীন আসলে কমিউনিস্ট ছদ্মবেশী স্বৈরতান্ত্রিক পুঁজিবাদী দেশ। ঠিক যেমন ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের লেনিন ও স্তালিন-পরবর্তী বাস্তবতা। লেনিন ও স্তালিনের মৃত্যুর ঘটনাও রহস্যে ঘেরা।

ভারত কোনোদিনই সমাজতান্ত্রিক দেশ ছিল না। বরাবরই ছিল পুঁজিবাদী দেশ। বরং বলতে হয় ব্রিটিশ পুঁজিবাদের উত্তরসূরি। জহরলাল নেহরু-পরবর্তী বর্তমান বিজেপি শাসকদের উত্থানের পূর্ববর্তী পর্যন্ত ওই যে বলা হতো গণতন্ত্র (বহুদলীয়), সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা বা জোটনিরপেক্ষতার কথা, তা আসলে রাষ্ট্রটির অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার রাজনৈতিক কৌশল। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রের মতো ভারতবর্ষের ভেতরও আজ সমাজতান্ত্রিক ভাবধারা, আদর্শ বা রাজনীতি হীনবল হয়ে পড়েছে। জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক যুক্তিবাদ চর্চায় ভাটা পড়েছে। ফাটল ধরেছে প্রগতিবাদ চিন্তা-চর্চায়। দ্রুত উপযুক্ত ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে যুক্তি আর বুদ্ধির উল্টো দিক অন্ধবিশ্বাস অর্থাৎ প্রতিক্রিয়াশীলতা। সেই ফাটলের ভেতর দিয়ে আগ্নেয়গিরির ধোঁয়া সর্পিল গতিতে যেমনি বেরিয়ে আসে, তেমনি প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ছে। সমাজ সামনের আলোর পথ ছেড়ে পেছনে হাঁটছে ভৌতিক অন্ধকারে। সব গণতান্ত্রিক রাজনীতি পিছু হটছে, প্রগতিবাদ মুখ থুবড়ে পড়েছে।

ভারতের গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য নেই। জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দিতে পারে এমন নেতার বড়ই অভাব। রাজনৈতিক মহান আদর্শের চেয়ে অনেক বড় হয়ে উঠেছে ক্ষমতার মোহ। গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে দুর্বল করা হয়েছে। জনগণ তাদের প্রতি হতাশ হয়েছে। ক্ষমতাশীলদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনও করতে ব্যর্থ। কে হবে প্রধানমন্ত্রীর মুখ এ নিয়ে দ্বন্দ্ব। সবার লোভ ওই গদির দিকে। এই অনৈক্যের ফায়দা তুলছে বিজেপি। তাই আজ ধর্মনিরপেক্ষতা দুর্বল হয়ে সাম্প্রদায়িকতা শক্তিশালী হয়েছে। গণতন্ত্র হীনবল হয়ে পড়েছে। স্বৈরাচার অপ্রতিরুদ্ধ হয়ে হিংস্র রূপ নিয়েছে। উত্থান ঘটেছে উচ্চবর্গীয় হিন্দুত্ববাদ। নিম্নবর্গ হিন্দু বা দলিত শ্রেণির প্রতি বিদ্বেষ আর ঘৃণা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছে ব্রাহ্মণ্যবাদী, ‘মনুসহিংসতা’বাদী উচ্চবর্গের শ্রেণি। রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণশক্তির সব কয়টি উচ্চপদ ব্রাহ্মণদের হাতে। অর্থনীতিও নিয়ন্ত্রণ করে উচ্চবর্গীয়রা। নিম্নবর্গ কেবল ভোটদাতা। অর্থ-ক্ষমতার ধারেকাছেও নেই তারা। ভোটও তাদের ইচ্ছাধীন নয়। তাই তো উত্থান ঘটেছে ‘মনুবাদী’ উগ্র হিন্দুত্ববাদ, হিন্দুত্ববাদী উগ্র জাতীয়তাবাদ। চীন বা অপরাপর রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণ এটাই। স্বপ্নের ভেতর প্রাচীন ভারত। গুপ্তযুগের ভারত। যে ভারতের সীমানা ছিল বিশাল। আফগানিস্তানের বিশাল এক এলাকা পর্যন্ত। সাংস্কৃতিক প্রভাব ছিল ইন্দোনেশিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে। এক অতিকল্প পৌরাণিক ভারত ঝলকে ওঠে বর্তমান নেতাদের অন্তরাত্মায়। সেই কল্পিত মহাকাব্য ‘রামায়ণ’ আর ‘মহাভারত’। লঙ্কার যুদ্ধ, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ। অন্ধ উন্মত্ত আকাক্সক্ষা।

