গরমের আধিপত্য শুরু হয়ে গেছে। ঘরে কিংবা বাইরে গরমে হাঁসফাঁস জনজীবন। এর হাত থেকে রেহাই পেতে ফ্যানের কদর আকাশচুম্বী। গরম এলেই দোকানে নানারকম ফ্যানের সমারোহ দেখা যায়। আর ক্রেতা-বিক্রেতার ব্যস্ততা। বাজারে সিলিং ফ্যান, টেবিল ফ্যান ছাড়াও ইদানীংকালে চার্জার ফ্যানেরও চাহিদা রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলেও নিরবচ্ছিন্ন বাতাস সরবরাহ করে থাকে এসব ফ্যান। এককালের তিন পাখার ফ্যানেও এসেছে পরিবর্তন। এখন দুই পাখা কিংবা চার পাখারও ফ্যান পাওয়া যায়। রং ও নকশায়ও এসেছে আমূল পরিবর্তন।
টেবিল ফ্যান : ঘরের মেঝে বা টেবিলে স্থাপন করার জন্যই টেবিল ফ্যান ব্যবহার করা হয়। নির্দিষ্ট একটি জায়গা ঠান্ডা রাখার জন্য জনপ্রিয়।
উইন্ডো ফ্যান : বাইরে থেকে ঠান্ডা বাতাস ঘরে আনার কাজে ব্যবহার হয়। এসব ফ্যান সাধারণত দেয়ালের সঙ্গে লাগানো থাকে।
প্যাডাস্ট্রাল ফ্যান : এই ফ্যানগুলো আকারে টেবিল ফ্যানের মতো বড়। উচ্চতা বাড়ানো বা কমানো যায়। বাতাসের গতিও সাধারণ টেবিল ফ্যানের চেয়ে বেশি।
ওয়াল মাউন্ট ফ্যান : এই ধরনের ফ্যানগুলোও দেয়ালে লাগানো হয়। নির্দিষ্ট একটি জায়গায় বাতাস দেওয়ার জন্য ব্যবহার হয়।
ফ্লোর ফ্যান : গুদাম ঘর, অফিস, এমনকি বাসায়ও বড় পরিসরে বাতাস সরবরাহের জন্য এই ফ্যান ব্যবহার করা হয়।
টাওয়ার ফ্যান : এই ফ্যানের ধরন অনেকটা প্যাডাস্ট্রাল ফ্যানের মতোই, তবে শব্দ হয় না। বাতাসও হয় প্রচুর।
সিলিং ফ্যান : বাসা বা অফিসের বহুল ব্যবহৃত ফ্যান হলো সিলিং ফ্যান। এটার মাধ্যমে পুরো ঘরেই বাতাস সরবরাহ করা যায়।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফ্যান : দীর্ঘস্থায়ী ধাতব দিয়ে এই ধরনের ফ্যান তৈরি হয়। বাতাসও বেশি, সঙ্গে শব্দটা হয় প্রকট।
এগজস্ট ফ্যান : বাথরুম বা রান্নাঘরের ভেতরের বাতাস বাইরে বের করার জন্য এই ধরনের ফ্যান ব্যবহার করা হয়। অনেক সময় বিভিন্ন গুদাম ঘরে এই সব ফ্যান ব্যবহার হয়ে থাকে।
ফ্যানের দরদাম
সিলিং ফ্যানই বেশি বিক্রি হয়। জানালেন গুলশানের কামাল ইলেকট্রনিক্সের ফরিদ মিয়া।
তিনি আরও জানালেন, ‘বিআরবির অ্যালুমিনিয়াম ৫৬ ইঞ্চি দুই হাজার ৫০০, প্যারাডাইস দুই হাজার ৯০০, সুপারস্টার দুই হাজার ৭৫০, ক্লিক দুই হাজার ৮০০, পাকিস্তানি পাক ফ্যান তিন মডেলের দাম তিন হাজার ৮০০, চার হাজার ৩০০ আর চার হাজার ৬০০ টাকা, ভারতীয় খইতান চার হাজা থেকে শুরু।’
এছাড়া প্রাণ-আরএফএলের ভিশনের সিলিং ফ্যান বিক্রি হচ্ছে মডেলভেদে দুই হাজার ৫০০, দুই হাজার ৬০০ ও দুই হাজার ৭০০ টাকায়। ন্যাশনাল ফ্যানের দুটি মডেল আছে। একটি দুই হাজার ৪৫০, আরেকটি দুই হাজার ৮০০ টাকা। তুফান নামের সিলিং ফ্যান বিক্রি দুই হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার ৭০০ টাকার মধ্যে। স্ট্যান্ড ফ্যানের দামও সিলিং ফ্যানের কাছাকাছি। সুপারস্টারের প্যাডেল স্টার দুই হাজার ৮০০, প্যাডেল স্টার রিমোর্টসহ তিন হাজার ২০০ থেকে তিন হাজার ৫০০, সুপারস্টার সাধারণ স্ট্যান্ড তিন হাজার ৫০০ ও চার হাজার ৩০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। পাক স্ট্যান্ড ফ্যান চার হাজার থেকে ছয় হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এশিয়া তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে। হ্যাভেলস সাড়ে তিন হাজার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। ভিক্টর-থ্রি লেগের দাম ছয় হাজার থেকে শুরু করে সাত হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
ডিফেন্ডারের দাম দেড় হাজার থেকে এক হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে। টেবিল ফ্যান ব্র্যান্ড এভারনালের দাম দুই হাজার টাকার ওপরে। সুপারস্টারের টেবিল ফ্যানের দামও একই রকম। পাক টেবিল ফ্যানের দাম তিন হাজার টাকার ওপরে। সুপারমুন ব্র্যান্ডের টেবিল ফ্যান দেড় হাজার থেকে শুরু করে আড়াই হাজারের মধ্যে। ভিশনের কয়েকটি মডেলের টেবিল ফ্যান আছে দাম এক হাজার ৭০০, এক হাজার ৯০০ ও দুই হাজার ৩০০ টাকা।
দেশে নির্মিত কম নামি অনেক ব্র্যান্ডের টেবিল ফ্যানও রয়েছে। দাম এক হাজার টাকা থেকে শুরু। রিচার্জেবল ফ্যানের মানভেদে দামে পার্থক্য রয়েছে। এশিয়া ব্র্যান্ডের দাম হাজার টাকা থেকে শুরু। আছে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। সুপারমুনের দাম ৯০০ থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে। সুপারস্টারের এক হাজার ৮০০ টাকা, ডিলাক্সের দেড় হাজার টাকা, ভিশনের চার্জার ফ্যানের দাম দুই হাজার ৫০০ টাকা। লাভা ব্র্যান্ডের ফ্যানের দাম এক হাজার ৬০০ টাকা, সানকা রিচার্জেবল ফ্যান চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।