মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়া ১০ শহর

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২২, ০১:১০ এএম

হাজার হাজার বছর আগে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বেশ কয়েকটি শহরের উত্থান ঘটে। মানবসভ্যতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এ শহরগুলোকে এখন আর পৃথিবীর মানচিত্রে খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা কারণে সেগুলো হারিয়ে গেছে। বিলুপ্ত শহর সম্পর্কে জানতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া

অনেকে মনে করেন, বর্তমান সময়ের তুলনায় অতীত অনেক বেশি জমকালো, চিত্তাকর্ষক ছিল। তাদের এই মনে হওয়া নিতান্ত অমূলক নয়। কারও কারোর ধারণা, প্রাচীনকালের মানুষের জ্ঞান আধুনিক যুগের চেয়ে কোনো অংশে কম ছিল না। গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু শহরের প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার তাদের এ ধরনের ভাবনার পেছনে বড় ভূমিকা পালন করে। এসব শহরের অস্তিত্ব এখন আর নেই। একটি শহর বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে, ভাবলেই অবাক হতে হয়। এ কী করে সম্ভব? কিন্তু এমনটাই হয়েছে। নানা কারণে বেশ কয়েকটি শহর বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে পুরোপুরি মুছে যায়। শহরগুলোর অস্তিত্ব শুধু কয়েকশ বছর নয়, হাজার বছর ধরে কেউ জানত না। মানবসভ্যতার একেবারে শুরুর দিকের এসব শহরের কোনোটি ধ্বংস হয়ে যায়, কোনোটি সাগরে বিলীন হয়ে যায় বা হারিয়ে যায়। বিশ্ব মানচিত্র থেকে কেন শহরগুলো হারিয়ে গেল, এই প্রশ্নের জবাব খুঁজে বের করেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। 

আক্রোতিরি

গ্রিসের সবচেয়ে বড় দ্বীপ ক্রিটে ব্রোঞ্জ যুগে গড়ে ওঠে মিনোয়ান সভ্যতা। এটির নামকরণ হয় পৌরাণিক রাজা মিনোসের নামানুসারে। গ্রিক পুরাণ অনুযায়ী, মিনোস ছিলেন দেবতা জিউস ও ইউরোপার সন্তান। মিনোয়ান সভ্যতার মানুষ তাদের সভ্যতার নাম কী দিয়েছিলেন, তা জানা ইতিহাসবিদদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। বিংশ শতাব্দী শুরুর আগ পর্যন্ত এই সভ্যতার কথা মানুষ জানত না। ১৯০০ সালে ব্রিটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক স্যার আর্থার ইভান্স ও তার দল ৩৫ বছর ধরে ক্রিটের উত্তর উপকূলের কাছে বর্তমান হেরাক্লিয়ন শহরের দক্ষিণে খননকাজ চালিয়ে ব্রোঞ্জ যুগের সবচেয়ে বড় শহর নসসের এক প্রাসাদের সন্ধান পায়। গ্রেট প্যালেস অব নসস নামে পরিচিত ওই প্রাসাদ আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে মিনোয়ান সভ্যতার বৈভব সম্পর্কে মানুষ প্রথম জানতে পারেন। গ্রিসের এই ক্রিট দ্বীপের উপকণ্ঠে এজিয়ান সাগরের বুকে সান্তোরিনি দ্বীপে একসময় আক্রোতিরি নামে এক শহর ছিল। ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ সালে সান্তোরিনি দ্বীপের থেরা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত মিনোয়ান সভ্যতার পাশাপাশি আক্রোতিরিকে ধ্বংস করে। ১৯৬৭ সালে আক্রোতিরি শহরের একটি কেল্লা আবিষ্কার করেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। কেল্লাটিতে তিনতলার একটি ভবন ছিল। ভবনের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা দেখে প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা হয়, আক্রোতিরি শহরের বাসিন্দাদের জন্য ঠাণ্ডা ও গরম উভয় পানির ব্যবস্থা ছিল। গরম পানি আসত আগ্নেয়গিরি থেরা থেকে। এই আগ্নেয়গিরিই একপর্যায়ে আক্রোতিরির সর্বনাশ ডেকে আনে।

তিমগাদ

উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ার একটি শহরের নাম তিমগাদ, যার অস্তিত্ব আজ আর নেই। রোমান সম্রাট ট্রাজান ১০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে ধু ধু মরুভূমিতে এই শহর প্রতিষ্ঠা করেন। শহরের পুরো নাম কলোনিয়া মারসিয়ানা উলপিয়া ত্রিয়ানা থামুগাদি। মা মারসিয়া, বড় বোন উলপিয়া মারসিয়ানা ও বাবা মারকাস উলপিয়াস ত্রিয়ানাসের নামে সম্রাট ট্রাজান শহরটির এই নাম রাখেন। রোমান সাম্রাজ্য পতনের পরও তিমগাদ টিকে ছিল এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত হয়। পঞ্চম শতাব্দীতে তিমগাদে বড় ধরনের ডাকাতি হয়। এরপর সপ্তম শতাব্দীতে শহরটিতে আরও একবার ডাকাতি হয়। দ্বিতীয় ডাকাতির পর অনেকটাই পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে তিমগাদ। একপর্যায়ে সাহারা মরুভূমির বালি পুরো শহরটিকে ঢেকে ফেলে। এতে অবশ্য ভালোই হয়। সাহারার বালি তিমগাদকে অক্ষত থাকতে সহযোগিতা করে। ১৮৮১ সালে শহরটি প্রত্নতাত্ত্বিকরা আবিষ্কার করেন। তিমগাদের ধ্বংসাবশেষে তারা পান সম্রাট ট্রাজানের প্রাসাদের খিলান, রোমানদের বিশেষ গোসলখানা ও দেবতা জুপিটারের মন্দির। আকারের দিক থেকে এই মন্দির রোমের ক্যাথলিক গির্জা প্যান্থিয়নের মতো বিশাল।

পাভলোপেত্রি

ভূ-প্রত্নতত্ত্ববিদ নিকোলাস ফ্লেমিং ১৯৬৭ সালে ভূমধ্যসাগরের তলদেশে প্রাচীন এক গ্রিক শহরের সন্ধান পান, যার নাম পাভলোপেত্রি। এটি বর্তমানে পানির নিচে বিশ্বের প্রাচীনতম হারিয়ে যাওয়া শহর। ১৯৬৮ সালে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিকরা এই শহর সম্পর্কে আরও তথ্য জানার উদ্দেশ্যে ভূমধ্যসাগরের তলদেশে যান। সমুদ্রগর্ভের এই শহরে তারা কমপক্ষে ১৫টি বড় ভবন খুঁজে পান। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তারা নিশ্চিত হন, খ্রিস্টপূর্ব ২৮০০ সালে পাভলোপেত্রি শহরে মনুষ্য বসবাস শুরু হয়। গবেষকরা মনে করেন, খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ সালের দিকে তিনটি ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর পুরো শহর ভূমধ্যসাগরে ডুবে যায়। শহরটি সম্পর্কে হাজার হাজার বছর ধরে প্রত্নতাত্ত্বিকরা কিছু জানতেন না।

পম্পেই ও হারকিউলেনিয়াম

ইতালির দক্ষিণ-পশ্চিমে ক্যাম্পানিয়া অঞ্চল প্রাচীন ধ্বংসাবশেষের জন্য সুপরিচিত। এর রাজধানী নেপলসের কাছে একসময় পম্পেই ও হারকিউলেনিয়াম নামে দুটি শহর ছিল। ৭৯ খ্রিস্টাব্দে ভিসুভিয়াস পর্বতে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত হয়। এর ফলে পম্পেই ও হারকিউলেনিয়াম ১৩ থেকে ২০ ফুট আগ্নেয়গিরির ছাই ও পাথরের নিচে চাপা পড়ে যায়। ১৭৪৮ সাল পর্যন্ত ধ্বংসপ্রাপ্ত এই দুই শহর ছাইয়ের নিচে হিমায়িত অবস্থায় ছিল। ওই বছরই পম্পেই ও হারকিউলেনিয়ামের খননকাজ শুরু হয়। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, একসময় সমৃদ্ধিশালী শহর ছিল পম্পেই। অগ্ন্যুৎপাতের বছর শহরটিতে প্রায় ১১ হাজার মানুষ ছিল। বিলাসবহুল ভবন ও তার অভ্যন্তরীণ নকশা পম্পেইবাসীর উন্নত রুচির সাক্ষ্য দেয়।

পেত্রা

হারিয়ে যাওয়া বা ধ্বংস হয়ে যাওয়া শহরের তালিকায় জর্ডানের দক্ষিণাঞ্চলীয় পেত্রা শহর থাকতে পারে কি না এ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কারণ শহরটি ঠিক হারায়নি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধ্বংস হয়নি, বাসিন্দারাই এটি ছেড়ে চলে যান। কমপক্ষে এক হাজার বছর জর্ডানের এই শহর সম্পর্কে পশ্চিমাদের কোনো ধারণা ছিল না। রোমান লেখক,

প্রকৃতিবিদ ও দার্শনিক প্লিনি দ্য এল্ডার জানান, খ্রিস্টপূর্ব ১০৩ সালে রোমানরা পেত্রা শহর দখল করে। জর্ডানের এই মরু শহর একসময় বেশ উন্নত ছিল। একবার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প পেত্রার প্রধান পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেয়। পানি সরবরাহ ব্যবস্থা মেরামত না করে আশপাশের শহরে চলে যাওয়াই শ্রেয় মনে করেন পেত্রার বাসিন্দারা। মরুভূমির বুকে জনমানবহীন এই শহরে এখন শুধু পর্যটকরাই পা মাড়ান। মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ যে কটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান রয়েছে, তার মধ্যে পেত্রা অন্যতম।

তিকাল

মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়েতেমালার একটি রেইনফরেস্টে রয়েছে মায়া সভ্যতার উন্নত শহর তিকালের ধ্বংসাবশেষ। ২০০ থেকে ৯০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এই শহরে মানুষ বাস করতেন। সে সময় মায়া অঞ্চলকে (বর্তমান গুয়েতেমালা, বেলিজ, মেক্সিকোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, হন্ডুরাস ও এল সালভাদরের পশ্চিমাঞ্চল) রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করত তিকাল। জর্ডানের পেত্রার মতো এই শহরও বাসিন্দারাই ত্যাগ করেন। এর কারণ কী হতে পারে, সে জবাব দীর্ঘদিন পাননি প্রত্নতাত্ত্বিকরা। পরে জানা যায়, শহরের জনসংখ্যা খুব বেড়ে যাওয়ায় একপর্যায়ে তা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ে। দশম শতাব্দীর শেষের দিকে তিকাল পুরোপুরি জনশূন্য হয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে ঘন জঙ্গলে পরিণত হয়। তিকালের অস্তিত্ব কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত প্রত্নতাত্ত্বিকদের অজানা ছিল। তবে গুয়েতেমালার রেইনফরেস্টিতে যে একসময় শহর ছিল, তা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্থানীয়রা বলাবলি করে আসছিলেন। ১৮৪৮ সালে প্রথম ওই রেইনফরেস্টে খননকাজ শুরু করেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। তারা জানান, তিকালে একসময় কয়েক হাজার স্থাপনা ছিল। কয়েক দশক চেষ্টার পর এখন পর্যন্ত সেগুলোর মাত্র কয়েকটি খনন করা হয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিশালাকৃতির ছয়টি পিরামিড ও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্দির। পিরামিডের কোনো কোনোটির উচ্চতা ২০০ ফুটের বেশি। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, মন্দিরগুলো বানাতে খুব বেশি সময় নেননি তিকালের শাসকরা। বেশির ভাগ মন্দিরই দুই বছরের মধ্যে নির্মাণ করা হয়।

ক্লিফ প্যালেস

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলীয় কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে ৯০০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ক্লিফ প্যালেস নামে একটি শহর গড়ে তোলে ন্যাটিভ আমেরিকানরা। এই শহরের বেশির ভাগ ভবন নির্মাণ করা হয় ১২০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে। ক্লিফ প্যালেসে খুব বেশিদিন মানুষ ছিল না। ১৩০০ খ্রিস্টাব্দে তারা শহরটি ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যায়। কলোরাডোর পর্বতের গায়ে ক্লিফ প্যালেস বহুদিন লুকিয়ে ছিল। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে একবার এক ন্যাটিভ আমেরিকান তার হারিয়ে যাওয়া গবাদিপশু খুঁজতে বের হন। তখন তিনিসহ আরও কয়েকজন পাথরের দেয়ালে ঘেরা ক্লিফ প্যালেসের কয়েকটি ভবনের সন্ধান পান। ওই ঘটনার পর ১৮৮৮ সালে খননকাজ শুরু করেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। কেন বাসিন্দারা শহরটি ছেড়ে চলে যান, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি তারা। তবে তাদের ধারণা, ভয়াবহ খরার কারণে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মানুষজন শহরটি ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।

মাচু পিচু

হারিয়ে যাওয়া শহরের তালিকায় পেরুর মাচু পিচু থাকবে না, তা হয় না। প্রাচীন ইনকা সভ্যতার এই শহর লাতিন আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালার চূড়ায় অবস্থিত ছিল। ১৪৫০ থেকে ১৫৭২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মাচু পিচুতে মনুষ্য বসতি ছিল। স্পেন ইনকাদের ওপর হামলা চালালে শহরটি জনশূন্য হয়ে পড়ে। দখলদার স্প্যানিশরা কখনো মাচু পিচুর খোঁজ পায়নি, স্থানীয়রাও তাদের কাছে ইনকা সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ করেননি। মার্কিন প্রত্নতাত্ত্বিক হিরাম বিংহ্যামই প্রথম ১৯১১ সালে মাচু পিচু নিয়ে গবেষণা করেন। এটি রাজকীয় শহর ছিল নাকি ধর্মীয় উপাসনালয় ছিল, তা নিয়ে আজও বিতর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ের প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, ইনকা রাজা পাচাচুতির (১৪৩৮-১৪৭২) সম্পত্তি হিসেবে মাচু পিচু নির্মাণ করা হয়েছিল। চলতি বছরে এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, মাচু পিচুকে ইনকারা হুয়ায়না পিচু বলত।

ট্রয়

এজিয়ান সাগরের ধারে একসময় ছিল প্রাচীন শহর ট্রয়। বহুকাল ধরে মানুষের কাছে এটি একটি কিংবদন্তি শহর। ১৮৭১ সালে জার্মান প্রত্নতাত্ত্বিক হাইনরিখ শ্লিমান প্রথম ট্রয় (বর্তমানে তুরস্কের প্রাচীন শহর হিসারলুক) খননে অর্থায়ন করেন। সে সময় সেখানে বিশাল বিশাল প্রতিরক্ষামূলক প্রাচীরের সন্ধান পাওয়া যায়। গ্রিক কবি হোমারের ইলিয়াড মহাকাব্যে ইলিয়াম নামে যে প্রাচীন শহরের কথা বলা হয়, তার বর্ণনার সঙ্গে ওইসব প্রাচীরের মিল পান প্রত্নতাত্ত্বিকরা। গবেষকরা জানান, খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ সালে ট্রয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর একবার নয়, বেশ কয়েকবার শহরটি ধ্বংস হয়। একবার ধ্বংস হলে সেই ধ্বংসাবশেষের ওপরই আবার শহরটি নির্মাণ করা হয়।

মহেঞ্জোদারো

মেসোপটেমীয় ও মিসর সভ্যতার মতো সিন্ধু সভ্যতাকে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সভ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সিন্ধু সভ্যতায় বিজ্ঞান, বাণিজ্য, ধর্ম, কৃষি ও শিল্পকলার ব্যাপক বিকাশ ঘটে। বিশেষ করে খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ সালে এসব ক্ষেত্রে উৎকর্ষের শীর্ষে পৌঁছায় সিন্ধু সভ্যতা। এই সভ্যতা কতটা অগ্রসর ছিল, তা বোঝা যায় পাকিস্তানে সিন্ধু নদীর তীরে গড়ে ওঠা মহেঞ্জোদারো শহরের দিকে তাকালে। প্রাচীন এই শহরের সুবিন্যস্ত সড়ক ও জটিল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এর প্রমাণ দেয়। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, ছয়বার সিন্ধু নদীর পানিবৃদ্ধি মহেঞ্জোদারোর ভিত্তি দুর্বল করে দেয় এবং একপর্যায় এটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত