ভারতীয় ছবি চালানোর আশ্বাসে প্রেক্ষাগৃহ বন্ধের ঘোষণা স্থগিত

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৯, ০৭:১৬ পিএম

একসময় বাংলাদেশে ১২’শর বেশি সিনেমা হল ছিল । সেখান থেকে হলসংখ্যা কমতে কমতে এখন নেমে এসেছে মাত্র পৌনে দুইশতে। এই হলগুলোরও অবস্থা জরাজীর্ণ। এ বছর বন্ধ হয়ে যেতে পারে আরও কিছু সিনেমা হল। নানা কারণেই সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় অভাব ভালো সিনেমার। সিনেমা হলগুলোর এই নাজুক অবস্থা সচল করতে ব্যবস্থা চেয়েছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি। শুধু ব্যবস্থা চেয়েই ক্ষান্ত নন তারা। দিয়েছিলেন হুমকিও। হল বাঁচাতে সঠিক ব্যবস্থা না হলে বন্ধ করে দেবেন সিনেমা হল। ১২ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে প্রদর্শক সমিতি জানায়, বিদেশি ছবি আমদানির ক্ষেত্রে নীতিমালা সহজ ও দেশীয় ছবি নির্মাণ বাড়ানোর বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ না নিলে ১২ এপ্রিল থেকে দেশের সব প্রেক্ষাগৃহ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি।

এই ঘোষণার এক মাস পার না হতেই আজ বিকেলে দেশ রূপান্তরকে হল বন্ধের ঘোষণা স্থগিত করার কথা জানালেন বাংলাদেশ হল মালিক সমিতির সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ। কী এমন সমঝোতা হলো যে নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো হল মালিক সমিতি?

দেশ রূপান্তরকে হল মালিক সমিতির সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, ‘মন্ত্রী আমাদের সমস্যা চিহ্নিত করেছেন।তিনি হলগুলোর বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। ফলে আমরা হল বন্ধের ঘোষণা আপাতত স্থগিত রেখেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামীকাল জাতীয় চলচ্চিত্র উৎসব। এ উৎসব উপলক্ষে মন্ত্রণালয়ে আমাদের একটা মিটিং ছিল। সেখানেই তথ্যমন্ত্রী আমাদের অবস্থা জানতে চান। তিনি সমস্যাগুলোও চিহ্নিত করেন। সে সময়েই তিনি আমাদের বলেন যদি সিনেমা হল বন্ধ থাকে তাহলে সিনেমাগুলো চলবে কী করে। এটা তো হতে পারে না। তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন ভারতীয় বাংলা ছবিগুলো বাংলাদেশে আনতে যে জটিলতা সেটা তিনি দূর করবেন। ফলে সাফটা চুক্তির মাধ্যমে বাংলা ছবিগুলো মুক্তির এক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা আনতে পারব। শুধু তাই নয়, সীমিত আকারে হিন্দি ছবি আনার ব্যাপারেও তিনি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।’

শিগগিরই তথ্যমন্ত্রী পরিচালক সমিতি ও প্রযোজকদের সঙ্গে বসবেন উল্লেখ করে নওশাদ বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয় আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে, ভারতীয় ছবি আমদানির বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করছেন তাদের সঙ্গেও তিনি বসবেন। তাদের সঙ্গে আলাপ করে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করবেন।’

এদিকে প্রেক্ষাগৃহগুলোকে আরও সরকারি সুবিধা দেওয়ারও অঙ্গীকার করেছেন বলে জানালেন নওশাদ। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয় আমাদের অন্যান্য কিছু সমস্যারও সমাধান করার কথা বলেছেন। এর মধ্যে ইলেকট্রিক বিলের একটা সুবিধা তিনি দেবেন। সিনেমা হলের কনটেন্টের অভাব দূর করারও আশ্বাস দিয়েছেন।’

হল বন্ধের ঘোষণা থেকে নিজেদের একেবারে প্রত্যাহার নয়, শুধু সিদ্ধান্তটি সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে উল্লেখ করে হল মালিকদের এই নেতা বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয় যেহেতু অনুরোধ করেছেন তাই আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছি। তার মানে এই নয় যে, সিদ্ধান্ত থেকে একেবারে সরে এসেছি। আমরা স্ট্রাইক উইথড্র করিনি, স্থগিত রেখেছি মাত্র। মন্ত্রী মহোদয় আমাদের যে আশ্বাসগুলো দিয়েছেন সেসব পূরণ করার জন্য আমরা কিছুটা সময় দিতে চাই। যদি সেগুলো পূরণ না করা হয় তবে আমরা আবারও হল বন্ধের ঘোষণা দেব।’

উল্লেখ্য, এর আগে হল মালিক সমিতি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছিল, দেশে সিনেমা হলের সংখ্যা ১ হাজার ২৩৫ থেমে নেমে ১৭৪ এ এসে দাঁড়িয়েছে। দেশের ছবি নির্মাণের সংখ্যা বছরে ৩৫ থেকে ৪০-এ এসে ঠেকেছে। সিনেমা হলের সঙ্গে জড়িত ৫০ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে আছে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে হল ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল। চলচ্চিত্রের বাজার নষ্ট হচ্ছে। নতুন বিনিয়োগ ও মেধা সম্পন্ন নির্মাতা আসছে না। সিনেমা হলগুলো লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে। যখন থেকে ছবি আমদানি করা হচ্ছে তখন থেকে প্রদর্শক সমিতিকে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, ভালো নির্মাতা আসছেন, দেশের চলচ্চিত্র ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু তা হয়নি। ছবি আমদানি করা হলে পরিচালক-শিল্পীদের রোজগার কমে যাবে এমন অজুহাত দেওয়া হচ্ছে। প্রদর্শক সমিতি এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্যই হল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। সরকার আমলে নেওয়ার আগ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে তারা বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত