মিয়ানমারের সামরিক জান্তার নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়া আসা রোহিঙ্গারা নোয়াখালীর ভাসানচর ও কক্সবাজারের উখিয়া শরণার্থীশিবিরে অবস্থান করছে। তাদের আশ্রয়স্থল পরিদর্শন করে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সহকারী কমিশনার (অপারেশন) রাউফ মাজাও বলেছেন, ‘সরকার ভাসানচরে খুব গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ করেছে। আপনি যদি কক্সবাজারের সঙ্গে ভাসানচরের তুলনা করেন, তাহলে ভাসানচর বেশি ভালো। সরকারের তৈরি ঘরগুলো বেশি ভালো। ভাসানচরে রোহিঙ্গারা যাতে সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, সে জন্য সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও বেশি উদ্যোগী হতে হবে।’ গতকাল বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। গত ৩০ মে চার দিনের সফরে রাউফ মাজাও এবং সংস্থাটির সুরক্ষাবিষয়ক সহকারী হাইকমিশনার গিলিয়ান ট্রিগস ঢাকায় আসেন। গত সোমবার সকালে তারা ভাসানচর যান। এরপর হেলিকপ্টারে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে মঙ্গলবার ঢাকায় ফেরেন। গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন ও পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে তারা বৈঠক করেন।
রাউফ মাজাও বলেন, ‘আমরা সরকারের সঙ্গে আছি এবং সরকারের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখব। বর্তমানে আমরা কক্সবাজারে কাজ করছি এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শরণার্থীদের কাজে সহায়তা অব্যাহত রাখব।’ কবে থেকে ইউএনএইচসিআর ভাসানচরে সম্পৃক্ত হতে পারেÑ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এখন আলোচনা চলছে, ভাসানচরে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার লোক আছে, যারা বাংলাদেশে থাকা শরণার্থী। তাদের সহযোগিতা ও সহায়তা দেওয়া দরকার। তবে আমি কোনো সময়সীমা বলতে পারছি না। আমাদের উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে তারা তাদের দেশে ফিরে যেতে পারে। বাস্তুচ্যুত মানুষকে ঘরে ফেরানোই সব সময়ের সর্বোচ্চ লক্ষ্য।’
গিলিয়ান ট্রিগস বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নিজের দেশে কিংবা তৃতীয় কোনো দেশে ফেরানোর বিষয়ে আমরা আপনাদের সরকার, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের অবস্থান সমর্থন করি। আমরা ভাসানচর ও কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে আলাপ করেছি। তারাও স্বভূমে ফেরার স্বপ্নের কথা জানিয়েছে। তবে ফেরানোর প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি কতটা কঠিন, আপনারা তা জানেন এবং মিয়ানমার সরকার তাদের নাগরিকদের নিতে চায় না।’
রোহিঙ্গাদের তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরের বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পুনঃস্থানান্তরের সুযোগ হয়তো আছে এবং আপনাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার বিষয়ে একমত হয়েছেন। এটা করা সম্ভব, খুব ঝুঁকিতে যারা আছে এবং ছোট ছোট গ্রুপকে নিয়ে এটা করে দেখা যেতে পারে। তবে এটা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। সমাধান হলো তাদের আত্মমর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে দেশে ফেরানো এবং আমরা এক সময় এটা সম্ভব করতে পারব।’
এ সময় সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে মোমেন বলেন, ‘আমরা বললাম ওনাদের (ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি) যে রাখাইনে যেন বেশি মনোযোগ দেন। তারা অনেকগুলো সুন্দর সুন্দর প্রজেক্ট রাখাইনে করছেন। এগুলো এখানকার মাঝিদের (রোহিঙ্গা নেতা) নিয়ে দেখান, যাতে ওরা ফেরত যায় নিজেদের দেশে। আর বললাম যে (মিয়ানমারে) মিলিটারি সরকার আসছে, এই সময়ে একটা সুযোগ হয়েছে। কারণ মিলিটারি সরকার শুনবে। আপনারা ওদের অধিকতর চাপ দেন। নিয়ে যান ওদের। হয়তো মিলিটারি সরকার শুনবে, হয়তো যাওয়ার একটা পথ হবে।’