নারী শিশু নির্যাতন আইনের ধারা সংশোধনের নির্দেশ

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৯, ০৩:৩৭ এএম

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে যৌতুকের জন্য সাজাসংক্রান্ত ১১ (গ) ধারা সংশোধন করে আপসযোগ্য করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদেশের ছয় মাসের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। আর এই ধারা সংশোধন করার সময়টুকুতে যেসব যৌতুকের মামলা আদালতে উঠবে, সেসব মামলা আপসযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করতে সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যৌতুকের এক মামলায় তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি সাইফুল ইসলামের করা ফৌজদারি বিবিধ আবেদন গতকাল বুধবার নিষ্পত্তি করে এবং তার বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতের দেওয়া রায় বাতিল করে এ আদেশ দেয় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

২০১২ সালের আগস্টে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাইফুলের বিরুদ্ধে এ মামলা করেছিলেন তার স্ত্রী লাভলী আক্তার। হাইকোর্টে লাভলী আক্তারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী হাসান মাহমুদ খান। সাইফুল ইসলামের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সামিউল হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ।

যৌতুকের জন্য সাধারণ জখম করার মামলায় সাজা হিসেবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১ (গ) ধারায় বলা আছে, ‘এ অভিযোগে আসামিকে অনধিক তিন বছর ও ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে।’ সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, বিদ্যমান আইনে এই মামলাটি আপসযোগ্য নয়।

আইনজীবীরা জানান, লাভলী আক্তার ও সাইফুল ইসলাম কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর বাসিন্দা। যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগ এনে ২০১২ সালের ২৩ আগস্ট চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন লাভলী আক্তার। বাদীর অভিযোগ, চট্টগ্রামে নাসিরাবাদে তার বাবার বাসায় সাইফুল ওই বছরের ১৩ জানুয়ারি, ৯ ও ১৩ এপ্রিল এবং ৭ জুলাই তাকে যৌতুকের জন্য মারধর করে এবং পেটে লাথি দিয়ে তার গর্ভপাত ঘটায়। ওই সময় সাইফুল নৌবাহিনীর নাবিক হিসেবে খুলনার খালিশপুরে কর্মরত ছিলেন।

সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ২০১৪ সালের ৭ জুলাই আসামি সাইফুলের অনুপস্থিতিতে তাকে তিন বছর কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয় চট্টগ্রামের বিচারিক আদালত। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর ২০১৬ সালের ৬ জানুয়ারি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন সাইফুল। আদালত তার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়। একপর্যায়ে জামিনে বেরিয়ে লাভলীর সঙ্গে সংসার শুরু করেন তিনি। এদিকে সময়মতো আপিল করতে না পারায় সাজা থেকে খালাস চেয়ে নিয়ম অনুযায়ী ২০১৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে ফৌজদারি বিবিধ আবেদন করেন সাইফুল।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ দেশ রূপান্তরকে জানান, গতকাল এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। এর আগে উভয় পক্ষকে আদালত তলব করে। স্বামী, স্ত্রী তাদের আড়াই মাস বয়সী সন্তান নিয়ে আদালতে আসেন। হাইকোর্ট উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনে সাইফুলকে অব্যাহতি দিয়ে মামলাটি নিষ্পত্তি করে দেন।

তিনি বলেন, ‘নারী ও শিশু আইনের এই ধারাটি আপস অযোগ্য। তাই এই ধারায় মামলা হলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আপসের যে সুযোগ থাকে, তা নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে মিল হলেও মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকতে হয়।’

ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ বলেন, ‘আইনের এই ধারাটি ছয় মাসের মধ্যে সংশোধন করে এটি যাতে আপসযোগ্য করা হয়, হাইকোর্ট সে বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি যেসব ট্রাইব্যুনালে এ ধরনের মামলা রয়েছে, আইন সংশোধনের আগে সেগুলো আপসযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করতে বিচারিক আদালতগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত