নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দুর্নীতি প্রতিরোধ ও বেকার সমস্যার সমাধান করা। নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের নির্বাচনী ইশতেহারে এবার দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স ও ব্যাপক কর্মসংস্থানের কথা বলা হয়েছে। বারবার এই বিষয়টি তুলে আনায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহল বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখবে বলে মনে করছেন সরকারের মন্ত্রী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মকা- কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স। দুর্নীতির কারণে কোনো সরকারি প্রকল্প যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারির তাগিদ দেন তাজুল ইসলাম। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দুর্নীতি ও বেকার সমস্যার সমাধান বড় চ্যালেঞ্জ হলেও শেখ হাসিনার সরকার সবসময়ই চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করে।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, অতীতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসবের সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন বিশেষ করে দুর্নীতি ও অনিয়ম তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি দেওয়া হবে।
দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, একটি অভূতপূর্ব নির্বাচন ও অভূতপূর্ব ফলাফলের মাধ্যমে যে সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে তার জন্য চ্যালেঞ্জটাও বহুমুখী। আওয়ামী লীগকে এই বিপুল পরিমাণ জয় এনে দিতে যারা পরিশ্রম করেছেন, তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারাটাই মন্ত্রীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে অর্থনীতিতে যে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে এখন সেই প্রবৃদ্ধির সুফল সবাই পাচ্ছে কি না নতুন সরকারকে সেটি দেখতে হবে। কারণ যেভাবে প্রবৃদ্ধি বাড়ছে তাতে কর্মসংস্থান সেভাবে তৈরি হচ্ছে না আর এটিই বড় চ্যালেঞ্জ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাজনীতি আর নির্বাচন দুটোই চ্যালেঞ্জ আছে। এই চ্যালেঞ্জ দূর করার একমাত্র পথ হচ্ছে দুর্নীতি দূরীকরণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা। বেকার সমস্যার সমাধান এবং দুর্নীতি রোধ করাই হচ্ছে এই সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। শেখ হাসিনা হয়তো কঠোর অবস্থানে যাবেন কিছু নীতিতে। মন্ত্রিসভায় বেশিরভাগই নতুন এবং তরুণ। ঝুঁকি থাকলেও মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়া সদস্যদের নিয়ে আমি আশাবাদী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, এবারের মন্ত্রিসভায় নবীন ও প্রবীণদের সমন্বয় ঘটেছে। তরুণ মন্ত্রীরা দেশবাসীর আবেগ ও অনুভূতি বুঝতে পারবে এবং তারাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হতে পারবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগ তার ইশতেহারে সুশাসন প্রতিষ্ঠার স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে। এটি করতে হলে দুর্নীতিতে জিরো হতে হবে। আর দুর্নীতি কমাতে হলে বেকার তরুণদের ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
