বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত পাঁচজনের মধ্যে চারজনই নিজেদের অপরাধ মেনে নিয়েছেন। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তারা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে আকসু’র আনা অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন। তবে এই তালিকায় থাকা চট্টগ্রাম রয়্যালসের লজিস্টিকস ম্যানেজার লাবলুর রহমান একমাত্র ব্যক্তি, যিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফলে তার বিষয়টি এখন আনুষ্ঠানিক শুনানিতে গড়াবে। বিসিবির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের একটি বিশ্বস্ত সূত্র গতকাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
গত ৭ মে বিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানিয়েছিল। সেখানে নিয়ম অনুযায়ী আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ১৪ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর জানা গেছে :
লাবলুর রহমান (লজিস্টিকস ম্যানেজার, চট্টগ্রাম রয়্যালস) : তিনি একমাত্র অভিযুক্ত যিনি বিসিবির অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। অমিত মজুমদার (ক্রিকেটার) : ফিক্সিং ও দুর্নীতিতে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। রেজওয়ান কবির সিদ্দিক (ম্যানেজার, সিলেট টাইটানস) : নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। তৌহিদুল হক (সহ-স্বত্বাধিকারী, নোয়াখালী এক্সপ্রেস) : তিনিও দুর্নীতির অভিযোগ মেনে নিয়েছেন। সামিনুর রহমান : ‘এক্সক্লুডেড পারসন পলিসির’ আওতায় তাকে এরই মধ্যে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নোটিশ দেওয়ার আগেই নিজের অপরাধ স্বীকার করায় তার জন্য নতুন করে আপিল করার কোনো সুযোগ ছিল না।
বিসিবির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের তদন্তকারী দলের একজন কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্ত সবাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছেন। পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যে চারজন অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে অপরাধের মাত্রা ও ধরন বিবেচনা করে পরবর্তী শাস্তির মেয়াদ নির্ধারণ করা হবে। আর যেহেতু লাবলুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তাই নিয়ম অনুযায়ী তার বিষয়টি এখন শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে।’
উল্লেখ্য, গত ৭ মে বিসিবির বিজ্ঞপ্তিতে একজনকে আজীবন বহিষ্কার ও বাকি চারজনকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। দোষ স্বীকার করে নেওয়া বাকি তিনজনের চূড়ান্ত শাস্তির ঘোষণা শিগগিরই আসবে বলে জানা গেছে।
