ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পণ্য লোপাট

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০১:৪৭ এএম

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চারটি অংশে পণ্য লোপাটের ঘটনা ঘটছে নিয়মিত।  পণ্য লোপাট চক্রের কার্যক্রম বন্ধ করতে তৎপর হয়েছে পুলিশ প্রশাসন। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি মাসে পৃথক দুই ঘটনায় লোপাট চক্রের ১৪ জন ধরা পড়লেও তাদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হচ্ছে না। লোপাটের তালিকায় রয়েছে তৈরি পোশাক, পোশাক তৈরির কাঁচামাল, রোল কাপড়, মসলা, গম, চাল, ডালসহ নানাবিধ পণ্যবাহী গাড়ি। পণ্য চুরি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

সিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (গোয়েন্দা) মো. কামরুজ্জামান এ ব্যাপারে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারে বিশেষ কিছু কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছেন তারা। অপরাধীরা ধরা পড়ছে, চোরাই পণ্যও উদ্ধার হচ্ছে। নেপথ্যের কারিগরদের ব্যাপারেও চলছে গোয়েন্দা অভিযান।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের দেওয়া তথ্যমতে, দুর্বৃত্তদের মূল টার্গেট শিল্প পণ্যবাহী ট্রাক-কাভার্ডভ্যান। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চারটি অংশে তাদের আনাগোনা বেশি। কাঁচপুর-মেঘনা, মেঘনা-দাউদকান্দি, দাউদকান্দি-ফেনী ও সীতাকু--চট্টগ্রাম এই চার পয়েন্টে পণ্য লোপাটের ঘটনা ঘটছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কাভার্ড ভ্যানবাহী রপ্তানি পণ্য অভিনব কৌশলের চুরিতে রয়েছে পরিবহন চালক, তাদের সহকারী, ব্যবসায়ী, দোকানি, ডিপো মালিক, নিরাপত্তাকর্মী, শ্রমিক, ক্রেতাসহ ৩৫ সদস্যের এক একটি চক্র। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় তারা ছড়িয়ে আছে। তাদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে ঘটে একেকটি চুরির ঘটনা। টার্গেট নির্ধারণ হয় ঢাকা বা অন্য জায়গা থেকে রপ্তানির জন্য পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে আনার প্রক্রিয়া শুরুর পর।

জিজ্ঞাসাবাদে পণ্য লোপাট চক্রের সদস্যরা জানিয়েছে, কাভার্ডভ্যান কুমিল্লা, মিরসরাই, সীতাকু- বা চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশের পর সুযোগ বুঝে পুরো চুরির কাজ শেষ করা হয়। এসব জায়গায় তাদের নির্ধারিত ডিপোতে কাভার্ডভ্যান ঢুকিয়ে ৪৫ মিনিট থেকে ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই চুরির কাজ শেষ করে তারা। কাভার্ডভ্যানের সিলগালা তালা না ভেঙে দরজার নাট খুলে ফেলা হয়। এরপর ভেতরে থাকা কার্টন থেকে অর্ধেক পণ্য সরিয়ে পুনরায় স্কচটেপ লাগিয়ে দেয় তারা। কোনো কার্টন পুরো ফাঁকা করা হয় না। পরে এসব পণ্য ঢাকা ও চট্টগ্রামের বড় বড় শপিংমলগুলোয় বিক্রি করা হয়। কিছু কিছু রপ্তানিও করে তারা।

সম্প্রতি মিরসরাই জোরারগঞ্জ চিনকি আস্তানা এলাকার একটি ডিপোর মালিক আনোয়ারুল আজিম বাবুকে  গ্রেপ্তার করেছে  পুলিশ।  আনোয়ারুল আজিম বাবু জানান, তিন বছর আগে বড় মিয়া নামে একজনের পরামর্শে ডিপো তৈরি করা হয়। প্রতি মাসে এখানে পণ্য সরানো হয় সাত-আটটি কাভার্ডভ্যান থেকে। পণ্য সরাতে সময় লাগে ঘণ্টা দুয়েক। প্রতিটি কাজের জন্য পৃথক লোক রয়েছে। তারা চুরি করা পণ্যের পরিমাণ অনুযায়ী ভাগ পায়। পরে পণ্যগুলো ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন মার্কেটের নির্দিষ্ট ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়।

চলতি মাসে পৃথক দুটি অভিযানে ধরা পড়েছে পণ্য লোপাট চক্রের ১৪ সদস্য। এর মধ্যে গত ১২ জানুয়ারি ভোরে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে রপ্তানি পণ্য চোর চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উৎপল বড়ুয়া বলেন, রপ্তানির জন্য ঢাকা থেকে পতেঙ্গা এলাকার ডিপোয় পাঠানো ১ হাজার ১ কার্টন থেকে ৬ হাজার ৭০৪ পিস পণ্য চুরি করে আসামিরা।

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানা এলাকায় একটি গোডাউন থেকে ১৫৫ বস্তা চোরাই রাসায়নিক পণ্য উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযান পরিচালনাকারী নগর গোয়েন্দা (বন্দর) বিভাগের উপকমিশনার এস এম মোস্তাইন হোসেন বলেন, ১৫ বছর ধরে এই চক্র বিভিন্ন কাভার্ডভ্যান থেকে পণ্য চুরির কাজে জড়িত। চক্রটির শীর্ষ হোতা সেন্টু হাওলাদারসহ অন্য সদস্যরা গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাকি দুই ব্যক্তি আবু ও গালকাটা সুমন বর্তমানে পলাতক রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত