মে মাসে রেমিট্যান্স এলো ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার

আপডেট : ০২ জুন ২০২৬, ০৭:৫৮ এএম

চলতি বছরের মে মাসে দেশে এসেছে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাস আয়। এর আগে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল চলতি বছরের মার্চ মাসে, যার পরিমাণ ছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত মে মাসে প্রতিদিন দেশে গড়ে এসেছে প্রায় ১১ কোটি ৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে আসা এই অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পাশাপাশি ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মে মাসে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯০ হাজার ডলার। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৬ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে সবচেয়ে বেশি ২৩৮ কোটি ৬৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার। আর বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বমুখী ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মে মাসের প্রথম ২৩ দিনেই প্রায় ২৯৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রবাসীদের অতিরিক্ত অর্থ পাঠানো, ব্যাংকিং চ্যানেলে নগদ প্রণোদনা, ডলারের তুলনামূলক আকর্ষণীয় বিনিময় হার এবং হুন্ডির বিরুদ্ধে নজরদারি বৃদ্ধির কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলোর ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় প্রবাসীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চ্যানেল ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের আয় বৃদ্ধি এবং ঈদকেন্দ্রিক পারিবারিক ব্যয়ের প্রয়োজনও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, রেমিট্যান্সের এ শক্তিশালী প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনে সহায়তা করছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়ানোর সুযোগও পেয়েছে, যার পেছনে অন্যতম কারণ রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত