২০২৬ বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে তাঁবু ফেলেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দল। আর সেখানে আলবিসেলেস্তেদের ক্যাম্প থেকে একে একে বেরিয়ে আসছে ভেতরের নানা রোমাঞ্চকর গল্প। যার কেন্দ্রবিন্দুতে বরাবরের মতোই রয়েছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। কাতার বিশ্বকাপের মতো এবারও দলের সাথে থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ একা একটি রুমে থাকছেন এল এম টেন। তবে এবার আলোচনার ঝড় তুলেছে তাঁর রুম নম্বরটি, যা নিয়ে ভক্তদের মাঝে শুরু হয়েছে নতুন 'তকদির' বা ভাগ্যের হিসাব-নিকাশ।
জাতীয় দলে দীর্ঘদিনের রুমমেট ও প্রিয় বন্ধু সার্জিও আগুয়েরো ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর থেকেই মেসি সাধারণত আন্তর্জাতিক ক্যাম্পে একা রুমে থাকেন। কাতার বিশ্বকাপেও এর ব্যতিক্রম হয়নি, এবং এবার যুক্তরাষ্ট্রেও সেই ধারাবাহিকতাই বজায় থাকছে।
মেসি একা থাকলেও তাঁর সতীর্থরা কিন্তু জুটি বেঁধেছেন। যেমন মেসির ছায়াসঙ্গী রদ্রিগো ডি পল এবারও রুম শেয়ার করছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দির সাথে। ওতামেন্দি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁদের রুমের ভেতরের একটি ছবিও ভক্তদের সাথে শেয়ার করেছেন।
অবশ্য মাঠের বাইরে একা রুমে থাকলেও মেসির ঘরটিই দলের মূল আড্ডাস্থল। সেখানেই বসে ট্রুকো (আর্জেন্টাইন ঐতিহ্যবাহী তাস খেলা) খেলার আসর, চলে ঐতিহ্যবাহী 'মেট' চা খাওয়ার ধুম এবং দীর্ঘ প্রতিযোগিতার ক্লান্তি দূর করার সব গল্পগুজব।
কাতার বিশ্বকাপে মেসির রুম নম্বর ছিল ২০১। তখন আর্জেন্টাইন সমর্থকরা একটি অদ্ভুত গাণিতিক সমীকরণ মিলিয়েছিলেন— ২+১ = ৩। কাকতালীয়ভাবে সেবার আর্জেন্টিনা তাদের ইতিহাসের তৃতীয় বিশ্বকাপ জয় করে।
এবার কানসাসের বিলাসবহুল ঘাঁটিতে মেসিকে দেওয়া হয়েছে ২০২ নম্বর রুম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই নম্বরটি প্রকাশ পাওয়া মাত্রই ভক্তদের মাঝে নতুন উন্মাদনা শুরু হয়েছে। নেটিজেনদের হিসাব অনুযায়ী, ২+২ = ৪। অর্থাৎ, এই নম্বরটি নাকি লিওনেল মেসির হাত ধরে আর্জেন্টিনার ঘরে চতুর্থ বিশ্বকাপ ট্রফি আসার এক অলৌকিক ইঙ্গিত!
ফুটবল বিশ্বে আর্জেন্টাইনদের 'কাবালা' বা অন্ধবিশ্বাসের গল্প বেশ পরিচিত। তা সে একই রকমের খাবার খাওয়া হোক, কিংবা নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম মেনে চলা। স্ক্যালোনি ও তাঁর শিষ্যরা যেখানেই যান, নিজেদের চেনা পরিবেশ তৈরি করে নেন। কাতার জয়ের পর এই ছোটখাটো বিষয়গুলো এখন ভক্তদের কাছে স্রেফ কাকতালীয় নয়, বরং অশুভ শক্তি কাটানোর এক একটি টোটকা।
বিশ্বকাপের মহরণ শুরুর আর দুই সপ্তাহেরও কম সময় বাকি। কানসাসের কড়া গরম আর কড়া নিরাপত্তার মাঝে মেসি এখন তাঁর চেনা রুটিনে ব্যস্ত— একা একটি শান্ত ঘর, পাশে এক ফ্লাস্ক গরম মেট চা এবং মনের কোণে আরও একবার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন। আর ভক্তদের আশা, ২০২ নম্বর রুমের এই ‘ম্যাজিক নম্বর’ এবারও সত্যি প্রমাণিত হবে।
