পারকি সমুদ্রসৈকতে আবর্জনার স্তূপ

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৯, ১২:৩৪ এএম

অব্যবস্থাপনায় আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রামের আনোয়ারার পারকি সমুদ্রসৈকত। যতদূর চোখ যায় প্রাকৃতিক দৃশ্যের পাশাপাশি চোখে পড়ে সৈকতে উচ্ছিষ্ট-আবর্জনার স্তূপ। এ কারণে দিন দিন সৌন্দর্য হারাচ্ছে স্থানীয়ভাবে ‘মিনি কক্সবাজার’ হিসেবে পরিচিত এই সৈকত। ধবধবে সাদা বালুর দ্বীপে আবর্জনার স্তূপ দেখে অসন্তোষ জানান পর্যটকরা।
প্রকৃতির নিবিড় সৌন্দর্য দেখতে আসা পর্যটকদের প্রত্যাশা একটি পরিচ্ছন্ন সৈকত। সৈকত অপরিচ্ছন্ন থাকায় বিরক্ত হয়ে অনেক পর্যটক এখান থেকে ফিরে যাচ্ছেন।

গত মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, সৈকতের প্রধান পয়েন্ট থেকে লুসাই পার্ক পর্যন্ত আবর্জনার স্তূপে ভরা। ডাবের ছোবড়া, খড়ের গাদা, জুস ও চিপসের খালি প্যাকেটসহ নানা ধরনের আবর্জনা জমে আছে। বর্জ্যরে দুর্গন্ধে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এভাবে সৈকতের প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে আবর্জনা। এসব ডিঙিয়ে পর্যটকরা সৈকতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

সৈকতের ভাসমান ব্যবসায়ীরা জানান, ব্যবসায়ী সমিতিকে প্রতিদিনের জন্য ১০০ টাকা দিয়ে তারা ব্যবসা করছেন। সৈকতে দুই শতাধিক ভাসমান দোকান রয়েছে। সে হিসাবে প্রতিদিন ২০ হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয়। তবে সমিতি নিয়মিত সৈকত যে পরিষ্কার করছে না তা আবর্জনার স্তূপ দেখে সহজেই বোঝা যায়। চাঁদা নেওয়ার কথা স্বীকার করে পারকি সৈকত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জামাল হোসেন বলেন, ‘তিনজন শ্রমিক দিয়ে প্রতি মাসে সৈকত পরিষ্কার করি। এতে ওই টাকা ব্যয় করা হয়।’

পর্যটক মুনতাসির মামুন বলেন, সৈকত ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ, এটা খুবই দুঃখজনক। এসব ময়লা-আবর্জনা সৈকতের সৌন্দর্যহানি করছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বিদেশি পর্যটকরা উৎসাহ হারাবে।

চট্টগ্রাম সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও স্থানীয় বারশত ইউপির চেয়ারম্যান এম এ কাইয়ুম শাহ্ বলেন, ‘সৈকতটি নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে কমপক্ষে পাঁচজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দরকার। ইউনিয়ন পরিষদে বরাদ্দ না থাকায় এসব কর্মী নিয়োগ করা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় আমি একাধিকবার তুলেছি।’

আনোয়ারা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত