সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

দায়িত্ব গ্রহণের পর জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

মন্ত্রীদের সম্পত্তির হিসাব প্রকাশ করা উচিত

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০২:৩৭ এএম

মন্ত্রীদের সম্পদের হিসাব নিয়মিত প্রকাশ করা উচিত বলে মনে করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট ক্ষমতায় গেলে মন্ত্রীদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করার ঘোষণা দেয়। সে অনুযায়ী বিভিন্ন ফরম প্রস্তুত করেছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কিন্তু পরে এক পরিপত্রে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়। এরপরই বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। 

গতকাল দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধি মন্ত্রীর কাছে জানতে চান, মন্ত্রীদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করার বিষয়ে তার ব্যক্তিগত মতামত কী? জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই প্রকাশ করা উচিত। কারণ গণতন্ত্রে জবাবদিহিতার একটা ব্যাপার আছে। সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের তো জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতেই হবে। মন্ত্রীদের সম্পদের হিসাব প্রকাশের কোনো উদ্যোগ নেবেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, একাদশ জাতীয় সংসদ এ ব্যাপারে ভালো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করা হয়েছে; আগামীতে আরও শক্তিশালী হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে দৃঢ় ভূমিকা নেবে।’ প্রধানমন্ত্রীর হাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকায় অনেকটাই নির্ভার এ মন্ত্রণালয়ের নতুন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে বসে ‘ভালো কিছু’ করার প্রত্যয় জানানোর পাশাপাশি অতীতের ‘ভুল-ত্রুটি’ শুধরে দক্ষ জনপ্রশাসন গড়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

নতুন প্রতিমন্ত্রী সচিবালয়ে পৌঁছার পর জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদ তাকে বরণ করে নেন। এরপর মন্ত্রণালয়ের দপ্তরপ্রধান ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এরপর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমার মাথার ওপর আছেন প্রধানমন্ত্রী। আশা করি, তার সহযোগিতায় সব বিষয়ই আমরা সুন্দরভাবে দেখতে পারব, সমস্যা হবে না। প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দেবেন, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তা বাস্তবায়ন করাটাই হচ্ছে আমার কাজ। কারণ এ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নিজেই।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানন্ত্রী চান গতিশীল, দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসন। গ্রামের সাধারণ মানুষ পর্যন্ত জনপ্রশাসনের সেবাগুলো অত্যন্ত সহজ ও সাবলীলভাবে পেতে পারে। সে জন্য আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা আছে। সেটা সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন করাই আমার কাজ।’

জনপ্রশাসনে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নতুন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাজে যদি কোনো অন্তরায়, বাধা বা ত্রুটি থাকে, তবে প্রথম কাজ হচ্ছে সেগুলো দূর করা। সাংবাদিকরা ত্রুটিগুলো তুলে ধরলে আমরা অবশ্যই দ্রুত পদক্ষেপের ভিত্তিতে সমাধান করব। মানুষের তো ভুল-ত্রুটি কিছু থাকে। এখন অনেক স্মার্ট অফিসার আছেন। ভালো ব্যুরোক্রেসি ছাড়া ভালো ও উন্নত দেশ সম্ভব নয়।’

জনপ্রশাসনে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন বলে অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের যে অনুযোগ- সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দশম সংসদের সদস্য ছিলাম। আমার এলাকা থেকে যারা ক্যাডার সার্ভিসে আছেন, তারা আমার কাছেও অভিযোগ-অনুযোগ করেছিলেন, আমি যাতে এ বিষয়ে সংসদে অবদান রাখি। বিষয়গুলো নিয়ে আমিও অবহিত। প্রধানমন্ত্রীও অনেকগুলো সলিউশন এরই মধ্যে দিয়েছেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেগুলো বাকি আছে আগামীতে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করে একটা সমতা ও সবার মধ্যে যাতে একটা সুসম্পর্ক থাকে, সেই বিষয়টি অবশ্যই দেখব।’

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেবে নতুন সরকার, তা জানতে চান একজন সাংবাদিক। জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেহেতু ঘোষণা দিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব এটা হবে। যখন এটা ঘোষণা করা হয়েছে তখন অনেক চিন্তা-ভাবনা, পরিকল্পনা করেই ঘোষণা করা হয়েছে।

ফরহাদ হোসেন মেহেরপুর-১ আসন থেকে এবার দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হয়েছেন। তার বাবা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত ছহিউদ্দীন বিশ্বাস। প্রয়াত জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের চাচাতো বোন সৈয়দ মোনালিসা ইসলাম শিলা নতুন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদের স্ত্রী।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত