ইউএস ট্রেড শো উদ্বোধনীতে বাণিজ্যমন্ত্রী জিএসপি স্থগিত রাখার কোনো কারণ নেই

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৯, ১২:১২ এএম

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, বাংলাদেশি পণ্যে আমেরিকার আর অগ্রাধিকারমূলক বাজার প্রবেশাধিকার বা জিএসপি সুবিধা স্থগিত রাখার কোনো কারণ নেই। যে কারণে দেশটি জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেছিল, বাংলাদেশ তা পূরণ করেছে। জিএসপি স্থগিত থাকায় বাংলাদেশের আর্থিক ক্ষতি না হলেও ভাবমূর্তির ক্ষতি হয়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের উচিত হবে জিএসপি সুবিধা  বাংলাদেশ দেশকে ফিরিয়ে দেওয়া।

গতকাল বৃহস্পতিবার ইউএস ট্রেড শো, ২০১৯-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে টিপু মুনশি এসব কথা বলেন। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) বাংলাদেশ এবং ঢাকার মার্কিন দূতাবাস যৌথভাবে ২৬তম ইউএস ট্রেড শোর আয়োজন করেছে। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। অ্যামচেম সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল বরার্ট মিলার।

২০১৩ রানা প্লাজা ধসে সহস্রাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংগঠন ‘আমেরিকান অর্গানাইজেশন অব লেবার-কংগ্রেস ফর ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (এএফএল-সিআইও)’-এর আবেদনে ওই বছরের ২৭ জুন বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করা হয়। এর আগ পর্যন্ত তৈরি পোশাক বাদে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যে ৯৯ ভাগ পণ্য আমেরিকার বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধায় প্রবেশের সুযোগ পেত। জিএসপি ফেরতের জন্য তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশের উন্নতি এবং শ্রমিকদের সংগঠন করার অধিকারসহ ১৬টি শর্ত দেয় আমেরিকা।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমেরিকার বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ কোনো জিএসপি সুবিধা পেত না। তামাক, সিরামিক, প্লাস্টিকের মতো অন্যান্য পণ্যে জিএসপি সুবিধা দেওয়া হতো। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর সে জিএসপি সুবিধা স্থগিত করা হয়। তৈরি পোশাকের ক্রেতাদের পরামর্শে পোশাক কারখানাগুলোর পরিবেশ উন্নত, বিল্ডিং সেফটি, ফায়ার সেফটি নিশ্চিত করা হয়েছে। শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ফলে এখন জিএসপি স্থগিত রাখার কোনো কারণ নেই।

১৯৯২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সঙ্গে যৌথভাবে ইউএস ট্রেড শো আয়োজন করে আসছে অ্যামচেম। এবারের আয়োজনে ৪৬টি প্রতিষ্ঠান ৭৪টি বুথে তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থা এবং ভিসাবিষয়ক দুটি সেমিনারও রয়েছে এ আয়োজনে। এ বছরের প্রদর্শনীতে ডায়াগনস্টিক অটোমেশন ইনকরপোরেশন, প্যারাসাউন্ড, দ্য কেলগ কোম্পানি এবং অ্যাপল নতুন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। মেলায় প্রবেশ ফি ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে স্কুল শিক্ষার্থীরা ড্রেস পরে এবং নিজের আইডি কার্ড প্রদর্শন করে ফি ছাড়া মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত আর্ল বরার্ট  মিলার বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক একটা ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ৪৩ শতাংশ বেড়ে ২১০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। আর গত ১০ বছরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে ৮২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর উচ্চমানের পণ্য ও সেবা বাংলাদেশে প্রদর্শনের এবং বাংলাদেশে এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদান রাখার ভালো সুযোগ হচ্ছে ট্রেড শো। বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং রপ্তানির বড় বাজার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান ধরে রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত