তিন জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত মাদক মামলার ৩ আসামি

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৩১ এএম

মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা ও কুষ্টিয়ায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, যারা অস্ত্র ও মাদক আইনের মামলার আসামি বলে পুলিশ জানিয়েছে। গত শনিবার গভীর রাতের এসব ঘটনায় নিহতরা হলেন মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার কালীরচরের মোহন বেপারীর ছেলে হুমায়ুন বেপারী (৩০), কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার সুহিলপুর গ্রামের বাবর আলীর ছেলে মঙ্গল মিয়া (৫৪) ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের তারাগুনিয়া এলাকার মিরাজ মালিথার ছেলে নাজমুল মালিথা (৪০)। দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে বিস্তারিত :

মুন্সীগঞ্জ : সদর থানার ওসি মো. আলমগীর হোসাইন দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠ মুক্তারপুর থেকে ডাকাতি ও অস্ত্র মামলার আসামি হুমায়ুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত শনিবার দিবাগত গভীর রাতে অস্ত্র উদ্ধার ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তাকে নিয়ে পুলিশ সদরের তালেশ্বর এলাকায় অভিযানে গেলে পুলিশ গুলির মুখে পড়ে। তখন পাল্টা গুলি ছোড়ে পুলিশ। একপর্যায়ে হুমায়ুন পুলিশের গাড়ি থেকে লাফিয়ে নেমে পালাতে চেষ্টা করে। গোলাগুলি থেমে গেলে হুমায়ুনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে ম্যাগাজিনসহ একটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি গুলি, একটি গুলির খোসা, দুটি ক্রিজ ও দুটি ধারালো চাকু উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ওসি আলমগীর বলেন, এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ এসআই দেবাশীষ কুণ্ডু ও এএসআই মো. আলহাজ উদ্দিনকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হুমায়ুনের বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জ সদর ও চাঁদপুরের উত্তর মতলব থানায় ছয়টি অস্ত্র ও ডাকাতি মামলা রয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে মরদেহ নিতে এসে হুমায়ুনের খালা লাকী আক্তার বলেন, ‘২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রামে প্রতিপক্ষের হাতে হুমায়ুনের বাবা ও মামা ফয়েজ মিজি খুন হন। ওই সময় নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজে অনার্স ফাইনালের ছাত্র হুমায়ুন হত্যার ঘটনা মেনে নিতে না পেরে নৌ-ডাকাতদলের সদস্যদের সঙ্গে সখ্য করে তোলে।’

কুমিল্লা : চান্দিনা থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল ফয়সল জানান, গত শনিবার রাত ৩টায় পুলিশ উপজেলার তীরচর গ্রামের আলমগীর হোসেন ভূইয়া বাড়িসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে পুলিশ গুলির মুখে পড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাদক কারবারি মঙ্গল মিয়াকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মঙ্গলের বিরুদ্ধে মাদক আইনে চান্দিনাসহ বিভিন্ন থানায় ২১টি মামলা আছে।

ওসি আবুল বলেন, এঘটনায় আহত চান্দিনা থানার এএসআই দেলোয়ার হোসেন ও কনস্টেবল হাসানুজ্জামানকে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি, দুটি গুলি, ৫০০ ইয়াবা ও ৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি নাসির উদ্দিন বলেন, গত শনিবার রাত ২টার দিকে পুলিশের একটি দল সদরের হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের শালদহ এলাকার গড়াই নদির বালুচরে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে গুলির মুখে পড়ে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। গোলাগুলি থেমে গেলে গুলিবিদ্ধ নাজমুলকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে ৬০০ ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানার এসআই রাশেদ ও আতিকুল ইসলাম, এএসআই কামরুজ্জামান ও কনস্টেবল ইমরান হোসেন আহত হয়েছেন। নাজমুলের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় একাধিক মামলা আছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত