সবাইকে ফাঁকি দিয়ে ইতালিতে আরাভ

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৩, ০৬:১২ এএম

বাংলাদেশ ও দুবাইয়ে আলোচিত ‘সোনা কারবারী’ ও পুলিশ হত্যা মামলার আসামি রবিউল ইসলাম আপন ওরফে আরাভকে দেশে ফিরিয়ে আনতে তোড়জোড় ভেস্তে গেছে পুলিশ সদর দপ্তরের। এরই মধ্যে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে আরাভ দুবাই থেকে পালিয়েছেন। তিনি এখন ইতালি অবস্থান করছেন। তার দুবাই ত্যাগ করার পেছনেও কলকাঠি নেড়েছেন বাংলাদেশের কয়েকজন মডেল। টিকিট কাটাসহ সব ধরনের ব্যবস্থা করেছিলেন তারা। পুলিশ তাদের খোঁজ করছেন। তবে মডেলদের মধ্যে কেউ কেউ দেশের বাহিরে আছেন বলে পুলিশের একটি সূত্র দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছে।  

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আরাভকে দুবাই থেকে ফেরত আনতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। আমাদের একটি টিম ওই দেশে যেতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রও নেওয়া হয়েছিল। ইন্টারপোল আমাদের নিশ্চিত করেছিল আরাভকে তারা নজরদারির মধ্যে রেখেছে। ওই দেশের পুলিশ প্রধানের সঙ্গেও আমরা কথাবার্তা বলেছিলাম। এ সবের মধ্যেই আমরা তথ্য পাই সোনার দোকান উদ্বোধনের তিনদিন পরই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তার যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের দুই জন মডেল টিকিটের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আবার ওই সব মডেলদের সঙ্গে দুবাইয়ের আই-শৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক আছে। তাছাড়া বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক কয়েকজন বড় কর্তার সঙ্গেও তাদের সম্পর্ক আছে।

এর আগেও আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান দুবাইয়ে আটক হওয়ার পর তাকেও দেশে ফিরিয়ে আনতে তোড়জোড় শুরু করেছিল পুলিশ। বিশ্বের সর্ব্বোচ পুলিশ সংস্থার মাধ্যমে’ রেড নোটিস’ জারি করে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান ধরার পরও আমরা আনতে পারিনি। ইন্টারপোলের আশায় আমরা অপেক্ষা করেছিলাম। জিসানকে না আনতে পারলেও আরাভকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব ছিল তা নিশ্চিত ছিলাম। কিন্তু  তাকেও আনতে পারলাম না।

সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানায়, ২০১৮ সালে এসবির পরিদর্শক মামুন ইমরান খান হত্যাকা-ের পর আরেক আলোচিত মডেল পিয়াসা ও নজরুল রাজের সঙ্গে আতাত করে সোনা কারবারে জড়িয়ে পড়েন। দুবাইয়ে গড়ে তোলেন সোনার কারবার। পাশাপাশি কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তারও আশকারা পেয়েছেন প্রতিনিয়ত। মামলা থেকে রেহাই পেতে নিজের নাম পরিবর্তন করে ছদ্মনাম ব্যবহার করেন। আর এ সবের কারণে অল্প সময়ে হয়ে যান ধনাঢ্য ব্যক্তিতে। পুলিশ, ব্যবসায়ী ও মডেলরা দুবাইতে গেলে তার সান্নিধ্য পেতেন।

নাম প্রকাশ না করে দুবাইয়ের এক ব্যবসায়ী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আরাভের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। সাকিবসহ মডেলদের নিয়ে সোনার দোকান উদ্বোধন করতে মাস ছয়েক আগে সে পরিকল্পনা করে। আরাভ যে পুলিশ হত্যা মামলার আসামি তা আমাদের জানা ছিল না। তার সঙ্গে বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ও তাদের স্ত্রীদের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল। তারা দুবাই আসলে সোনার বার গিফট করতেন। ঘটনা জানাজানি হলে আরাভ ‘নিখোঁজ’ হয়ে যান। নিখোঁজের মধ্যে আরাভ ফোন করে বলেছে দুবাইয়ে আর ব্যবসা করা হবে না। কানাডা ও আমেরিকায় আমি যাব না। ইতালি যাব। বাংলাদেশের কয়েকজন মডেল তাকে ইতালির টিকিট করার পাশাপাশি ভিসা করতে সহায়তা করেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আরাভকে কোনো নজরদারি করা হয়নি। সে কিছুদিন প্রকাশ্য ছিল। যখন ইন্টারপোল নোটিস জারি করে তখনই আরাভ লোকান্তরে চলে যায়। আমরা চেয়েছিলাম তাকে বাংলাদেশে ফেরত যাতে নেওয়া হয়। কারণ তার সঙ্গে যেসব রাঘববোয়াল জড়িত আছে তাদের নামগুলো অন্তত প্রকাশ পাক।    

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, আরাভ কোথায় আছে তার সন্ধানের চেষ্টা চলছে। এই নিয়ে ইন্টারপোল কাজ করছে। আমরাও আমাদের সোর্স কাজে লাগাচ্ছি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত