সৌদি আরবের পারমাণবিক যাত্রা

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৩, ১১:৪৫ পিএম

পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্র স্থাপনে চীনের প্রস্তাবে সৌদি আরব ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করে সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। রিয়াদের পারমাণবিক শক্তিধর হওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের মধ্যেই সৌদি আরব এই তৎপরতা চালাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলছে সংবাদমাধ্যমটি।

ওয়াল স্ট্রিটের জার্নাল নাম প্রকাশ না করে সৌদি কর্মকর্তাদের বরাতে জানায়, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান চায় না ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার করপোরেশন (সিএনসিসি) সৌদি আরবকে পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবিত এই কেন্দ্রটি কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সীমান্ত এলাকায় নির্মিত হতে পারে।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, চীনের এই প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার মাধ্যমে সৌদি সরকার যুক্তরাষ্ট্রের জো বাইডেন প্রশাসনকে চাপে ফেলতে চাইছে। পারমাণবিক খাতে সৌদির নবযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শর্ত রয়েছে, এগুলো হলো সৌদি যেন ইরানের মতো নিজস্বভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পথে না হাঁটে এবং নিজেদের ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার থেকে খনন শুরু না করে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, সৌদি এরকম শর্তাদি মেনে চলুক চীন তা নাও চাইতে পারে। তবে সম্ভাব্য পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্র স্থাপন নিয়ে এখনো সিএনসিসি কিংবা সৌদি সরকারের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি বলে জানায় সংবাদমাধ্যমটি।

এ নিয়ে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদন বলছে, সম্প্রতি সৌদি আরব ও চীনের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে, যা ওয়াশিংটনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, গত ডিসেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সৌদি সফর করেন। সেসময় ১০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি হয়। চীন বিশ্বে জ¦ালানির শীর্ষ ভোক্তা। দেশটি উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বহুমুখী জ¦ালানি সহায়তার কথা বলছে। চীন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর পারমাণবিক জ¦ালানি শিল্পকে বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত করতে চাইছে। ২০১৯ সালে চীনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছিলেন, বেইজিং তার বেল্ট এবং রোড প্রকল্পের আওতায় বিশ্বজুড়ে ৩০টির মতো পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্র তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তেল উৎপাদনকারী সৌদি আরব কয়েক বছর ধরে পারমাণবিক শক্তির সম্ভাবনা যাচাই করছে। কারণ দেশটি জীবাশ্ম জ¦ালানি নির্ভরতা কমিয়ে আনতে চাইছে। 

আলজাজিরা বলছে, এ ছাড়া চীন পশ্চিম এশিয়া (মধ্যপ্রাচ্যে) সম্প্রতি কূটনৈতিক উপস্থিতিও বৃদ্ধি করেছে। এমনকি দেশটি সৌদি-ইরানে দীর্ঘমেয়াদি বৈরী সম্পর্কের অবসান ঘটানোর মধ্যস্থতা করেছে।

এদিকে সৌদির পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ থাকলেও ইসরায়েল কিন্তু এ ব্যাপারে ইতিবাচক। গত জুলাইতে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা যাশি হানেগবি বলেন, সৌদির পারমাণবিক প্রকল্পে বাঁধা দেওয়ার কিছু নেই। মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তো পারমাণবিক গবেষণাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেই। এসব তো বিপজ্জনক নয়।’

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সম্প্রতি সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে এই শর্ত দেয় যে, বাইডেন প্রশাসনকে সৌদির বেসামরিক পারমাণবিক তৎপরতা মেনে নিতে হবে। এ প্রসঙ্গেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান ইসরায়েলের এ নিরাপত্তা উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘কয়েক ডজন দেশে বেসামরিকভাবে পারমাণবিক শক্তি নিয়ে কাজ হচ্ছে। এই তৎপরতায় তারা নিজেরা বিপদে পড়ছে না এবং প্রতিবেশীদেরও বিপদে ফেলছে না।’

ওয়ার্ল্ড নিউক্লিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য বলছে, ২০১৬ সালের এপ্রিলে নবায়ন যোগ্য শক্তি কর্মসূচি হাতে নেয় সৌদি সরকার। এটি দেশটির ভিশন ২০৩০ এর অংশ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সৌর, বায়ু ও পারমাণবিক শক্তি সমৃদ্ধ করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুমোদন করেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। এ ছাড়া সালমান যে অত্যাধুনিক নিওম নগরী স্থাপনের পরিকল্পনা করেছেন সেই নগরীতে শক্তি সরবরাহে নবায়নযোগ্য শক্তিই হবে ভরসা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত