বিষাদময় রাতের দুই বছর পূর্তি হতে যাচ্ছে আজ। এর ঠিক আগের দিন শাপমোচন করলেন সাদউদ্দিন। বলছি ২০২১ সালের ১৩ অক্টোবর রাতের কথা। মালে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে নেপালের বিপক্ষে ১-০ তে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ জয়ের সুবাস পাচ্ছিল। এই জয় দীর্ঘ ১৪ বছরের অপেক্ষা শেষে তাদের তুলে দিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে। কিন্তু নিয়তি যে চিত্রনাট্য শেষটা লিখেছিল অন্যভাবে। যে চিত্রনাট্যে খলনায়ক সাদ। নির্ধারিত সময়ের মিনিট কয়েক আগে নিজেদের বক্সে ফাউল করে নেপালকে পেনাল্টি উপহার দেন। তা থেকে গোল করে বাংলাদেশকে কাঁদিয়ে ফাইনালে পৌঁছে যায় নেপাল। অভিশপ্ত সেই ভুলটা দীর্ঘ ২ বছর তাড়িয়ে বেড়িয়েছে সাদকে। অবশেষে শাপমোচন করলেন কাল রাতে। মালেতে স্বাগতিক মালদ্বীপের বিপক্ষে বদলি নেমে যোগ করা সময়ে তার গোলে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয়পর্বে খেলার স্বপ্নটা আরও বড় হয়েছে বাংলাদেশের। তার গোলে দল জেতেনি। তবে মালদ্বীপের মাটিতে ১-১ ড্রয়ের গুরুত্ব কম নয়। গেল ২৩ বছর যে এ মাঠে স্বাগতিকদের জয় বঞ্চিত করতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০০০ সালে ম্যাচটা ১-১ হয়েছিল। এরপর খেলা তিন ম্যাচেই বাজেভাবে হার বাংলাদেশের।
কালও হারের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল হাভিয়ের কাবরেরার দল। ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের একের পর এক মিস যখন জয়ের স্বপ্নটা মøান করে দিচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই ডিফেন্সের ভুলে হার চোখ রাঙাতে শুরু করে। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে বদলি ফরোয়ার্ড হাসান নাজিমের গোলে এগিয়ে যায় মালদ্বীপ। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে লেফট ব্যাক বিশ্বনাথ ঘোষকে তুলে সাদকে মাঠে নামান স্প্যানিশ কোচ। পাঁচ মিনিট যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বলে প্রথম স্পর্শটাকে গোলে পরিণত করেন সাদ। তাতে রাকিব হোসেনের অবদান কম নয়। বাঁদিক থেকে বলটা সাদকে থালায় সাজিয়ে দিয়েছিলেন এই ফরোয়ার্ড। তাতে ফাইনাল টাচ দিয়েই শুরু সাদের জার্সি খুলে বুনো উদযাপন। সেটা নতুন মাত্রায় পেয়েছে তিন মিনিট বাদে শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে। মালে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে উপস্থিত কয়েক হাজার প্রবাসী বাংলাদেশির সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে জয়ের সমান ড্র উদযাপন করেছে বাংলাদেশ।
২০১৬ সালে মালেতে স্বাগতিকদের কাছে ৫-০ হারের লজ্জা। ২০২১ সাফে হার ২-০ ব্যবধানে। এ বছর পর কাবরেরার অভিষেক ম্যাচেও একই ব্যবধানে হারের হতাশা। এই মাঠে স্বাগতিকদের চ্যালেঞ্জ নেওয়া মোটেই সহজ ছিল না মদকা-ে দলের তিন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারকে হারানো বাংলাদেশের। এই মালে থেকেই ৬৪ বোতল মদ অবৈধভাবে দেশে নিয়ে যেতে গিয়ে ধরা পড়েন গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো, ডিফেন্ডার তপু বর্মণ ও ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিনরা। তাদের অনুপস্থিতি ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে। বিশেষ করে তরুণ মোরসালিনের জায়গা নেওয়া ফাহিম বারবার হতাশ করেছেন। দুই অর্ধ মিলিয়ে মোট তিনটি সহজ সুযোগ হেলায় নষ্ট করেন এই ফরোয়ার্ড। ১৮ মিনিটে মালদ্বীপ অধিনায়ক আলি ফাসিরের শট সাইড বারে লেগে ফাঁড়া কেটে যাওয়ার পর বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার সহজ সুযোগ নষ্ট করেন ফাহিম। ৪০ মিনিটে ফাহিম বক্সে ভালো জায়গায় পাওয়া বল এলোমেলো শটে বাইরে পাঠান।
ম্যাচের ৫৭ মিনিটে রাকিবের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে বক্সে ঢুকে ফাহিমের বাঁ পায়ের জোরালো শট সাইডের জাল কাঁপায়। ফাহিম সবচেয়ে হতাশ করেন ৭০ মিনিটে রাকিবের ক্রসে হাতছোঁয়া দূর থেকে বল বার উঁচিয়ে মেরে। পরের মিনিটে দ্ুিট পরিবর্তনে ভাগ্য ফেরাতে চেয়েছিলেন কাবরেরা। ৭৭ মিনিটে আলি ফাসিরের একক প্রচেষ্টা রুখে দিয়ে ত্রাতার ভূমিকা নেন অভিষেক হওয়া কিপার মিতুল মারমা। ৮৭ মিনিটে বাংলাদেশের গোল হজমে বড় দায় তপুর অনুপস্থিতিতে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা শাকিল হোসেনের। ইব্রাহিম মাহুদির ক্রস হেড করে ক্লিয়ার করেছিলেন তারিক কাজী। তবে ফিরতি বল শাকিলের শরীরে লেগে ছোট ডি-বক্সে চলে আসে। সেখান থেকে সহজেই গোলের আনুষ্ঠানিকতা সারেন হাসান নাজিম। তবে এই ম্যাচটা যে সাদের শাপমোচনের। তাই যে বক্সে ফাউল করে ২ বছর আগে খলনায়ক হয়েছিলেন, সেই বক্সেই দ্রুত আক্রমণে উঠে রাকিবের ক্রস জালে জড়িয়ে বাংলাদেশের বাছাইয়ের গ্রুপপর্বে যাওয়ার স্বপ্ন জিইয়ে রাখেন।
