এটিএম শামসুজ্জামানের মৃত্যুর গুজব

আপডেট : ০৮ মে ২০১৯, ১২:২৩ এএম

সোমবার না ফেরার দেশে পাড়ি জমান কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দী। আর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গুঞ্জন উঠে আরেক কিংবদন্তি অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানের মৃত্যুর খবর। চারদিকে বেশ হই চই পড়ে যায় তার মৃত্যুর গুঞ্জনে। তবে এ বিষয়ে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। অপরদিকে এটিএম শামমুজ্জামানের প্রকৃত তথ্য তার পরিবারের পক্ষ থেকেও পাওয়া যাচ্ছে না। এটিএম শামসুজ্জামানের ব্যাপারে মুখ খুলছে না তার পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও।

এটিএম শামসুজ্জামানের ছোট ভাই শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের পরিচালক আলহাজ সালেহ জামান সেলিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। অপরদিকে কোনো তথ্য দিতে রাজি হয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও।

উল্লেখ্য, শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বরেণ্য অভিনয় শিল্পী এটিএম শামসুজ্জামান। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় আবার তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। ৩ মে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি হাসপাতাল থেকে বাসায় নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছিল পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু তিন দিন ভালো থাকার পর আবার অবস্থার অবনতি ঘটেছে। এ টি এমের ভাই সালেহ জামান সোমবার বলেন, ‘শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ঠিকমতো অক্সিজেন নিতে পারছেন না। জানি না ভাগ্যে কী আছে।’ ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে অধ্যাপক ডা. রাকিব উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে চলছে এই গুণী অভিনেতার চিকিৎসা।

অবশেষে রাত সাড়ে ১২টার দিকে এটিএম শামসুজ্জামানের ছোট ভাই সালেহ জামান সেলিম জানান, ‘ভাইকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। গুজবে কান দিবেন না। সবাই দোয়া করবেন।'

এটিএম শামসুজ্জামান ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তিনি জীবনের দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন পুরান ঢাকার দেবেন্দ্রেনাথ দাস লেনে। ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর বিষকন্যা চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে সিনেমায় পা রাখেন। প্রথম কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেন ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রের জন্য। ছবির পরিচালক ছিলেন নারায়ণ ঘোষ মিতা। এ ছবির মাধ্যমেই অভিনেতা ফারুকের চলচ্চিত্রে অভিষেক। এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনি লিখেছেন।

অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র পর্দায় আগমন ১৯৬৫ সালের দিকে। ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনা আসেন তিনি। ১৯৮৭ সালে কাজী হায়াত পরিচালিত ‘দায়ী কে’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। এরপর রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘চোরাবালি’তে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব-চরিত্রের অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত