ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে অসংগতি

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

আপডেট : ২৩ মে ২০১৯, ০৩:০৩ এএম

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ শেষে হত্যার ঘটনার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে অসংগতি থাকায় বিষয়টি তদন্ত করে পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. শাহ মুজাহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ আদেশ দেয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

গত ৭ মে ওই সিভিল সার্জনকে তলব করে এ বিষয়ে গতকাল ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। গতকাল তিনি আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওই সিভিল সার্জন হাইকোর্টের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও আদালত আবেদনটি গ্রহণ করেনি। আদালত আদেশে সিভিল সার্জন ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী চিকিৎসক ডা. মো. রেজাউর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছে।’

মামলার বরাতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, গত বছরের ৮ আগস্ট রাঙ্গাবালীতে সপ্তম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। একই বছরের ২৪ অক্টোবর পটুয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার আবেদন করলে আদালত সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে এটিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে আদেশ দেয়। মামলায় আসামি করা হয় সাতজনকে। পরে মামলার অন্যতম আসামি দানেশ চৌকিদার জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেন। হলফনামায় আসামিপক্ষ মামলার নথির সঙ্গে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনও হাইকোর্টে দাখিল করে। গত ৭ মে আসামির জামিন শুনানির সময় ওই প্রতিবেদনে অসঙ্গতির বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। সেখানে মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যুর বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পায় আদালত। একপর্যায়ে আদালত এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে পটুয়াখালীর সিভিল সার্জনকে তলব করে। গতকাল আসামি দানেশ চৌকিদারের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত