মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি না করার শপথ ব্যবসায়ীদের

আপডেট : ২৫ জুন ২০১৯, ০৩:১৫ এএম

ওষুধ ব্যবসায়ীরা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি না করার শপথ নিয়েছেন। আগামী ২ জুলাইয়ের মধ্যে যেসব কোম্পানি ফার্মেসি থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ফেরত না নেবে, সেই কোম্পানিকে বর্জন করবেন ব্যবসায়ীরা। এমনকি যদি কোনো ব্যবসায়ী এসব বেআইনি কাজের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তবে তার প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির কেন্দ্রীয় পরিষদের এক মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ীরা এ শপথ নেন। সভায় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। সভায় ৫ শতাধিক ওষুধ ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন। বংশালের ইংলিশ রোডের ফজলুল করিম কমিউনিটি সেন্টারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ওষুধ ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার ওষুধের র‌্যাক চেক করুন যে মেয়াদ শেষ হওয়ার কোনো ওষুধ আছে কি না? অভিযানে দুই বছর আগের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গেছে ফার্মেসিতে। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ছয় মাস আগে ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করুন। অথবা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ওষুধগুলো একটি বড় বাক্সে রেখে বাক্সের ওপর লাল কালি দিয়ে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ’ ও ‘বিক্রির জন্য নয়’ লিখে রাখুন এবং এমন জায়গায় রাখুন যাতে সবাই দেখতে পায়।

মহাপরিচালক বলেন, এই অনৈতিক কাজ থেকে সরে আসতে হবে। শুধু ওপর থেকে নির্দেশনা দিলেই হবে না। প্রয়োজনে ফার্মেসির মালিক ও ফার্মাসিস্টদের প্রশিক্ষণ দেব। আইনের ব্যত্যয় ঘটলে ব্যবস্থা নেব।

৯৩ শতাংশ দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করছে ভোক্তা অধিকারের এমন তথ্য সত্য নয় বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রগিস্ট সমিতির সভাপতি মো. সাদেকুর রহমান। তিনি বলেন, শত ভাগ দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ থাকবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু সেটা বিক্রি হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে। আজকের পর থেকে কোনো দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ কোনো ওষুধ রাখা হবে না। যদি ২ জুলাইয়ের মধ্যে কোনো কোম্পানি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ফেরত না নেয় তাহলে আমরা সেসব কোম্পানিকে বর্জন করব। চোর হয়ে আমরা আর ব্যবসা করতে পারব না।

এই ওষুধ ব্যবসায়ী নেতা ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, অনেক ব্যবসায়ী ওষুধের লেবেল পরিবর্তন করে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করেন। যদি কোনো ব্যবসায়ী এসব বেআইনি কাজের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তবে তার প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে। এখন থেকে শুধু ভোক্তা অধিকার বা ঔষধ প্রশাসন নয়, ড্রাগ সমিতিও অভিযান পরিচালনা করবে।

সাদেকুর রহমান বলেন, অনেক সময় চিকিৎসকরা আনরেজিস্টার্ড ওষুধ প্রেসক্রাইব করেন। রোগীর অনুরোধের কারণে আমাদের সেসব ওষুধ আনতে হয়। ভবিষ্যতে চিকিৎসকদের আপনারা এসব আনরেজিস্টার্ড ওষুধ প্রেসক্রাইব করা বন্ধ করতে বলবেন। তাদের জন্যই আজকাল সাধারণ মানুষ আমাদের চোর বলছে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুর মো. শাহরিয়ার ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ফার্মেসিতে কিছুতেই মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা যাবে না। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের ক্ষেত্রে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন আছে। আইনের ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-। আমরা যদি সেই আইন প্রয়োগ করি তাহলে কী অবস্থা হবে আপনারাই ভেবে দেখুন।

সভা চলাকালে হঠাৎ দাঁড়িয়ে মিটফোর্ডের ওষুধ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উদ্দেশে বলেন, মিটফোর্ডে র‌্যাবের অভিযান চাই না। আমাদের নিয়ন্ত্রণে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর রয়েছে। তারা এবং আমাদের সমিতির লোকজন অভিযান চালাবে। সিদ্দিকুল্লাহ নামের অরেক ব্যবসায়ী বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের জন্য কোনো ফার্মেসি মালিক দায়ী নন। দায়ী ওষুধ কোম্পানি। কারণ তারা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ফেরত নিতে চায় না। অথচ মামলা হয় আমাদের নামে। এ সময় ব্যবসায়ীরা সভায় ওষুধ কোম্পানির কোনো প্রতিনিধি নেই কেনÑজানতে চাইলে কোনো উত্তর দেননি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

সভায় ব্যবসায়ীরা আটটি দাবি উত্থাপন করেন। সেগুলো হচ্ছে ফার্মেসি সার্টিফিকেট রেজিস্ট্রেশন কোর্স চালু, ড্রাগ লাইসেন্সের মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করা, ফিজিশিয়ান স্যাম্পল উৎপাদন বন্ধ করা, লাইসেন্সবিহীন দোকানদারকে লাইসেন্স দেওয়া, ফুড সাপ্লিমেন্ট প্রেসক্রিপশন না করা, যেকোনো বাহিনীর অভিযানে স্থানীয় এবং সমিতির কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাখা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত