রোহিঙ্গা ভোটার ঠেকাতে ৩২ উপজেলায় ইসির কমিটি

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ০২:৪১ এএম

ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যরা যাতে ভোটার হতে না পারে সেজন্য ৩২টি উপজেলায় বিশেষ কমিটি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বাধীন এই কমিটির সুপারিশ ছাড়া এসব উপজেলার কাউকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার ইসি সচিবালয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২৩ এপ্রিল থেকে শুরু হবে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ। সভা শেষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সচিবালয়ের মিডিয়া সেন্টারে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘৩২ উপজেলায় রোহিঙ্গা রয়েছে। এসব এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির সুপারিশ ছাড়া কাউকে ভোটার    তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। বিদেশি নাগরিক ও রোহিঙ্গারা যাতে ভোটার হতে না পারে সেজন্য যথেষ্ট সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘১০ আঙুলের ছাপ ও আইরিশের ছবি নিয়ে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যেহেতু আমরা ১০ আঙুলের ছাপ এবং চোখের আইরিশের ছবি নিচ্ছি, সেহেতু আমরা চেষ্টা করব স্মার্ট কার্ড দেওয়ার। আমরা স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীদের অগ্রিম তথ্য সংগ্রহ করব, যাতে তাদের ১৮ বছর পূর্ণ হলে তারা অটোমেটিকভাবে ভোটার হয়ে যেতে পারে। মহিলারা যাতে তথ্য সংগ্রহ এবং রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন, সেজন্য মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে আমরা সুপারিশ করেছি।’

ইসি সচিব বলেন, ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে অনুরোধ করা হবে যেন আগামী শুক্রবার থেকে মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের ভোটার তালিকা সম্পর্কে অবহিত করে। কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা ছাত্রছাত্রী আছে তাদের ভোটার করতে আগ্রহী করতে হবে। অনেক মহিলা ছবি তুলতে চান না। এটার ব্যাপারে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে অবহিত করেছি, যাতে তাদের প্রচারণামূলক সভা করে জানান যে, ছবি তুললে কোনো ক্ষতি হবে না। স্থানীয় পর্যায়ে যারা চেয়ারম্যান, মেম্বার, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর আছেন তারা যাতে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করেন। এজন্য আমরা স্থানীয় সরকার বিভাগকে অনুরোধ করেছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাদের জন্য আলাদা ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হবে। তারা আগের আইডি বাদ দিতে চাইলে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে হিজড়া সার্টিফিকেট আনলে সংশোধনের সুযোগ পাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কঠোরভাবে নির্দেশনা দিয়েছি, আমাদের কর্মীরা যেন বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। তারা যেন এক স্থানে বসে বসে সেটা না করেন। তাদের অবশ্যই সবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।’ সচিব বলেন, ‘মাননীয় আদালত কর্র্তৃক যে সমস্ত উপজেলার নির্বাচন বন্ধ ছিল সেখানে মে মাসের ৫ তারিখ নির্বাচন হবে। অনিয়মের কারণে যেগুলো বন্ধ হয়েছে সেগুলো আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত