দোষীদের শাস্তির সুপারিশ স্থায়ী কমিটির
ভাড়া নেওয়ার সময় অসম চুক্তির কারণে মিসর থেকে আনা দুটি এয়ারক্রাফটের একটি ফেরত পাঠাতেই পাওনা পরিশোধসহ বিমানের খরচ হয়েছে ৪ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৪ কোটি টাকারও বেশি। অন্য উড়োজাহাজটিও ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বিমানের ‘গলার কাঁটা’ হিসেবে পরিচিত এয়ারক্রাফট দুটির অসম চুক্তির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ও দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনতে মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
গতকাল রবিবার সংসদ ভবনে এ স্থায়ী কমিটির পঞ্চম বৈঠক হয়। বৈঠকে বিমান জানায়, এয়ারক্রাফটটি ফেরত পাঠানোয় মাসে প্রায় ৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। কিন্তু কমিটি বিমানের এ বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়নি। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, পরবর্তী সময়ে বিমান বড় কোনো চুক্তি করলে বা কোনো কিছু
কিনলে কমিটিকে তা জানাতে হবে। এছাড়া বিগত ১০ বছরে বিমানের কী কী যন্ত্রাংশ কেনা হয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে কমিটি।
বিমান কর্মকর্তারা জানান, ২০১৪ সালের মার্চে ইজিপ্ট এয়ার থেকে পাঁচ বছরের চুক্তিতে দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর ভাড়া নেওয়া হয়। এর একটি বিমানের বহরে যুক্ত হয় একই বছরের মার্চে এবং অন্যটি একই বছরের মে মাসে। ১১ মাস অর্থাৎ ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনার পর একটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। উড়োজাহাজটি সচল করতে ইজিপ্ট এয়ার থেকেই ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন। দেড় বছরের মাথায় নষ্ট হয় ওই ইঞ্জিনটিও। উড়োজাহাজটি সচল রাখতে ইজিপ্ট এয়ার থেকে আবারও ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অজুহাতে গ্রাউন্ডেড থাকে উড়োজাহাজ দুটি। গত ডিসেম্বরে নষ্ট হয় শেষ দফায় ভাড়ায় আনা ইঞ্জিনটিও। পরে ইঞ্জিনটি মেরামত করতে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এদিকে ভাড়ার ১১ কোটি টাকা করে প্রতি মাসে গুনতে হয়েছে বিমানকে। এর মধ্যে একটি গত ১৬ জুলাই ফেরত পাঠিয়েছে বিমান।
বৈঠকে বিমান জানায়, মুজিববর্ষ উপলক্ষে ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রত্যেক মাসের ১৭ তারিখ অনলাইনে টিকিট কেনার ক্ষেত্রে প্রথম ১৭ জনকে ১৭ শতাংশ মূল্যছাড় দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পর্যটন শিল্পকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করতে একটি বিস্তর কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে কমিটি। অন্যদিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতকে আরও দৃষ্টিনন্দন করতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সভাপতিত্বে কমিটি সদস্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, মো. আসলামুল হক, তানভীর ইমাম, আনোয়ার হোসেন খান, সৈয়দা রুবিনা আক্তার বৈঠকে অংশ নেন।