বর্তমান চীন আর ভারত দুটো রাষ্ট্রেই উত্থান ঘটেছে উগ্র ন্যাশনালিজমের। তাদের পররাষ্ট্রনীতির বদল ঘটে। চীনে কমিউনিস্ট বিপ্লব ঘটলেও বিপ্লব আদর্শে ঘাপটি মেরে ছিল উগ্র জাতীয়তাবাদ। শুধু মাও সে তুংয়ের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবই নয়, একই সঙ্গে চলছিল চিয়াং কাইশেকের জাতীয়তাবাদী যুদ্ধ। স্মৃতি সেই আফিম যুদ্ধ। মোটকথা, চীন-ভারত দুটো দেশই সম্প্রসারণবাদ, আধিপত্যবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের উত্তরাধিকারী। কমিউনিস্ট চীনের আদর্শগত পতনের কারণ অনেক কিছু। উপাদান বহুতর। অন্যতম হচ্ছে উগ্র জাতীয়তাবাদ। সমাজতন্ত্র বা সাম্যবাদের দুশমন হচ্ছে জাতীয়তাবাদ। যে সমাজতন্ত্রের সঙ্গে জাতীয়তাবাদের ভেজাল মিশেল হয়, সে সমাজতন্ত্রে পচন ধরে। যেমনটা ঘটেছে চীনে।

চীনাদের ভারতবিদ্বেষ নতুন নয়। সেই ঔপনিবেশিক ইংরেজ জমানা থেকে। ভারতবর্ষের কৃষকদের দিয়ে উনিশ শতকে আফিম চাষ করে ব্রিটিশরা চীনের বাজারে বিক্রি করত। ভয়ংকর সেই মাদক চীনে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করে চীনা শাসকরা। বেধে যায় চীনাদের সঙ্গে ইংরেজের যুদ্ধ, যা খ্যাত হয় প্রথম-দ্বিতীয় আফিম যুদ্ধ নামে। সেই যুদ্ধে চীনের পরাজয়ের মূলে ছিল ইংরেজ বাহিনীর ভারতীয় সৈন্যরা। তখন চীনের বন্দর শহর ক্যান্টন আর সাংহাইয়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করে ইংরেজ বাহিনীর ভারতীয় সৈন্যরা। তাই চীনারা ভারতীয় সেনাদের বলত ইংরেজের পোষা কালো চামড়ার চাকর-নফর। চীনাদের ভারতবিদ্বেষ সেখান থেকেই শুরু। পরে চীনের তিব্বত দখলের সময় ভারত দালাইলামাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিলে বিদ্বেষ আরও বাড়ে। একাত্তরের যুদ্ধে বাঙালিদের বিরুদ্ধে চীনারা পাকিস্তানের পক্ষে থাকার পেছনেও কাজ করেছিল ভারতবিদ্বেষ। বর্তমান ভারতের অর্থনৈতিক উত্থানকেও চীনারা ভালো চোখে দেখে না প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে।

ঐতিহাসিক ঘটনা হচ্ছে এটাই যে, ভারত যেমনি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের উত্তরাধিকারী, ঠিক তেমনি চীনও প্রাচীন সিং সাম্রাজ্যের অনুসারী। অথচ একদিন দুটো রাষ্ট্রই ছিল সাম্রাজ্যবাদ-উপনিবেশবাদবিরোধী সংগ্রামের কেন্দ্রভূমি। ইতিহাস দেখাচ্ছে যে, প্রাচীন চীনের সিং সাম্রাজ্যের বিস্তার ছিল মাঞ্চুরিয়া, মঙ্গোলিয়া, মুসলিমপ্রধান শিনজিয়াং এবং লামা বৌদ্ধপ্রধান তিব্বত। বর্তমানে মঙ্গোলিয়া ছাড়া সব ভূমিই চীনের দখলে, কিন্তু প্রাচীন সাম্রাজ্যের স্মৃতি ভুলতে পারেনি বর্তমান চীনারা। মাঝেমধ্যেই তারা দেশের মানচিত্র প্রকাশ করে। একবার তো মানচিত্রে দেখিয়ে দিল তিব্বত থেকে নেপাল, ভুটান, সিকিম, আসাম, মেঘালয়, বাংলাদেশের সিলেট-চট্টগ্রাম, ভারতের মিজোরাম মণিপুর-নাগাল্যান্ড হয়ে বার্মা (মিয়ানমার), থাইল্যান্ড তাদের দেশ। অন্যদিকে দেখাল ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া, এমনকি জাপানের বহু দ্বীপও তাদের। 

