বগুড়ায় উত্তপ্ত হচ্ছে নির্বাচনী মাঠ

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১:৩৮ এএম

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ক্রমেই বগুড়ার নির্বাচনী মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে প্রায় প্রতিদিনই। এসব ঘটনায় একপক্ষ তার প্রতিপক্ষকে দায়ী করছে। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা হচ্ছে মামলা।

সর্বশেষ গত শুক্রবার রাতে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে নন্দীগ্রাম উপজেলার নামুইট এলাকায় মহাজোট প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া বেদম প্রহারে অন্তত আট সমর্থক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রানা।

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বগুড়ার সোনাতলায় নির্বাচনী প্রচারের সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপিপ্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অর্ধশতাধিক রাবার বুলেট ছোড়ে। সংঘর্ষে ও পুলিশের গুলিতে দুই পক্ষের ৩০ নেতাকর্মী আহত হন। পুলিশ বিএনপি প্রার্থীর বহর থেকে লাঠিসোটা, রড ও ইটের বস্তাভর্তি দুটি মাইক্রোবাস উদ্ধার ও ১৮ জনকে আটক করে। ওই ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে।বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে আদমদীঘি উপজেলায় মহাজোট সমর্থিত জাতীয় পার্টির প্রার্থীর একটি নির্বাচনী কার্যালয় পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

গত বুধবার রাতে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে মহাজোট প্রার্থী ও জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ওমরের নির্বাচনী সমাবেশে ককটেল ছোড়া হয়। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও সমাবেশ প- হয়ে যায়। একই দিন সন্ধ্যার পর পুলিশের উপস্থিতিতে শহরের সাতমাথায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের নির্বাচনী প্রচার চলাকালে হামলা চালানো হয়। সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ওই আসনের প্রার্থী বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ফরিদ। একই দিন ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।  নন্দীগ্রামের বুড়ইল ইউনিয়নের মুরাদপুর এলাকায় বুধবার রাতে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী গণসংযোগ চলাকালে হামলায় পাঁচজন আহত হন। ওই হামলার জেরে ধানের শীষ প্রতীকের তিনটি নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর ও পোস্টার ছেঁড়ার ঘটনা ঘটে।

১৭ ডিসেম্বর রাতে বগুড়া-২ আসনের (শিবগঞ্জ) মহাজোট প্রার্থী শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ প্রচার শেষে ফেরার পথে উপজেলার ভাইয়ের পুকুর এলাকায় ককটেল হামলায় তার দুই কর্মী আহত হন। বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের ধুনট বাজারে ১১ ডিসেম্বর হামলার শিকার হন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। তার গাড়িবহরে হামলা, তার ব্যক্তিগত গাড়িসহ অন্তত ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এর মধ্যে কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুনও দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশ মহাজোটের প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে হামলার ঘটনায় বেশকিছু নেতাকর্মীকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তারও করেছে।

জানতে চাইলে বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূইয়া বলেন, কিছু এলাকায় ছোটখাটো ঘটনা ঘটলেও তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি।

রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মেদ বলেন, বিভিন্ন স্থান থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ ব্যাপারে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত