সেমিনারে দুদক চেয়ারম্যান

‘চুনোপুঁটিদের’ দুর্নীতির কারণে ৮০% মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৯, ০২:০২ এএম

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, চুনোপুঁটিদের দুর্নীতির কারণে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। তাই তাদের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) আয়োজিত ‘দুর্নীতি দমনে আইনজীবী ও বিচার বিভাগের

ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের সাধারণ মানুষ যারা গ্রামে বাস করে তারাই দুর্নীতি, হয়রানি কিংবা অনিয়মের শিকার সবচেয়ে বেশি। এসব দুর্নীতিতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালী, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারের মতো সাধারণ ব্যক্তিরা জড়িত থাকেন। অনেকের ভাষায় এরা ‘চুনোপুঁটি’। এদের দুর্নীতির কারণে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এসব মানুষের কল্যাণে চুনোপুঁটিদের অপরাধ আমলে নিতে হয় এবং সেটা অব্যাহত রাখা হবে। তবে এ কথা দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, শুধু চুনোপুঁটি নয়, রাঘব-বোয়ালদের অপরাধ আমলে আনা হচ্ছে এবং আরও আনা হবে।’

ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘অনেকেই বলেন সরকারদলীয় মন্ত্রী-এমপিদের কিছু করা হয় না। আমার জানা মতে, আন্ডার প্রসিকিউশন, আন্ডার ইনভেস্টিগেশনের নামে ইনকোয়ারিতে ক্ষমতাসীন দলের অনেক ব্যক্তিও রয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেবল সবার সমন্বিত উদ্যোগেই দুর্নীতি প্রতিরোধ, দমন ও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। আর এজন্য প্রয়োজন দুর্নীতিবিরোধী তীব্র সামাজিক আন্দোলন।’

দুদকের কাজে আইনজীবী ও সাংবাদিকসহ সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রত্যাশা করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি সবসময়ই গঠনমূলক সমালোচনাকে সাধুবাদ জানাই। আলোচনা হোক, সমালোচনা হোক, তবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ যেন প্রকাশিত হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু বলেন, ‘দুর্নীতিপরায়ণদের সাজা নিশ্চিত করা গেলেই সমাজে এই বার্তা পৌঁছে যাবে যে, দুর্নীতি করলে রক্ষা নেই।’ ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম বলেন, ‘আইন দিয়ে দুর্নীতি বন্ধ করা কঠিন, এর সঙ্গে সমাজের নৈতিক মূল্যবোধের বিষয়াদি জড়িত।’

সভাপতির বক্তব্যে এইচআরপিবির প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘দুদক চেয়ারম্যানের একটি বক্তব্য সঠিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। আমি নিজে এ সংক্রান্ত একাধিক ভিডিও ফুটেজ দেখেছি। কোথাও বলা হয়নি ‘সরল বিশ্বাসে দুর্নীতি করা অপরাধ নয়’। এমনকি বক্তব্যে দুর্নীতি শব্দটিই উচ্চারণ করা হয়নি। তারপরও কেন বিষয়টি প্রচার হলো, আই হ্যাভ নো আইডিয়া। যারা এনেছেন সেটা তাদের দায়, দুদক চেয়ারম্যানের দায় নেই মোটেও। দায়বদ্ধতা সবারই থাকা উচিত।’ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার এম এস আজিম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত