কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে দলটির নেতারা বলেছেন, তার প্যারোলে মুক্তি তারা চান না, চাওয়াও হয়নি। গতকাল রবিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট
মিলনায়তনে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে গণ-অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তারা এ কথা বলেন। এ সময় আন্দোলনের মাধ্যমে দলের চেয়ারপারসনকে মুক্ত করার অঙ্গীকারও করেন তারা।
এদিকে পুলিশের মৌখিক অনুমতি নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ওই কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে হল কর্তৃপক্ষের বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, গণ-অনশন কর্মসূচি পালনে পুলিশ মৌখিক অনুমতি দিলেও কর্তৃপক্ষ হল দিতে টালবাহানা করে। আধা ঘণ্টা পরে মিলনায়তন খুলে দেওয়া হয়। বিকেল ৪টায় ফ্রুুটিকা পান করিয়ে তাদের অনশন ভাঙান ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ।
গত মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক দোয়া মাহফিলে এ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়। খালেদা জিয়াকে গত সোমবার পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুর্নীতির মামলায় গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এই নিয়ে কয়েক দফা অনশন কর্মসূচি পালন করল বিএনপি।
সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মূল কথাটি হচ্ছে যে কোনো মূল্যে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। সে জন্য আন্দোলন শুরু করতে হবে। বিএসএমএমইউ হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে ভর্তি করা হলেও তার চিকিৎসা হচ্ছে না। কারণ সরকারি হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণ থাকে সরকারের হাতেই। সেখানে সেভাবেই চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাকে তার পছন্দের বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হবে। ‘আবেদন করলে খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয় সরকার বিবেচনা করবে’ গত শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি কারাবন্দি চেয়ারপারসনের প্যারোলে মুক্তি চায়নি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়াকে সরকার বেশি দিন আটকে রাখতে পারবে না। জনগণ বিএনপির সঙ্গে আছে। শিগগিরই দলকে ঐক্যবদ্ধ করে বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে পারলেই কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত হবে। গণ-অনশনে সংহতি প্রকাশ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর বর বলেন, ঘরে বসে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইলে তা হবে না। রাজপথে নামতে হবে। অনুষ্ঠানে ফ্রন্টের নেতাদের মধ্যে ঐক্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ফ্রন্টের নেতাদের ভুল বোঝার কোনো কারণ নেই। ফ্রন্টের সাত দফার প্রথম দাবি হলো খালেদা জিয়ার মুক্তি।
গণ-অনশনে সংহতি প্রকাশ করে আরও বক্তব্য দেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, ২০ দলীয় জোট নেতা কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মাদ ইবরাহিম প্রমুখ। বিএনপি নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম প্রমুখ।
