বিদ্যুৎ খাতে কঠিন শর্তে চীনের কাছ থেকে ঋণ নিচ্ছে সরকার। দুটি প্রকল্পে চীনের এক্সিম ব্যাংক থেকে ২৯৭ কোটি ডলার (সাড়ে ২৪ হাজার কোটি টাকা) ঋণ নিচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী মাসেই এই ঋণচুক্তি সম্পন্ন হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) বলছে, গত বছর পর্যন্ত চীনা ঋণের যে সুদের হার ছিল, এখন সেটা আর থাকছে না। সুদের হার বেশি হবে। তবে ইআরডি সেটা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
ইআরডির এক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে দুটি প্রকল্পে এই অর্থ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ‘এক্সপানশন অ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং অব পাওয়ার সিস্টেম নেটওয়ার্ক আন্ডার ডিপিডিসি এরিয়া’ শীর্ষক প্রকল্পে নেওয়া হচ্ছে ১৩২ কোটি ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় (৮৩ টাকা প্রতি ডলার) এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা। অন্য প্রকল্পটির নাম ‘পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক স্ট্রেংদেনিং প্রজেক্ট আন্ডার পিজিসিবি’। এতে চীন থেকে নেওয়া হবে ১৩ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ বিভাগের অনুরোধে চীনের এক্সিম ব্যাংক এ ঋণ দেবে। ঋণের শর্ত ও সুদের হার অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার চেয়ে অনেক কঠিন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ৩ শতাংশ
সুদের হার। সার্ভিস চার্জসহ পরিশোধ করতে হবে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা ফি ধরা হয়েছে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ এবং প্রতিশ্রুতি ফি শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ। ঋণ পরিশোধে ৫ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০ বছর সময় পাওয়া যাবে। এ ছাড়া চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থাপনা ফি পুরোটা পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব (এশিয়া উইং) জাহিদুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, চীন সরকারের সঙ্গে পাইপলাইনে থাকা প্রকল্পের মধ্যে বিদ্যুৎ অন্যতম। আগামী মাসের মধ্যে বিদ্যুতের মেগা দুটি প্রকল্পে চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। এটি হলে ২৯৭ কোটি ডলারের ঋণ পাওয়া যাবে চীনের এক্সিম ব্যাংক থেকে।
সুদের হার নিয়ে তিনি বলেন, ‘গত বছর পর্যন্ত চীনের ঋণের সুদের হার ছিল ২ শতাংশ। এখন সেটা আরও ১ শতাংশ বাড়ছে। তবে এটা পরিবর্তন হতে পারে। আমরা নেগোসিয়েশন (দরকষাকষি) করছি। সহজ শর্তের ঋণসুবিধা কিছুটা সংকুচিত হয়ে আসছে। তবে এসব ঋণে সুদের হার বেশি হলেও ঋণ নেওয়া যুক্তিযুক্ত। কেননা আমরা যথাসময়ে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে এর চেয়ে অনেক বেশি রিটার্ন পাব বলে আশা করি।’
বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব আহমেদ কায়কাউস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন করা ও নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। এখন অনেক সময় রাষ্ট্রীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। আশা করি এই অবস্থা থেকে উত্তরণ করা সম্ভব হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বৈদেশিক সহায়তার বিষয়টি নেগোসিয়েশন করে ইআরডি। সুদের হার কত হবে, সেটা তারা দেখবে। তবে আমরা যথাসময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করার বিষয়ে উদ্যোগ নেব, যেন ব্যয় আর না বাড়াতে হয়।’
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, ‘পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক স্ট্রেংদেনিং প্রজেক্ট আন্ডার পিজিসিবি’ প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৪১টি নতুন গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণ, ৫৮টি বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণ, ৭৬৫ কিলোমিটার নতুন সঞ্চালন লাইন নির্মাণ এবং ২২৫ কিলোমিটার বিদ্যমান সঞ্চালন লাইনের সংস্কার করা হবে। অন্যদিকে ‘এক্সপানশন অ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং অব পাওয়ার সিস্টেম নেটওয়ার্ক আন্ডার ডিপিডিসি এরিয়া’ প্রকল্পের মাধ্যমে ডিপিডিসির আওতায় থাকা এলাকায় গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এজন্য ১৩২ কেভি লাইনের ৫ হাজার ৩৩০ এমভিএ ট্রান্সফরমার এবং ৩৩ কেভির ৪ হাজার ৮০ এমভিএর ক্ষমতা বাড়ানো হবে।
