বার্ধক্যজনিত রোগের মধ্যে অস্থি ও অস্থিসন্ধির সমস্যা অন্যতম। বার্ধক্যজনিত অস্থি ও অস্থিসন্ধি সমস্যাসমূহের মধ্যে অস্ট্রিও আর্থ্রাইটিস, গাউট, আর্থ্রাইটিস, স্পনডাইলোসিস (সার্ভাইক্যাল, লাম্বার) ইন্টারভাট্রিবাল ডিক্স প্রোল্যাপ্স, অস্ট্রিওপরোসিস, প্যাথলজিক্যাল ফ্রাকচার অন্যতম।
কারণ
এ ধরনের রোগ সাধারণত পুরুষের চেয়ে নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। বার্ধক্যজনিত অস্থি ও সন্ধির ব্যথার মূল কারণ বংশগত। এ ছাড়া রজঃনিবৃত্তি, অতিরিক্ত ওজন, হরমোনজনিত সমস্যা ও পুষ্টির অভাব। এ ছাড়া পরোক্ষ এবং প্রত্যক্ষ আঘাত এবং প্রদাহজনিত কারণেও এ সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
ঘরোয়া প্রতিকার
বার্ধক্যজনিত অস্থি ও সন্ধির সমস্যাসমূহ থেকে কখনো সম্পূর্ণ নিরাময় বা আরোগ্য লাভ করা যায় না। নিয়ম পালন এবং ওষুধ সেবনের মাধ্যমে এ সমস্যাগুলোর কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। তবে ঘরোয়া কিছু উপায়ে এ ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
যেমন : ইপসোম সল্ট : ইপসোম সল্টের উচ্চ ম্যাগনেশিয়াম অস্থিসন্ধির ব্যথা কমিয়ে দিয়ে থাকে। এক বালতি কুসুম-গরম পানিতে আধাকাপ ইপসোম সল্ট মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণে আপনি যেখানে ব্যথা সেই জায়গা ভিজিয়ে রাখুন। এ ছাড়া ইপসোম সল্ট ভেজানো পানি দিয়ে গোসল করুন। কাঁচা হলুদ এবং আদা চা খেতে পারেন। হলুদের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান শরীরের এনজাইম নিয়ন্ত্রণ করে অস্থিসন্ধির ফোলাভাব ও ব্যথা রোধ করে। আদা এবং হলুদের অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান অস্থিসন্ধির ব্যথা খুব দ্রুতই কমায়। ২ কাপ গরম পানিতে আধা চা চামচ আদা কুচি এবং আধা চা চামচ হলুদ দিয়ে অল্প আঁচে ১০ থেকে ১৫ মিনিট জ্বাল দিন। এর সঙ্গে মধু মেশাতে পারেন। এটি দিনে দুবার পান করুন। ডায়াবেটিস থাকলে মধু খাওয়া বাদ দিতে পারেন। পেঁয়াজ কিছুটা অদ্ভুত শোনালেও পেঁয়াজ আপনার অস্থিসন্ধির ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে। পেঁয়াজের সালফার অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান আছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পেঁয়াজের মর্ফিন উপাদান অস্থিমজ্জার ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে থাকে। মেথি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদানসমৃদ্ধ। মেথি অস্থিসন্ধির ব্যথা ও বাতের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। ১ চা চামচ মেথিগুঁড়ো এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে পান করুন। এ ছাড়া মেথি সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন সকালে খালি পেটে পান করুন। পাত্রে গাজর কুচি করে নিন, এর সঙ্গে লেবুর রস মেশান। গাজর সেদ্ধ করে অথবা কাঁচা অবস্থা খেতে পারেন। নিয়মিত এই পানীয় পানে অস্থিসন্ধি ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এ ছাড়া অস্থি ও সন্ধির ব্যথা কমাতে অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারেন।