চীনের উহানের যে পরীক্ষাগার থেকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছিল বলে মনে করা হয়, সেখানে অর্থায়ন করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা অ্যান্থনি ফাউসি। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের বিদায়ী পরিচালক (ডিএনআই) তুলসী গ্যাবার্ড বেশ কিছু নথিপত্র ও অভ্যন্তরীণ বার্তা প্রকাশ করে এ দাবি করেছেন। পাশাপাশি ফাউসির বিরুদ্ধে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তির উৎস-সংক্রান্ত ‘ল্যাব-লিক’ তত্ত্ব ধামাচাপা দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে প্রভাবিত করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তুলসী গ্যাবার্ডের দাবি, করোনাকালে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার ক্যারিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ড. ফাউসি ভাইরাসের গবেষণাগারভিত্তিক উৎস ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে চীনের উহানে পরিচালিত বিতর্কিত ভাইরোলজি গবেষণার তথ্য আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন। বৃহস্পতিবার ডিএনআই পদে শেষ দিন ছিল তুলসী গ্যাবার্ডের। পদছাড়ার আগে এ বিস্ফোরক নথি সামনে আনেন তিনি।
প্রকাশিত নথির বরাতে যুক্তরাষ্ট্রে গোয়েন্দা দপ্তর দাবি করেছে, কোভিড-১৯ মহামারী শুরু হওয়ার আগে ড. অ্যান্থনি ফাউসির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (এনআইএআইডি) চীনের উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে বাদুড়ের করোনা ভাইরাস নিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ‘গেইন-অব-ফাংশন’ (ভাইরাসের সংক্রমণক্ষমতা বাড়ানোর গবেষণা) প্রকল্পের জন্য লাখ লাখ মার্কিন ডলার তহবিল জুগিয়েছিল। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই অনিচ্ছাকৃত ও অনিয়ন্ত্রিত ল্যাব-লিক বা গবেষণাগার থেকেই মূলত বিশ্বজুড়ে মহামারী ছড়িয়ে পড়েছিল, যা লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানির কারণ হয়। নতুন প্রকাশিত শত শত ই-মেইল ও নথির ভিত্তিতে তুলসী গ্যাবার্ড অভিযোগ করেছেন, ড. ফাউসি নিজের বিতর্কিত গবেষণাকে আড়াল করতে মহামারী চলাকালে তিনটি প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন। এর মধ্যে রয়েছেতহবিল সচল রাখা, গোয়েন্দাদের প্রভাবিত করা এবং তথ্য নিয়ন্ত্রণ করা। তবে ফাউসি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে দেওয়া শুনানিতে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছিলেন। তৎকালীন শুনানিতে শপথ নিয়ে ফাউসি দাবি করেছিলেন, মহামারী চলাকালে বা তার আগে-পরে ভাইরাসের গবেষণা নিয়ে সিআইএ, এফবিআই বা ডিআইএর মতো গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।
তুলসী গ্যাবার্ড বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ বছরের পর বছর ধরে মিথ্যা, সেন্সরশিপ ও সত্য গোপনের শিকার হয়েছে। ফাউসির মতো অনির্বাচিত ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত আমলারা নিজেদের অপকর্ম লুকাতে গোয়েন্দা তথ্য ম্যানিপুলেট বা প্রভাবিত করেছেন, কংগ্রেসে মিথ্যা বলেছেন এবং নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছাতে বাধা দিয়েছেন। গ্যাবার্ডের কার্যালয় জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ তথ্য প্রকাশ ও স্বচ্ছতা’ নির্দেশনার অধীনে গত এক বছর ধরে মার্কিন গোয়েন্দা দলগুলো এ নথিগুলো নিয়ে কাজ করছিল। এ প্রক্রিয়ায় বেশ কয়েকজন হুইসেলব্লোয়ার বা তথ্যফাঁসকারী কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিয়েছেন।