কাদের সিদ্দিকীর সুরাহা হয়নি ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে

আপডেট : ১১ জুন ২০১৯, ০৩:৫৪ এএম

সিদ্ধান্ত ছাড়াই দীর্ঘ দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষ করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির নেতারা। কাদের সিদ্দিকীর আলটিমেটামের বিষয়টি এজেন্ডায় থাকলেও বৈঠকে তার কোনো সুরাহা হয়নি। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে ফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের উপস্থিতিতে পূর্ণাঙ্গ সভা করে আলোচনা করা হবে। সে পর্যন্ত সময় দিতে রাজি হয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

গতকাল সোমবার বৈঠক শেষে দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন ফ্রন্টের একাধিক নেতা। বৈঠক শেষে কাদের সিদ্দিকী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি আলটিমেটাম দিয়েছিলাম। এরই মধ্যে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে আমার। আশা করি শিগগিরই আবারও বৈঠকে বসব। ড. কামালের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার পরই আমি আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাব। আমি যে আলটিমেটাম দিয়েছিলাম সে বিষয়ে অটল আছি।’

বৈঠকে অংশ না নিলেও রাতে মান্না দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ফ্রন্টের সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নেওয়ার ব্যাখা দিতে হবে। আমিও কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে একমত। তবে এক বৈঠকে এর সুরাহা হবে না।’   

ফ্রন্টের নেতারা বলেন, বৈঠকের শুরুতে কাদের সিদ্দিকী ফ্রন্টের সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নেওয়ার বিষয়ে ব্যাখা চান। তখন তাকে ড. কামাল হোসেনের অসুস্থতার কথা জানিয়ে বলা হয়, ড. কামাল সুস্থ হয়ে পরবর্তী বৈঠকে অংশ নিলে তখন এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এতে কাদের সিদ্দিকী রাজি হন।

সর্বশেষ গত ২৪ এপ্রিল মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের আইনি চেম্বারে বৈঠক করেন স্টিয়ারিং কমিটির নেতারা। এর দেড় মাস পর বৈঠক করলেন তারা। বৈঠকে যোগ দেননি ফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন এবং নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। যোগ না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে মান্না দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকায় আমি বৈঠকে যোগ দিতে পারিনি। তবে দলের প্রতিনিধি পাঠিয়েছি।’ ড. কামাল অসুস্থতার কারণে বৈঠকে অংশ নেননি।

ফ্রন্টের পরিধি বাড়বেÑ আ স ম রব : বৈঠক শেষে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পরিধি বাড়বে। সরকারের বিরুদ্ধে প্রবল আন্দোলন গড়ে তুলতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে আগামী সভা করব। এই আন্দোলনের রূপ হবে বৃহত্তর ঐক্য। ঐক্যফ্রন্টকে আরও বিস্তৃত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে জাতির কাছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠাসহ রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন করাÑ এই প্রতিশ্রুতিতে নির্বাচনে গিয়েছিলাম। এটা এখনো আদায় করতে পারিনি। আদায় না করা পর্যন্ত আন্দোলন ও ঐক্য অব্যাহত থাকবে।’

রাষ্ট্রীয়ভাবে ভোট ডাকাতি হয়েছে অভিযোগ করে রব বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আপনাদের প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু এর উত্তর আজকে আমরা দেব না। আমাদের নেতা ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করার পর আপনাদের মাধ্যমে জনগণের উত্তর দেব।’ সাংবাদিকদের উদ্দেশে রব বলেন, ‘আপনারা জনগণের অংশ, আমাদের অংশ। আশা করি, পজিটিভ নিউজ করবেন। যা করলে জনগণের ক্ষতি না হয়।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া কারাগারে। তার হাসপাতালে বোমা পাওয়া গেছে। তার জীবন হুমকির মুখে। হাজার হাজার কর্মী কারাগারে। তাদের কারাগারে রেখে আমরা ঘুমাতে পারি না। খালেদা জিয়াসহ সরকারবিরোধী সব নেতাকর্মীকে কারামুক্ত না করা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

বৈঠকে অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব ও ফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, দলটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, নাগরিক ঐক্যের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. জাহিদুর রহমান, নাগরিক ঐক্যের নেতা মমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত