রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সংসদে প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী

জামায়াত নিষিদ্ধে রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:০৪ এএম

জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রশ্নে রায় পর্যন্ত অপেক্ষার কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে আদালতে চলমান মামলার রায় শিগগিরই হবে, এমন আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জামায়াতকে এদেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের  নিষিদ্ধ করার জন্য কোর্টে একটি মামলা রয়েছে। সেই মামলার রায় যতক্ষণ পর্যন্ত না হবে, ততক্ষণ আমরা কোনো কিছু করতে পারব না। শিগগিরই যদি রায় হয়ে যায়, তাহলে জামায়াত দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তরপর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শর্তপূরণ করতে পারেনি বলে নির্বাচন কমিশন জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করেছে। এখন তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার একটা মামলা আদালতে রয়ে গেছে। এই মামলার রায় যতক্ষণ পর্যন্ত না হবে জামায়াত নিষিদ্ধে রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে সেখানে বোধ হয় আমরা কোনোকিছু করতে পারি না। আমি আশা করি কোর্টের রায় খুব শিগগির যদি হয়ে যায়, তাহলে জামায়াত দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে।

শেখ হাসিনা এ সময় বলেন, নির্বাচনে জামায়াতকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। এটা ন্যক্কারজনক- তারা নিবন্ধিত না, সেই অবস্থাতেও বিএনপির সঙ্গে জোট করে ‘জামায়াতে ইসলামী’ নামে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছে। জনগণকে ধন্যবাদ জানাই তারা জামায়াতকে ভোট দেয়নি, প্রত্যাখ্যান করেছে।

জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জামায়াত যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর দোসর ছিল, এদেশে গণহত্যা থেকে শুরু করে নারী ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করেছে। স্বাধীনতার পর তাদের অপরাধের বিচার জাতির পিতা শুরু করেছিলেন।  জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার পর জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে। ক্ষমতায় এসে তাদের বিচার বন্ধ করে দেয়, তাদের ভোটের অধিকার দেয়, রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয়। যেটা আমাদের সংবিধানে ছিল না। সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত করে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয়।

তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা অপরাধী, মানুষ খুন করা থেকে শুরু করে যারা মানিলন্ডারিং করেছে, এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করেছে, দুর্নীতির এসব মামলায় যারা সাজাপ্রাপ্ত, যারা বিদেশে পালিয়ে আছে, পলাতক আসামিÑ তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের আলোচনা চলছে। আমি বিশ্বাস করি, আমরা তাদের ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করতে পারব।

রুস্তম আলী ফরাজীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে বরিশালে রেল যোগাযোগ স্থাপনে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

আমরা রূপপুরে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছি। আমরা আরেকটি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ করব। সেটি দক্ষিণাঞ্চলে করব। এই পরিকল্পনা আমাদের আছে।

জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশিদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় জায়গা নেই। যে জায়গা আছে সেটা চাষের জমি, সেটা নষ্ট করতে চাই না। চর জাজিরায় যে বিমানবন্দর করার কথা বলা হচ্ছে সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

চলতি বছরের মধ্যেই পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ শেষ করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের দীর্ঘতম এই সেতু নির্মাণে দেরির কারণ ব্যাখ্যা করে শেখ হাসিনা বলেন, কারিগরি দিক থেকে অত্যন্ত জটিল এ সেতুর পাইল ড্রাইভিং চলাকালে সয়েল কন্ডিশনের কারণে কিছু পাইলের পুনরায় ডিজাইন করতে হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত