পদ চাইনি, পদে বসিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৮ মে ২০১৯, ০২:৫০ এএম

আওয়ামী লীগের প্রতি দেশের জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখিয়ে দেশকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার রাজনীতি ছাত্রজীবন থেকেই শুরু। তবে কখনো কোনো বড় পোস্টে ছিলাম না, বড় পোস্ট চাইওনি কখনো। যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির একজন সদস্য ছিলাম। আমরা কখনো পদ নিয়ে চিন্তা করিনি, পদ আমরা চাইওনি। আমরা পদ সৃষ্টি করা এবং সবাইকে পদে বসানো এই দায়িত্বটাই পালন করতাম।

‘শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার গণভবনে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে আসা দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও সংগ্রামের কথা স্মরণ করে তার কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, আমরা রাজনীতির কাজ করে যেতাম আব্বার আদর্শ নিয়ে। তিনি বছরের পর বছর জেল খেটেছেন। আমরা দুটো বছরও আব্বাকে একসাথে জেলের বাইরে পাইনি। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত ও চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে আমাদের যেতে হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে কখনো হা-হুতাশ ছিল না। আমাদের মা খুব দৃঢ়চেতা ছিলেন। আমার বাবার অবর্তমানে মা পার্টিও চালাতেন। মামলা-মোকাদ্দমাও চালাতেন। সবই করতেন তিনি। সংসারও দেখতেন। বক্তব্যের শুরুতে দেশের মাটিতে ফেরার ঘটনা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, সেদিন প্রচন্ড ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষের ঢল নেমেছিল। বিমানবন্দর থেকে ট্রাকে করে সংসদ ভবনের সামনে আসতে প্রায় চার ঘণ্টা লেগেছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, ওই বছর তার অনুপস্থিতিতে তাকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। অনেক বাধাবিপত্তি থাকলেও দায়িত্ব ৎনেওয়ার জন্য তিনি দেশে এসেছেন। তারপর অনেক সময় পার হয়েছে।

একপর্যায়ে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা দলের সভানেত্রী হিসেবে ৩৮ বছর এটা ৎবোধ হয় একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে।’ তখন উপস্থিত নেতাকর্মীরা সমস্বরে বলে ওঠেন, না। তখন তাদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, আমার মনে হয় আপনাদেরও সময় এসেছে, তাছাড়া বয়সও হয়েছে। এ বিষয়গুলো তো দেখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ২১ বছর পর দল ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতায় গেলে কী করব তার প্রস্তুতি ছিল বলেই পাঁচ বছরের মধ্যেই দেশের মানুষের মধ্যে একটা আস্থা তৈরি করতে পেরেছিলাম। ক্ষমতায় থেকেও মানুষের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছি এটাও কিন্তু বিশাল অর্জন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, নেতাকর্মীদের কাছে এইটুকু চাইবÑ এই আস্থা-বিশ্বাস যেন আমরা ধরে রাখতে পারি। ব্যক্তিগত জীবনে কী পেলাম, না পেলাম সে চিন্তা যেন করি। দেশের মানুষের জন্য কতটুকু করতে পারলাম, কতটুকু দিতে পারলাম সেটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় কথা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত