প্রকল্প তদারকিতে কাজ করে সরকারের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের কলেবর বাড়ার কারণে প্রকল্পের তদারকি ঠিক মতো করতে পারছে না। এই অবস্থায় বিভাগভিত্তিক আইএমইডি শাখা অফিস স্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে, ঢালাওভাবে বিদেশি লোক না এনে, অবসরপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তাদের প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগ দেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সভায় এসব নির্দেশনা দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি’র চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই সভা হয়। সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, আমাদের অর্থনীতির বর্তমান যে আকার, বহর আইএমইডির পক্ষে এটা পুরোপুরি তদারকি করা ফিজিক্যালি, অর্থনৈতিকভাবে, বুদ্ধিবৃত্তিক ও কারিগরিভাবে সামর্থ্যবান নয়। তাদের আরও বেশি লোক দরকার। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ফিল্ডে তাদের কার্যক্রম বাড়ানোর জন্য প্রত্যেক বিভাগে আমরা একটা করে আইএমইডির অফিস করব। সেখানে তাদের নিজস্ব ল্যাবরেটরি থাকবে। লোকবল, যন্ত্রবল, গাড়িবল ইত্যাদিও বাড়ানো হবে।’
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আরেকটি অর্ডার দিয়েছেন, জেলা ও উপজেলাভিত্তিক যেন মাস্টারপ্ল্যান থাকে। প্রকল্পের যে আপ টু ডেট ম্যাপ থাকে। প্রতিবছর যখন প্রকল্প করি, তখন ওই ম্যাপের সঙ্গে যেন মিলিয়ে করি।’
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রকল্প শেষ হলে কে কোথায় যায় কোনো খোঁজখবর পাওয়া যায় না। গাড়ি কোথায় যায়, অফিস কী হয়, ম্যাপ, যন্ত্রপাতি, কম্পিউটারসÑ এগুলো খুঁজে পাওয়া যায় না। এগুলো অবশ্যই কর্র্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে যেতে হবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশের বাইরে থেকে প্রকল্পের জন্য বিশেষজ্ঞ কিংবা কনসালটেন্ট না এনে দেশের অবসারপ্রাপ্ত টেকনিক্যাল ব্যক্তিদের এসব ক্ষেত্রে নিয়োগ দেওয়ার জন্যও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন । এক্সপার্ট, কনসালটেন্ট যতটুকু সম্ভব নিজেদের দেশের অভ্যন্তর থেকে নিতে হবে। আমাদের অনেক অবসরপ্রাপ্ত টেকনিক্যাল লোক বসে আছে। যারা অনেক বছর কাজ করেছে, ভালো অভিজ্ঞতা আছে। তাদের আমরা সাময়িক ভিত্তিতে কাজ দিতে পারি। এ তো অন্যায় কিছু নয়।
তিনি বলেন, প্রত্যেকটি প্রকল্প শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে প্রজেক্ট কমপ্লিশন রিপোর্ট (পিসিআর)। অনেকে দেয় না। এখানে গাফিলতি আছে। এটা ঠিক নয়।
প্রকল্প করার সময় ফসলি জমি, নদী, জলাশয় এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিটি স্থাপনা নির্মাণের সময় যেন ভূমিকম্প, বজ্রপাত, বন্যা নানা ধরনের বিষয় মাথায় রাখার নির্মাণের নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী।
উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি)র বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ডিপিপি হতে হবে স্বয়ংসম্পূর্ণ, তার নিজস্ব রূপে। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দেশের এলাকাগুলোকে জোনিং করতে বলেছেন। শিল্প এলাকা, শিক্ষা এলাকা, বসবাস এলাকা এগুলোকে চিহ্নিত করার জন্য বলেছেন।’
