নোয়াখালীতে যুবদল না’গঞ্জে ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যা

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৯, ০৪:২৩ এএম

সোনাইমুড়ীতে যুবদলের এক নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ গ্রামের চায়ের দোকান থেকে তাকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে কয়েক অস্ত্রধারী। নিহত আমজাদ হোসেন (৪২) আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি। সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ ধন্যপুর গ্রামের একটি খালের পাড় থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

রূপগঞ্জে এক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত বুধবার রাতে ওই উপজেলার ভোলাবের টাওড়া শিমুলতলী এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নিহতের তিন বন্ধুকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত সোহেল মিয়া (২৬) নারায়ণগঞ্জের টাওড়া এলাকা নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি ভোলাব ইউনিয়ন ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক ছিলেন।

এলাকাবাসীর বরাতে সোনাইমুড়ী থানার ওসি আবদুস সামাদ বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে ধন্যপুর ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি আমজাদ তার গ্রামের একটি দোকানে বসে চা পান করছিল। এ সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটর সাইকেলযোগে আসা ৮-১০ জন অস্ত্রধারী তাকে তুলে নিয়ে যায় এবং গ্রামের এক প্রান্তে খালের পাড়ে নিয়ে পিটিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে।

নিহতের বাবা নুরু মিয়া জানান, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তার বাড়িতে শাসকদলীয় ক্যাডাররা হামলা ও ভাঙচুরের পর আমজাদ ঢাকায় চলে যায়। গত মঙ্গলবার সে এলাকায় ফিরে আসে। আমিশাপাড়া ইউপি যুবদলের সেক্রেটারি মো. বাবলু অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের ক্যাডাররাই আমজাদকে হত্যা করেছে।

এ ব্যাপারে নোয়াখালী পুলিশ সুপার ইলিয়াছ শরীফ বলেন, ‘খুনি যেই হোক, যত শক্তিশালীই হোক তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশ খুনিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।’

নিহত ছাত্রলীগ নেতার মা দুধমেহের জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত সোহেলকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। পরে তার দুই পায়ের রগ কেটে রাস্তার পাশে ফেলে যায়। খবর পেয়ে স্বজনরা সোহেলকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘পূর্বশত্রুতার জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগে সোহেলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওই ঘটনার যোগসূত্র আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে সোহেলের তিন বন্ধু একই এলাকার সিরাজ, মজিবুর ও হাসানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে।’ হত্যার ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত