বুড়িগঙ্গা তীরের আরও ১৪৫ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৯, ০২:৩৯ এএম

উচ্ছেদ অভিযানের দ্বিতীয় দিনে গতকাল বুধবার ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থানাধীন নবাবচর মৌজার দক্ষিণ মুন্সিহাটি এলাকায় বুড়িগঙ্গার তীরে ১৪৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

এর আগে অভিযানের প্রথম দিন গত মঙ্গলবার বুড়িগঙ্গার তীর দখল করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ১৬৪টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বিআইডব্লিউটিএ।

গতকাল বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা কামরাঙ্গীরচরের মুন্সিহাটি এলাকায় সিরাজউদ্দিন মালিকের একটি প্লাস্টিক কারখানার দোতলা ভবনের বর্ধিতাংশ অপসারণের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেন। উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া উচ্ছেদ অভিযানকারীরা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কামরাঙ্গীরচর থানার নবাবচর মৌজায় তিনটি বহুতল পাকা ভবন, ৪৫টি আধা পাকা ভবন এবং ৯৭টি ছোট-বড় টিনশেডের ছাপরা ও টংঘর উচ্ছেদ করেন।

উচ্ছেদ হওয়া প্লাস্টিক কারখানার মালিক সিরাজউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৯৬ সালে নবাবচর মৌজায় ৪৮ কাঠা জমি কিনে সেখানে দুটি পাকা ভবন নির্মাণ করেন তিনি। বিআইডব্লিউটিএ’র লোকজন তাদের ভবনটি উচ্ছেদের বিষয়ে কোনো নোটিস দেননি। তার দাবি, তিনি নদীর জায়গা দখল করেননি। উচ্ছেদ অভিযানকারী দল তার ক্রয়কৃত সম্পদের প্রায় ১০০ ফুট জায়গা নদীর জায়গা দাবি করে উচ্ছেদ করেছে।

তবে সিরাজউদ্দিনের অভিযোগ অস্বীকার করেন বিআইডব্লিউটিএ’র পরিচালক (বন্দর) শফিকুল হক। তিনি উচ্ছেদ অভিযান বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, অবৈধ দখলদারদের নোটিস দেওয়া হয়নি, এ অভিযোগ ঠিক নয়। নদীর তীরে অবৈধ দখলদারদের তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একাধিকবার নোটিস দেওয়া হয়েছে। বরং তারা সেটিতে কর্ণপাত করেননি। কারও ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গায় স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। নদীর জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান এম মোজাম্মেল হক, ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম-পরিচালক এ কে এম আরিফউদ্দিন, উপপরিচালক মিজানুর রহমান, সহকারী পরিচালক নুর হোসেনসহ পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত