তিন সংগঠনের সংবাদ সম্মেলন

গ্যাসের দাম বাড়লে বস্ত্র খাত বিপর্যয়ে পড়বে

আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৯, ০৩:২৮ এএম

শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত গ্যাসের দাম এক লাফে ১৩২ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাবকে অযৌক্তিক ও নজিরবিহীন হিসেবে বর্ণনা করে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, এভাবে গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে বস্ত্র ও পোশাক খাতে বিপর্যয় নেমে আসবে; বাড়তি মূল্য পরিশোধ করতে গিয়ে শিল্পের প্রবৃদ্ধি ও বিকাশ রুদ্ধ হবে। গতকাল বুধবার বিজিএমইএ ভবনে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বস্ত্র খাতের মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ যৌক্তিকভাবে গ্যাসের দাম বাড়ানোর আহ্বান জানায়।

তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ক্রমেই কমছে। দর কমার এ সুবিধা নিয়ে তিতাস গ্যাস কোম্পানি বড় অঙ্কের মুনাফা করছে। তিতাস সম্প্রতি তাদের শেয়ারহোল্ডারদের ৩৫ শতাংশ মুনাফা দিয়েছে। আবার দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে সরকারি কোম্পানিটি বলেছে যে, তারা ভর্তুকি দিয়ে চলছে। এ ধরনের স্ববিরোধী অবস্থান বন্ধ করতে হবে।

বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, তিতাসসহ গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গণশুনানি করেছে। এতে শিল্প খাতে প্রতি ঘনফুট গ্যাস ৭ টাকা ৭৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৮ টাকা ৪ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি হলে পোশাক খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে ৫ শতাংশ। বিশ্ববাজারে পোশাকের দর না বাড়লেও প্রতিবছর গড়ে এই খাতে ৮ শতাংশ খরচ বাড়ছে।

তিনি বলেন, ‘নতুন মজুরিকাঠামোর কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। ইউরোপে ৭ শতাংশ ও যুক্তরাষ্ট্রে ৪ শতাংশ কমেছে পোশাকের দর। এ সময় মুদ্রার প্রতিকূল বিনিময় হার, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ এবং বিদেশি উৎস থেকে ঋণ গ্রহণের সুবিধা বন্ধ হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পোশাক ও বস্ত্র খাতকে টিকিয়ে রাখার জন্য এ খাতকে গ্যাসের বর্ধিত মূল্য থেকে অব্যাহতি দিন।’

আলাদা লিখিত বক্তব্যে বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলি খোকন বলেন, ‘গত ১০ বছরে ৬ বার গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম ৪০০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। গত দুই দফায় গ্যাসের দর বাড়ার কারণে সুতা উৎপাদন খরচ কেজিতে বেড়েছে সাড়ে আট টাকা বা ৯ সেন্ট। এতে বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কেজিতে ৩০ সেন্ট লোকসান দিয়ে সুতা বিক্রিতে বাধ্য হচ্ছেন কারখানার মালিকরা। ফলে এমনিতেই বস্ত্র খাতে বিপর্যয় নেমে এসেছে। নতুন করে গ্যাসের দর বাড়লে খরচ বাড়বে আরও ৩৩ টাকা বা ৩৯ সেন্ট। তখন কী পরিস্থিতি হতে পারে, তা কল্পনাও করা সম্ভব নয়।

বিকেএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনসুর আহমেদ বলেন, মজুরি বাড়ানোর পর গ্যাসের দর ১৩২ শতাংশ বাড়ানো হলে রপ্তানি ও কর্মসংস্থানে মহামারি নেমে আসবে। গ্যাসের বাড়তি দাম পরিশোধ করতে গিয়ে শিল্পের প্রবৃদ্ধি ও বিকাশ রুদ্ধ হবে। ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে বস্ত্র ও পোশাক খাতে।

বক্তারা বলেন, মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশ আসে বস্ত্র ও পোশাক খাত থেকে। প্রায় ৪৫ লাখ শ্রমিকসহ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৩ কোটি মানুষ এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। এসব বিবেচনায় পোশাক ও বস্ত্র খাতকে গ্যাসের বর্ধিত মূল্য থেকে অব্যাহতি দিতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত