বাগেরহাটে ঢিলেঢালাভাবে চলছে লকডাউন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে রাস্তায় মানুষের চলাচল বাড়ছে। জেল-জরিমানা করেও তাদের ঘরে রাখা যাচ্ছে না। স্থানীয়দের স্বাস্থ্যবিধি মানাতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। টানা লকডাউনে জেলায় গত ১২ দিনে ৭৪টি ভ্রাম্যমাণ আদালত স্বাস্থ্যবিধি না মানা ও বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়ায় সাত শতাধিক মানুষকে প্রায় ছয় লাখ টাকা জরিমানা করেছে।
বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মোছাব্বেরুল ইসলাম বলেন, জনগণকে চলমান লকডাউন মানানো একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লকডাউন টানা হওয়ায় মানুষও ধৈর্যহারা হচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামের হাট বাজারগুলোতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলছে।
এই আদালত প্রতিদিনই আইন অমান্যকারী অন্তত একশ জনকে আইনের আওতায় আনছি। ক্ষেত্রবিশেষ জরিমানার পাশাপাশি জেলও দিতে হচ্ছে।
জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে চাই আর কয়েকটা দিন লকডাউন চলবে আপনারা সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া সাধারণ মানুষকে মানবিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোও সহায়তা দিচ্ছেন।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হুদা বলেন, বাগেরহাটের সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রশাসনকে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। টানা লকডাউনে জেলায় প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে কাজ করছে। প্রশাসনের সাথে জনগণের এক ধরনের চোর পুলিশ খেলা চলছে। প্রশাসন যখন জনসমাগম স্থলে তখন দোকানিরা দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যাচ্ছে। যারা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না বা বিনা প্রয়োজনে বাইরে এসে ঘোরাঘুরি করছেন তাদের আমরা আইনের আওতায় আনছি।
গত ১২ দিনে ৭৪টি ভ্রাম্যমাণ আদালত ৭০৪ জনকে জরিমানা করেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫ লাখ ৮৭ হাজার ৩৫০ টাকা আদায় করা হয়। সরকারের দেয়া বিধিনিষেধ প্রতিপালন করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।