অন্যদিকে ’৪৭-পরবর্তী ভারত কী করল? দেশীয় রাজ্য হায়দরাবাদ, জুনাগড়, পণ্ডিচেরি, গোয়া, দমন, দিউ, কাশ্মীর দখল করে বসল সেনা পাঠিয়ে। পারল না লাদাখ, নেফার পুরোটা কবজা করতে। সামনে দাঁড়িয়ে চীন। অন্যদিকে চীন-ভারত বুঝতে পারল বড় ধূর্ত জাতি ইংরেজ। তারা চীন-ভারতের অচিহ্নিত সীমান্ত রেখে দিয়ে সটকে পড়ে। যাওয়ার আগে ম্যাকমোহন লাইন নামে কাল্পনিক সীমানা নির্দেশ করে যায়। এ যেন দুই রাক্ষসের পাহাড় ভাগের মতো। উত্তরের পাহাড় তোর, দক্ষিণেরটা আমার। তো মাঝখানে যে রয়েছে মাইলের পর মাইল জমি, নদী তার বেলা? জনমানবশূন্য পাথুরে ভূমি, শূন্যের কাছাকাছি তাপমাত্রা। তাই নিয়ে লড়াই দুই দেশের। এ হলো ভূমির লোভ, দেশের আকার বৃদ্ধির ঝগড়া। ভারত ও চীন সাংবিধানিকভাবে দাবি করে ওরা প্রজাতান্ত্রিক ও গণপ্রজাতান্ত্রিক দেশ। খুব উত্তম কথা। কিন্তু তাদের আচরণ, চিন্তায় ও রাজনীতিতে এর প্রতিফলন আছে কি? দেখেশুনে মনে হয় ওরা উভয়েই রাজতান্ত্রিক, একনায়কতান্ত্রিক দেশ। পার্থক্য এক দেশে ভোট হয়, অন্যটিতে হয় না। সংবিধানটা তাদের বাইরের পোশাক, ভেতরে অন্যকিছু। ওই সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ তার বিখ্যাত উপন্যাস ‘লালসালু’তে বলেছেন, ‘বাইরে কোট-টাই-প্যান্ট পরা সাহেব, ভেতরে মুসলমান, নব্যশিক্ষিত মুসলমান।’ চীন-ভারত হতে পারে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-কমিউনিস্ট কিংবা নাস্তিক বা আস্তিক, কিন্তু ভেতরটা সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ।

বিপ্লবের পর চীনা কমিউনিস্ট পার্টি জনগণকে নির্দেশ দিয়েছিল পার্টি ও বিপ্লবের প্রতি শর্তহীন অনুগত থাকতে। এখন বলছে সরকার আর দেশের প্রতি অনুগত থাকতে। ভারতও স্বাধীনতার পর বলত ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতি অনুগত থাকতে, এখন বলছে হিন্দুত্ববাদের প্রতি অনুগত থাকতে। বর্তমান চীন কী ব্যবহার করছে শিনজিয়াং প্রদেশের সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলমানদের প্রতি? কী আচরণ করছে তিব্বতি লামা বৌদ্ধদের প্রতি? আর ভারত? শাসকরা হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদে সন্তুষ্ট নয়, তারা চায় উচ্চবর্ণ হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদ। দেশের সংখ্যালঘু মুসলমান ও নিম্নবর্গের হিন্দু বা দলিত হিন্দু শাসকদের কাছে সমার্থক। নিকৃষ্ট! ভারত-চীনের সীমান্ত সংঘাত আসলে চীনের অহংবোধের ‘হান’ নৃতাত্ত্বিক উগ্র জাতীয়তাবাদ বনাম আর্য ভারতীয় ব্রাহ্মণ্যবাদী উগ্র জাতীয়তাবাদের দ্বন্দ্ব-সংঘাত। উভয়ের আত্মাভিমান ক্রমেই ঊর্ধ্বসীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বাঙালিদেরও এই ভয়ংকর উগ্র জাতীয়তাবাদ অর্থাৎ বাঙালি জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। চিরবঞ্চিত, দরিদ্র বাঙালি একদিন না একদিন এশিয়ার অন্যতম উন্নত-ধনী রাষ্ট্রে রূপ নেবে, অবশ্যই আনন্দের কথা। কিন্তু ভুললে চলবে না এ দেশেও ভাষাগত, ধর্মগত, নৃতত্ত্বগত আদিবাসী আর পাহাড়ি জনজাতিরাও রয়েছে। বাঙালি জাতীয়তাবাদ যেন তাদের প্রতি আগ্রাসী রূপ না নেয়। বাঙালি জাত্যাভিমান চীনা-ভারতীয় জ্যাতাভিমানের চেয়ে ভয়ংকর কম নয়। আটকে পড়া বিহারি উর্দুভাষীদের প্রতি বাঙালির দায় আছে, ভুললে চলবে না।

হরিপদ দত্ত : কথাশিল্পী

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত