‘এবার নৌকায় ভোট দিন’

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:০২ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘নৌকা আপনাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। নৌকা পদ্মা সেতু-রেল সেতু দিয়েছে, রাস্তা-ঘাটের উন্নতি করেছে, নৌকা আপনাদের স্কুল-কলেজ-বিশ^বিদ্যালয় দিচ্ছে, নৌকাই এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। তাই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার যাতে আপনাদের সেবা করতে পারে, আপনাদের কাছে আমার সেই আবেদন থাকল।’

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা-ভাঙ্গা রেল চলাচলের উদ্বোধন শেষে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ডা. কাজী আবু ইউসুফ স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় এসে উন্নয়ন করি আর বিএনপি ক্ষমতায় এসে উন্নয়ন ধ্বংস করে। আমরা ২০০১ সালে পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করি। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে বলে মাওয়া দিয়ে হবে না, এটা বন্ধ করে দেন। আসলে ওদের ধ্বংস করাই চরিত্র।’ তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়বার যখন পদ্মা সেতু করতে গেলাম আমাদের দেশের এক স্বনামধন্য ব্যক্তি মামলা করে সরকারের বিরুদ্ধে হেরে গেল। তার ফলে সে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকে হিলারি ক্লিনটনকে বলে ঋণ বন্ধ করে দিয়ে দুর্নাম দিতে চেয়েছিল। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেছিলাম, উন্নয়ন করতে এসেছি। শেখ মুজিবের মেয়ে দুর্নীতি করে না।’

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আরিফের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ, আবদুর রহমান, শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, যুবলীগের সভাপতি ফজলে শামস পরশ, মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন এমপি।

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে আমি আপনাদের সামনে এসেছি একটি উপহার নিয়ে। আর সেই উপহারটি হলো, পদ্মা সেতু দিয়ে রেল সেতুর উদ্বোধন। আর সেই সেতু দিয়েই আমি রেলে করে ভাঙ্গায় এলাম। যেটি আগে কেউ কোনোদিন কল্পনাও করতে পারেনি।’ তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আকাক্সক্ষা ছিল ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ার। বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণেই মাত্র তিন বছর সাত মাসের মধ্যেই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে স্বল্পোন্নত দেশে পরিণত করেছিলেন। আকাক্সক্ষা ছিল, প্রতিটি গ্রাম সুন্দরভাবে সাজাবেন, প্রতিটি ঘর আলোকিত করবেন, শিক্ষার আলোয় আলোকিত করবেন, চিকিৎসাসেবা মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দেবেন। তাই তিনি দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। তার স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশের মানুষ দুমুঠো খাবে, চিকিৎসাসেবা পাবে, উন্নত জীবন পাবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগই মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব এ সেøাগান নিয়েই ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিয়েছি। কিন্তু বিএনপি ও জাতীয় পার্টির আমলে সেই ভোটের অধিকার হরণ করে বানিয়েছিল, দশটি হোন্ডা, বিশটি গু-া আর ভোটের মাঠ ঠা-া। এ ছিল তাদের ভোটের পরিবেশ।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে মানুষ স্বাধীনতা এনেছে। আবার এই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে এই ফরিদপুরসহ সারা বাংলাদেশে উন্নয়ন হয়েছে। নৌকা মার্কা উন্নয়নের মার্কা। আমি জানি, ফরিদপুরে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই। ফরিদপুরের মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছিল আড়াইশ বেডের। ক্ষমতায় আসার পর ৫০০ শয্যায় উন্নীত করেছি। ফরিদপুরের মানুষের অনেক দিনের আশা একটি বিশ্ববিদ্যালয়। ইনশাআল্লাহ আমি আগামীতে সরকারে আসতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয় করে দেব। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় আমরা কারিগরি স্কুল করে দিচ্ছি। ছেলেমেয়েরা কারিগরি শিক্ষায় কর্মসংস্থান যেন পায় তা আমরা করে দিচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘মেয়েদের পড়াশোনায় অবৈতনিক করে দিয়েছি। মেয়েদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। বিগত নির্বাচনের আগে ওয়াদা করেছিলাম ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দেব। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। সবাই অনলাইন ব্যবহার করে। এখন সব মা-বোনের হাতে স্মার্ট মোবাইল।’

জনসভায় যোগদানের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে রেলযোগাযোগের উদ্বোধনের পর দুপুর ১২টা ৫৮ মিনিটে সেখান থেকে যাত্রা শুরু করেন এবং ১টা ৫৫ মিনিটে ফরিদপুরের ভাঙ্গার বাহ্মণকান্দা রেলস্টেশনে এসে পৌঁছান। এ সময় তিনি স্টেশনে কিছুটা সময় ঘুরে দেখেন। এরপর জনসভাস্থলে এসে পৌঁছান ২টা ৫৫ মিনিটে। ৩টায় প্রধানমন্ত্রী সমাবেশে বক্তব্য শুরু করেন। প্রায় ২৮ মিনিট বক্তব্য দেওয়ার পর গাড়ির বহর নিয়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে রওনা করেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গায় সাজ সাজ উৎসব বিরাজ করে। ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, মাগুরা থেকে হাজারো দলীয় নেতাকর্মী সমাবেশে উপস্থিত হন। এ সময় পুরো স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। স্টেডিয়ামে জায়গা না পেয়ে অনেক মানুষ রাস্তায়, বাড়ির ছাদেসহ বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনে।

বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ব্যক্তিগত সফরে এসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে তিনি জাতির পিতার সমাধিসৌধ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। পরে জাতির পিতার সমাধিসৌধের সামনে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

এরপর তিনি পবিত্র ফাতেহা পাঠ করে বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্ট ও মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাতে অংশ নেন। এ ছাড়া দেশের অব্যাহত উন্নয়ন, কল্যাণ ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তার ছোট বোন শেখ রেহানা ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সকাল ১০টায় গণভবন থেকে সড়কপথে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পৌঁছান। সেখানে ৮২ কিলোমিটার রেলপথ উদ্বোধন করে সুধী সমাবেশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর মাওয়া স্টেশন থেকে রেলযোগে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে বেলা ২টায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা রেলস্টেশনে পৌঁছান।

পরে ভাঙ্গার ডা. আবু ইউসুফ স্টেডিয়ামে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সড়কপথে টুঙ্গিপাড়া এসে বিকেল ৪টা ৫৬ মিনিটে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের ১ নম্বর গেট থেকে ভেতরে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা শেষে বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে ১ নম্বর গেট থেকে বের হয়ে টুঙ্গিপাড়ার নিজ বাসভবনে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল রাতে নিজ বাসভবনে রাত্রিযাপন করে আজ বুধবার দুপুরে সড়কপথে ঢাকা রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি টুঙ্গিপাড়া ত্যাগ করার আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে পারেন বলে ধারণা করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত