সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আদালতে অজ্ঞান নুসরাতের মা

আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৯, ০১:২২ এএম

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার আলোচিত মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আদালতে অচেতন হয়ে পড়েন তার মা শিরিনা আক্তার। গতকাল বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে সাক্ষ্য ও জেরার শেষ পর্যায়ে এসে তিনি প্রথমে উত্তেজিত হয়ে কাঁপতে থাকেন। এক পর্যায়ে অচেতন হয়ে এজলাস কক্ষের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। পরে আদালতে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় স্বজনরা শিরিনা আক্তারকে ফেনী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নিয়ে যান। তাকে বর্তমানে সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

শিরিনা আক্তারের ছেলে মাহমুদুল হাসান নোমান এবং নুসরাত হত্যা মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু দেশ রূপান্তরকে জানান, বুধবার মামলার ১২ নম্বর সাক্ষী নুসরাতের মা শিরিনা আক্তারের সাক্ষ্য ও জেরার দিন ধার্য ছিল। এদিন বেলা সোয়া ১১টায় তিনি সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাক্ষ্য শেষ হলে তাকে জেরা করা শুরু করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু, কামরুল হাসান, মাহফুজুল হক, ফরিদ উদ্দিন খান নয়ন, নুরুল ইসলাম এবং আহসান কবির বেঙ্গলসহ কয়েক আইনজীবী। একটানা জেরা চলার এক পর্যায়ে দুপর আড়াইটার দিকে উত্তেজিত হয়ে কাঁপতে শুরু করেন শিরিনা। এরই এক পর্যায়ে অচেতন হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এ সময় ছেলে নোমান এবং বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজুসহ সেখানে থাকা কয়েক স্বজন তাকে ধরাধরি করে নিচে নিয়ে আসেন। পরে সোনাগাজী থানা পুলিশ এবং আদালত পুলিশের সহযোগিতায় এক আইনজীবীর গাড়িতে করে ফেনী সদরের রাজাঝির দীঘির পাড়ের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের ফেনী শাখার জরুরি বিভাগে নেওয়া হয় শিরিনা আক্তারকে। সেখানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

শিরিনা আক্তারের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে হাসপাতালটির জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন গতকাল বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তিনি (শিরিনা) অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। অতিরিক্ত উত্তেজিত হওয়ার ফলে এমনটা হতে পারে। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কিছু সময়ের মধ্যেই তার জ্ঞান ফিরে আসে। তিনি সুস্থ আছেন।’

আইনজীবী শাহজাহান সাজু বলেন, ‘তিনি আগে থেকেই কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। কথা বলতে কষ্ট হচ্ছিল। তাই বিচারক তাকে সাক্ষীর ডকে দাঁড় না করিয়ে নিজের কাছাকাছি একটি স্থানে বসান এবং অত্যন্ত যতেœর সঙ্গে তার সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। কিন্তু আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে কয়েকজনের কিছু প্রশ্নে তিনি উত্তেজিত ও অসুস্থ হয়ে পড়েন।’

এদিকে খবর পেয়ে নুসরাতের মাকে দেখতে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে ছুটে যান জেলার পুলিশ সুপার খন্দকার নুরুন্নবী। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘তাকে (শিরিনা) প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তিনি এখন সুস্থ আছেন। অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও ডায়াবেটিকস সুগার নিল হওয়ায় তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান।’

গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে সিরাজ-উদ-দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত