দূতকে ‘হত্যা’ কিমের

আপডেট : ৩১ মে ২০১৯, ১১:১৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যর্থ বৈঠকের পর শাস্তির অংশ হিসেবে পরমাণু কর্মসূচি-বিষয়ক দূতের ‘মৃতুদণ্ড কার্যকর করেছে’ উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের প্রশাসন। গত মার্চে এ সাজা দেওয়া হয় বলে গতকাল শুক্রবার জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সংবাদপত্র। তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি-বিষয়ক দূত কিম হিয়োক চোল ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চার নির্বাহী রয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে জানা একটি সূত্রের বরাত দিয়ে খবরটি ছাপে চোসান ইলবো নামের দক্ষিণ কোরিয়ার ওই সংবাদপত্র। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়। ওই সূত্রকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য ভালোভাবে না বুঝে সমঝোতা আলোচনা নিয়ে “দুর্বল প্রতিবেদন দেওয়ায়” তার (চোল) বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে গুপ্তরচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়।’

পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিতীয় বৈঠকে বসে যুক্তরাষ্ট্র। এতে উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণভাবে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের তাগিদ দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানায়। দুই পক্ষে এ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই কাক্সিক্ষত সময়ের আগে হঠাৎ আলোচনার টেবিল ছাড়েন ট্রাম্প।

ওই বৈঠকে ব্যর্থতার জেরে দূতকে হত্যা নিয়ে করা প্রতিবেদনটি স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিবেদনটির সত্যতা নিশ্চিত করার মতো কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ মন্ত্রণালয়ের এক নারী মুখপাত্র এ নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। দেশটির প্রেসিডেন্টের দপ্তর ব্লু হাউজের এক কর্মকর্তার ভাষ্য, যাচাই না করে কোনো বিষয়ে মন্তব্য করা অনুচিত। কূটনৈতিক একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, অকার্যকর বৈঠকের জেরে কিম হিয়োক চোলসহ অন্য কর্মকর্তাদের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে পুনঃশিক্ষাকেন্দ্রে পাঠানোর আলামত পাওয়া গেছে। কিন্তু তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে বলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

চোসান ইলবোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কিম জং উনের ডান হাত ও ভিয়েতনাম বৈঠকের আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সমমর্যাদার কিম ইয়ং চোলকেও চীনের সীমান্তবর্তী জাগাং প্রদেশে পুনঃশিক্ষা ক্যাম্প ও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভিয়েতনামে বৈঠকের পর থেকে কিম ইয়ং চোলের সঙ্গে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের জনসমক্ষে দেখা যায়নি। অথচ ইতিপূর্বে পেছনের সারিতে থাকা মৌসুমি কূটনীতিকরা সামনে এসেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো সন হুই। গত এপ্রিলে দক্ষিণ কোরিয়ার এক আইনপ্রণেতা রয়টার্সকে বলেছিলেন, যুদ্ধংদেহী সাবেক শীর্ষ চর কিম ইয়ং চোলকে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ থেকে সরানো হয়েছে।

হ্যানয়ে শীর্ষ সম্মেলনের কয়েক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণুবিষয়ক দূত স্টিফেন বাইগুনের সঙ্গে কার্যকর আলোচনা করতে নিয়োগ দেওয়া কিম হিয়োক চোলকে উদীয়মান তারকা হিসেবে ভাবা হচ্ছিল। কিন্তু ভিয়েতনামের আলোচনার দায়িত্ব পালনে তার কতটা যোগ্যতা ছিল, সে বিষয়ে কমই জানা গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত