জাকির নায়েকের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ০২:৫১ এএম

অর্থ পাচার আইনের (পিএমএলএ) আওতায় ইসলামি বক্তা জাকির নায়েকের কয়েক কোটি রুপির সম্পত্তি আবারও বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছে ভারতের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

গত শনিবার ইন্ডিয়া টুডেতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইডি জানিয়েছে, মানি লন্ডারিং অ্যাক্টের অধীনে জাকির নায়েকের মুম্বাই ও পুনের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের প্রাদেশিক আদেশ জারি করা হয়েছে। ওই স্থাবর সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য ১৬ কোটি ৪০ লাখ রুপি হবে বলে জানিয়েছে ইডি।

এ নিয়ে তৃতীয় দফায় অর্থ পাচার মামলায় জাকির নায়েকের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হলো। জাকির নায়েকের বাজেয়াপ্তের নির্দেশপ্রাপ্ত মোট সম্পদের পরিমাণ ৫০ কোটি ৪৯ লাখ রুপি।

২০১৬ সালে ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) প্রথম জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে আনলফুল অ্যাকটিভিটিস আইনের আওতায় প্রথম মামলা করে। বিভিন্ন স্থানে বক্তৃতার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে ওই মামলা করা হয়। একই বছর নিজের বক্তৃতা নিয়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েন জাকির নায়েক। তখন তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও উগ্রপন্থাকে উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিল ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। একই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়। সে সময় জাকির নায়েকের প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন (আইআরএফ) ও পিস টিভি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এনআইএ দাবি করে, জাকির নায়েক একটি বিল্ডার্স কোম্পানিকে তার নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ পাঠান। কিছুদিন পরেই কোম্পানিটি আবারও জাকির নায়েককে ওই অর্থ ফেরত দেয়। এরপর তিনি ওই অর্থ তার স্ত্রী, সন্তান এবং ভাগ্নের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন। ওই অ্যাকাউন্টগুলো থেকে আবারও ওই বিল্ডার্স কোম্পানিটিকে তাদের নামে ফ্ল্যাট বুকিং দেওয়ার জন্য একই পরিমাণ অর্থ পাঠানো হয়। এমন লেনদেনে সন্দেহের সৃষ্টি হলে তদন্তে নামে এনআইএ।

আদালতে অভিযোগ ওঠার পর ২০১৬ সালের ১ জুলাই ভারত ছাড়েন জাকির নায়েক। ভারতে মামলা হওয়ার পর জাকির নায়েক মালয়েশিয়ায় আশ্রয় চাইলে তাকে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয় তৎকালীন নাজিব রাজাক সরকার। এরপর থেকে তিনি মালয়েশিয়ার পুত্রজায়া শহরে বসবাস করে আসছেন। মোদি সরকার বেশ কয়েকবার মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে জাকির নায়েককে ফিরিয়ে আনতে আলোচনায় বসে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত